ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা  নদী দখল ও দূষণে হুমকিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি  আতা ফলের ফল ছিদ্রকারি পোকা: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদার গাছ ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষয়ক্ষতি ও টেকসই সমাধান বাংলাদেশে আতা ফলের আগা মরা রোগ: কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আনারসের হার্ট রট রোগ – কারণ, লক্ষণ ও টেকসই সমাধান আমলকির কান্ড ছিদ্রকারি পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত সমাধান আমলকির গল মাছি – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আমলকির স্কেল পোকা – জীবনচক্র, ক্ষতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অভিযুক্ত সাবেক ইউএন

  • কৃষককন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • ৩২৮ বার পড়া হয়েছে

রনজিৎ সরকার রাজ ,দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলার আশ্রয়ণবাসীদের পক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম মিলন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রথম ধাপে সারাদেশে ১০৪৮টি ঘর পুনর্নির্মাণের মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলা বরাদ্দ পায় ৮৯৮টি ঘর। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা থাকার কথা থাকলেও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে টয়লেট স্থাপন করা হয়নি, নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্লাস্টার উঠে যেতে শুরু করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে বদলি হওয়া ইউএনও ফজলে এলাহী ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি কোনো টেন্ডার ছাড়াই আশ্রয়ণের পুরাতন ঘরের টিন, কাঠ, পিলার বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটি থাকলেও ইউএনও ফজলে এলাহী সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যদের কোনো দায়িত্ব পালন করতে দেননি। তিনি নিজেই যাবতীয় মালামাল ক্রয়সহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।

ভোগডোমা আশ্রয়ণে পুনর্বাসিত জামাল উদ্দিন ও চানমিয়া জানান, ২৮০টি পরিবারের টিনসেট ঘর ভেঙে ২৪৩টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। দলিল থাকা সত্ত্বেও ৩৭টি পরিবারকে ঘর না দিয়ে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। একইভাবে আনসার আলী, সমিরন, আহম্মদ আলী, শাহজাহান ও নুরবানু জানান, ঘরের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে।

তারা আরও জানান, টয়লেটের জন্য রিং-স্লাব আনা হলেও স্থাপন করা হয়নি, ঘরের ভিটার মাটি তাদের নিজেদের টাকায় ভরাট করতে হয়েছে এবং কোনো টিউবওয়েল দেওয়া হয়নি। পুরাতন ঘরের টিন, কাঠ, পিলার স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইউএনও নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

উপজেলার একাধিক অভিজ্ঞ নির্মাণ ঠিকাদার ও সচেতন মহল জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা হতে পারে, অথচ বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। হিসাব অনুযায়ী, ইউএনও ফজলে এলাহী ঘর নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি এবং পুরাতন টিন, কাঠ, পিলার বিক্রির ১ কোটি টাকাসহ মোট ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীংপঙ্কর বর্মন, সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ছানাউল্লাহ ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিবরীল আহমাদ সকলেই ঘটনার ব্যাপারে কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউএনও ফজলে এলাহীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :
অথরের তথ্য

Abrar Khan

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অভিযুক্ত সাবেক ইউএন

আপডেট সময় ০৪:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

রনজিৎ সরকার রাজ ,দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলার আশ্রয়ণবাসীদের পক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম মিলন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রথম ধাপে সারাদেশে ১০৪৮টি ঘর পুনর্নির্মাণের মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলা বরাদ্দ পায় ৮৯৮টি ঘর। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা থাকার কথা থাকলেও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে টয়লেট স্থাপন করা হয়নি, নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্লাস্টার উঠে যেতে শুরু করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে বদলি হওয়া ইউএনও ফজলে এলাহী ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি কোনো টেন্ডার ছাড়াই আশ্রয়ণের পুরাতন ঘরের টিন, কাঠ, পিলার বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটি থাকলেও ইউএনও ফজলে এলাহী সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যদের কোনো দায়িত্ব পালন করতে দেননি। তিনি নিজেই যাবতীয় মালামাল ক্রয়সহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।

ভোগডোমা আশ্রয়ণে পুনর্বাসিত জামাল উদ্দিন ও চানমিয়া জানান, ২৮০টি পরিবারের টিনসেট ঘর ভেঙে ২৪৩টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। দলিল থাকা সত্ত্বেও ৩৭টি পরিবারকে ঘর না দিয়ে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। একইভাবে আনসার আলী, সমিরন, আহম্মদ আলী, শাহজাহান ও নুরবানু জানান, ঘরের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে।

তারা আরও জানান, টয়লেটের জন্য রিং-স্লাব আনা হলেও স্থাপন করা হয়নি, ঘরের ভিটার মাটি তাদের নিজেদের টাকায় ভরাট করতে হয়েছে এবং কোনো টিউবওয়েল দেওয়া হয়নি। পুরাতন ঘরের টিন, কাঠ, পিলার স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইউএনও নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

উপজেলার একাধিক অভিজ্ঞ নির্মাণ ঠিকাদার ও সচেতন মহল জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা হতে পারে, অথচ বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। হিসাব অনুযায়ী, ইউএনও ফজলে এলাহী ঘর নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি এবং পুরাতন টিন, কাঠ, পিলার বিক্রির ১ কোটি টাকাসহ মোট ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীংপঙ্কর বর্মন, সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ছানাউল্লাহ ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিবরীল আহমাদ সকলেই ঘটনার ব্যাপারে কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউএনও ফজলে এলাহীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।