নোয়াখালী জেলার ঠান্ডা প্রবাহ এবং শীতের পোশাকের চাহিদা

নোয়াখালীর জেলা জজ আদালত সড়কের পাশে ফুটপাতে শীতের কাপড় সংগ্রহ করতে আসা রিকশাচালক আবদুর রহিম জানান, এই মৌসুমে শীতের প্রস্তুতি ছিল না তাঁর। তীব্র শীত অনুভব করছেন, আর তাই শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘‘শীতের কাপড় নাই। এবার অনো কেউ কম্বল দেয় ন। হোলাহাইনের ঠান্ডা লাগের। তাই টেয়া ধার করি গরম কাপড় কিনতাম আইসি।’’

আজ সকাল থেকে নোয়াখালীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সূর্য ওঠেনি, আর চারপাশে কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। জেলা শহর মাইজদীতে তাপমাত্রা ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শৈত্যপ্রবাহের জন্য তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে হয়, তবে এখানকার শীতের তীব্রতা অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আজকের দিনে, নোয়াখালীর সুপারমার্কেট, হকার্স মার্কেটসহ বেশ কিছু বিপণিবিতানে শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে ফুটপাতে এবং ছোট দোকানগুলিতে তুলনামূলক কম মূল্যে শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে, যার কারণে ক্রেতাদের ভিড় সেখানে বেশি।

শীতের তীব্রতা অনুভব করে, তিন বছরের ছেলে জাহিদকে কোলে নিয়ে হকার্স মার্কেটে এসেছেন সুলতানা আক্তার। তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতে শীত খুব একটা অনুভূত হয়নি, তাই পুরোনো শীতের কাপড় দিয়েই বাচ্চাদের কাজ চালিয়েছেন। তবে এখন শীত অনেক বেশি, আর বাড়ির ভেতরও গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নতুন শীতের কাপড় কিনতে এসে তিনি জানান, এবছর কাপড়ের দাম আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় বাড়তি চাপ পড়ছে।

এদিকে, জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, নোয়াখালী জেলার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কম্বল ইতিমধ্যেই নয়টি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে এগুলি পৌঁছানো হবে।

এভাবে, শীতের তীব্রতা ও শীতবস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে, যা অনেক মানুষকে সহায়তা করবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *