আসিয়া আফরিন চৌধুরী বাংলাদেশে চলতি শীতকাল ও ঘন কুয়াশার কারণে রবি শস্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার কারণে বিভিন্ন শাক-সবজি, আলু, বোরো ধান এবং আমের মুকুলের উপর গুরুতর প্রভাব পড়ছে। কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে শাক-সবজি, আলু, সরিষা, টমেটো ও বোরো ধানের বীজতলায় রোগের প্রভাব বাড়ছে, যা ফলনকে সংকটে ফেলতে পারে।
আলুর ক্ষেতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগ ও বোরো ধানের বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে, যার ফলে গাছের পাতা ও কাণ্ড পচে যাচ্ছে। আম ও বরই গাছেও কুয়াশার কারণে অ্যানথ্রাক্স ও পাউডারি মিলভিউ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে কৃষকরা আরও বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা আগামী দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কৃষকদের এসব সমস্যা মোকাবেলায় পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাদেরকে কেমিক্যাল স্প্রে করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়া, কৃষকদের মধ্যে বোরো ধানের চারা ও আলু উৎপাদনে সংকটের আশঙ্কা রয়েছে, তাই কৃষকরা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে এবং ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে চেষ্টা করছেন।
এদিকে, চলতি মৌসুমে ৮৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বীজতলা তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এই আবহাওয়ার কারণে বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। কৃষকরা আশা করছেন, যদি শীত ও কুয়াশা বৃদ্ধি না পায়, তবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।
কৃষকদের সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমানোর চেষ্টা চলছে।

কৃষককন্ঠ ডেস্ক 




