গোমতীর চরে হাত দিতেই বেরিয়ে আসছে আলু: বন্যার পর বাম্পার ফলন

চালু চাষে ব্যস্ত কৃষক

 

গোমতী নদীর ভান্তির চর, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় গড়ে উঠেছে এক অভিনব দৃশ্য। এবছর বন্যার পর চরের কৃষিজমিতে পলি জমার ফলে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। নারীরা নরম মাটিতে হাত দিয়ে আলতোভাবে আলু তুলছেন, এবং সাদা রঙের আলু বেরিয়ে আসছে। এই দৃশ্য পুরো চরে এখন দৃশ্যমান, আর কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে ভাল ফলনের কারণে।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের মতে, গত আগস্টে ভয়াবহ বন্যার ফলে গোমতী নদীর চরের জমিতে পলি জমে গেছে, যা আলুর ফলন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়েছে। ভান্তির চরের আলু তোলার কাজ বেশ জমজমাট, যেখানে নারী ও পুরুষরা দলে দলে আলু তুলে বস্তায় ভরছে এবং সেগুলো কাঁধে করে সড়কে নিয়ে যাচ্ছে বিক্রির জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক আলু ও মিষ্টিকুমড়া একই জমিতে চাষ করছেন। তবে আলু তুলতে গিয়ে কুমড়ার গাছ নষ্ট করা হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকরা এই মৌসুমে আলু তোলার কাজে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন। মিরপুর গ্রামের শাহজাহান জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে চুক্তিতে আলু তোলার কাজ করছেন এবং এবার আলুর আকার তুলনামূলক বড় এবং দেখতেও ভালো।

এছাড়া, গোমতী নদীর আমতলী চরেও আলু চাষ বেশ জনপ্রিয়। এখানে আলুর ফলন আশপাশের অন্যান্য চরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি কানি জমির আলু ও মিষ্টিকুমড়া চুক্তিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আলুর বীজের দামও বেশি ছিল, তবে কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুমিল্লা জেলার ১০ হাজার ২৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে তেমন কোনো সহায়তা না পেলেও, কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এভাবে আলু চাষের এই সফলতার পেছনে বন্যার প্রভাবে জমিতে জমা হওয়া পলি এবং কৃষকদের পরিশ্রমী কাজের সম্মিলনে গোমতীর চরের আলু এখন বাজারে এক জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফসল হিসেবে পরিচিত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *