ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

গোমতীর চরে হাত দিতেই বেরিয়ে আসছে আলু: বন্যার পর বাম্পার ফলন

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

চালু চাষে ব্যস্ত কৃষক

 

গোমতী নদীর ভান্তির চর, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় গড়ে উঠেছে এক অভিনব দৃশ্য। এবছর বন্যার পর চরের কৃষিজমিতে পলি জমার ফলে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। নারীরা নরম মাটিতে হাত দিয়ে আলতোভাবে আলু তুলছেন, এবং সাদা রঙের আলু বেরিয়ে আসছে। এই দৃশ্য পুরো চরে এখন দৃশ্যমান, আর কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে ভাল ফলনের কারণে।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের মতে, গত আগস্টে ভয়াবহ বন্যার ফলে গোমতী নদীর চরের জমিতে পলি জমে গেছে, যা আলুর ফলন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়েছে। ভান্তির চরের আলু তোলার কাজ বেশ জমজমাট, যেখানে নারী ও পুরুষরা দলে দলে আলু তুলে বস্তায় ভরছে এবং সেগুলো কাঁধে করে সড়কে নিয়ে যাচ্ছে বিক্রির জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক আলু ও মিষ্টিকুমড়া একই জমিতে চাষ করছেন। তবে আলু তুলতে গিয়ে কুমড়ার গাছ নষ্ট করা হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকরা এই মৌসুমে আলু তোলার কাজে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন। মিরপুর গ্রামের শাহজাহান জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে চুক্তিতে আলু তোলার কাজ করছেন এবং এবার আলুর আকার তুলনামূলক বড় এবং দেখতেও ভালো।

এছাড়া, গোমতী নদীর আমতলী চরেও আলু চাষ বেশ জনপ্রিয়। এখানে আলুর ফলন আশপাশের অন্যান্য চরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি কানি জমির আলু ও মিষ্টিকুমড়া চুক্তিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আলুর বীজের দামও বেশি ছিল, তবে কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুমিল্লা জেলার ১০ হাজার ২৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে তেমন কোনো সহায়তা না পেলেও, কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এভাবে আলু চাষের এই সফলতার পেছনে বন্যার প্রভাবে জমিতে জমা হওয়া পলি এবং কৃষকদের পরিশ্রমী কাজের সম্মিলনে গোমতীর চরের আলু এখন বাজারে এক জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফসল হিসেবে পরিচিত।

অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

গোমতীর চরে হাত দিতেই বেরিয়ে আসছে আলু: বন্যার পর বাম্পার ফলন

আপডেট সময় ০৪:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

 

গোমতী নদীর ভান্তির চর, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় গড়ে উঠেছে এক অভিনব দৃশ্য। এবছর বন্যার পর চরের কৃষিজমিতে পলি জমার ফলে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। নারীরা নরম মাটিতে হাত দিয়ে আলতোভাবে আলু তুলছেন, এবং সাদা রঙের আলু বেরিয়ে আসছে। এই দৃশ্য পুরো চরে এখন দৃশ্যমান, আর কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে ভাল ফলনের কারণে।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের মতে, গত আগস্টে ভয়াবহ বন্যার ফলে গোমতী নদীর চরের জমিতে পলি জমে গেছে, যা আলুর ফলন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়েছে। ভান্তির চরের আলু তোলার কাজ বেশ জমজমাট, যেখানে নারী ও পুরুষরা দলে দলে আলু তুলে বস্তায় ভরছে এবং সেগুলো কাঁধে করে সড়কে নিয়ে যাচ্ছে বিক্রির জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক আলু ও মিষ্টিকুমড়া একই জমিতে চাষ করছেন। তবে আলু তুলতে গিয়ে কুমড়ার গাছ নষ্ট করা হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকরা এই মৌসুমে আলু তোলার কাজে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন। মিরপুর গ্রামের শাহজাহান জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে চুক্তিতে আলু তোলার কাজ করছেন এবং এবার আলুর আকার তুলনামূলক বড় এবং দেখতেও ভালো।

এছাড়া, গোমতী নদীর আমতলী চরেও আলু চাষ বেশ জনপ্রিয়। এখানে আলুর ফলন আশপাশের অন্যান্য চরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি কানি জমির আলু ও মিষ্টিকুমড়া চুক্তিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আলুর বীজের দামও বেশি ছিল, তবে কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুমিল্লা জেলার ১০ হাজার ২৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে তেমন কোনো সহায়তা না পেলেও, কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এভাবে আলু চাষের এই সফলতার পেছনে বন্যার প্রভাবে জমিতে জমা হওয়া পলি এবং কৃষকদের পরিশ্রমী কাজের সম্মিলনে গোমতীর চরের আলু এখন বাজারে এক জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফসল হিসেবে পরিচিত।