খাগড়াছড়িতে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

বাসস

খাগড়াছড়ি জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষা একটি মধ্যবর্তী ফসল, যার উৎপাদন খরচ কম এবং ভোজ্যতেল হিসেবে এর চাহিদা বাড়ছে, ফলে কৃষকরা এখন সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসলের মাঠে সরিষা ফুলের হলুদ আভা সাড়া ফেলেছে।

এ বছর খাগড়াছড়ি জেলার কৃষকরা সরিষা চাষে বেশ সফলতা অর্জন করেছেন। তারা বলছেন, ধানের তুলনায় সরিষার উৎপাদন খরচ কম এবং লাভও বেশি। সরিষা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে এখানকার পরিবেশও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর খাগড়াছড়িতে ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কৃষকরা বলছেন, প্রণোদনা এবং সহযোগিতা পেলে তারা আরও বেশি জমিতে সরিষা চাষ করবেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী বছর যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে, তবে সরিষা চাষের লক্ষ্য ১ হাজার হেক্টরে পৌঁছাবে। এই বছর ৮ হাজার ৮৮০ টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে, এবং আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুমের মধ্যে ৫০% বেশি জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম বলেন, কৃষকদের জন্য আগামী দিনে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা সরিষার ফুল ও ফল থেকে মধু আহরণ করতে পারেন এবং উৎপাদন বাড়াতে পারেন।

খাগড়াছড়ির কৃষকরা জানিয়েছেন, বোরো চাষের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উদাহরণস্বরূপ, মানিকছড়ি উপজেলার কৃষক আফসার হোসেন বলেন, বোরো চাষের খরচ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা হলেও, সরিষা চাষে খরচ মাত্র ৫ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। একর প্রতি লাভ ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার মতো।

সরিষা চাষের সুবিধা শুধু লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। সরিষার ফুল ও ফল মাটিতে পড়ে গিয়ে মাটির পুষ্টি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা পরবর্তী ফসলের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, সরিষার ফুল মৌমাছিদের জন্য আকর্ষণীয়, যা পরাগায়ন বৃদ্ধি করে এবং ফলনের উন্নতি ঘ

খাগড়াছড়ি জেলার কৃষকরা এখন সরিষা চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় তারা আরও বেশি জমিতে সরিষা চাষ করবেন বলে আশা করছেন। প্রাথমিক ফলন ও লাভের ভিত্তিতে আগামী বছর সরিষার চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খাগড়াছড়ি সরিষা উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *