Category: কৃষি ফসল

  • উত্তরের চার জেলায় এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

    উত্তরের চার জেলায় এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

    দেশে মূলত উত্তরের চারটি জেলায় তামাক চাষ হয়। জেলাগুলো হলো লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক সরবরাহ করায় তামাক চাষ বেড়েই চলেছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, রংপুর অঞ্চলের উৎপাদিত তামাকের ৬০ শতাংশ আসে লালমনিরহাট থেকে। এর পরই রয়েছে রংপুর। এই জেলা থেকে আসে ২০ শতাংশ তামাক। নীলফামারীতে ১৫ শতাংশ আর ৫ শতাংশ গাইবান্ধায়। দেশি-বিদেশি কয়েকটি তামাক কোম্পানি এখানে রীতিমতো তামাকের বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলেছে।

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলাকে বলা হয় ‘তামাকের রাজধানী’। উপজেলার টিপারবাজার গ্রামের কৃষক সেজাব আলী গত বছর চার বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছিলেন। তার খরচ হয়েছিল ৮৬ হাজার টাকা। ওই জমিতে উৎপাদিত ৩৩ মণ তামাক বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায়। বাড়তি লাভের আশায় এবার সাত বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন তিনি।

    সেজাব আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ বছর তামাকের দাম আরও বাড়বে। কোম্পানির লোকজন এসে তামাক কিনে নিয়ে যায়। তামাকের বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। এ বছর তামাক দিয়ে মাঠ ভরে গেছে।’

    রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের (৭০) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তিনি গত ৩৯ বছর ধরে তামাক চাষ করছেন। তবে এ বছরের মতো ব্যাপক জমিতে তামাক চাষ আগে কখনো দেখেননি।

    তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর অনেক কৃষক নতুনভাবে তামাক চাষ করেছেন। তামাক কোম্পানি থেকেই বীজ, সার, কীটনাশক ও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। গেল বছর তামাকের বাজারদর বেশি ছিল। তাই এ বছর কৃষকরা তামাক চাষে আরও বেশি ঝুঁকেছেন।’

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই গ্রমের কৃষক প্রবির চন্দ্র বর্মণ (৬৫) বলেন, ‘তামাক জমির উর্বরতা নষ্ট করে। এটি মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর পরও কৃষকরা তামাক চাষে বেশি আগ্রহী। কারণ, অন্য ফসলের তুলনায় তামাকে লাভ বেশি।’

    ‘তামাক কোম্পানিগুলো যেভাবে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে তাতে আগামীতে তামাকের চাষ আরও বাড়বে,’ বলেন তিনি।

    অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যের চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলো অনিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তামাকের চাষ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তামাক কোম্পানিগুলোর অবাধ কার্যক্রমে লাগাম টানতে হবে। কোম্পানি থেকে সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ হলে কৃষকরা তামাক চাষে নিরুৎসাহিত হবেন। এজন্য সরকারের শক্ত পদক্ষেপ দরকার।’

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কৃষকদের কোনোভাবেই তামাক চাষ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। এর জন্য তামাক কোম্পানিগুলো দায়ী। জমির উর্বরতা নষ্ট করছে তামাক। খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

    রংপুর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, এই অঞ্চলে তামাক চাষ বেড়ে যাওয়া নিয়ে তারাও চিন্তিত। সরকারিভাবে তামাক চাষ নিষিদ্ধ না হওয়ায় কৃষি বিভাগ শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছে না। উন্নত দেশগুলো তামাক চাষ বন্ধ করায় বাংলাদেশে এটা বেড়ে গেছে। তামাক কোম্পানিগুলো রংপুর অঞ্চলে আস্তানা গেড়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকের কাছে তামাক অর্থকরী ফসল হলেও এটি মাটি, পরিবেশ ও মানব-স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি কৃষির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।’

    লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করতে কৃষি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • আড়িয়াল বিল: কুমড়ার প্রচুর ফলনেও চাষির আশাভঙ্গ, দাম অনেক কম

    আড়িয়াল বিল: কুমড়ার প্রচুর ফলনেও চাষির আশাভঙ্গ, দাম অনেক কম

    দেশের মধ্যাঞ্চলের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বড় অংশজুড়ে বিস্তৃত আড়িয়াল বিলে এবার কুমড়ার প্রচুর ফলন হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে আশাভঙ্গ হয়েছে চাষির।চাষিরা বলছেন, গত বছরও তারা প্রতি কেজি কুমড়া বিক্রি করেছেন ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। এ বছর তা ১০ থেকে ১২ টাকায় নেমে এসেছে।

    আড়িয়াল বিলের ২৬০ বর্গমাইল এলাকার ১ লাখ ৬৬ হাজার একর জমির পুরোটাই শস্যক্ষেত্র, জলাশয় আর জনবসতি। এখানে এক টুকরা জমিও অনাবাদি নয়। এই বিলের মাটি খুবই উর্বর হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সবজি চাষ করেন কৃষক। এর মধ্যে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষের পরিমাণই বেশি।

    এখন মাঘ মাসের মাঝামাঝি। বিলের পানি শুকিয়েছে বেশ আগেই। বিলের জমিতে কৃষকরা ধান চাষ করেছেন। এখানে রয়েছে ছোট-বড় অনেক পুকুর, খাল। এসব পুকুর ও খালপাড়কে স্থানীয়রা বলেন ডাঙা। এই ডাঙার পাড়েই কৃষকেরা চাষ করেছেন মিষ্টি কুমড়া।

    আড়িয়াল বিলে সাধারণত দুই রকমের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেন কৃষকরা। একটি দেশি, অন্যটি হাইব্রিড। চাষিদের ভাষ্য, দেশি কুমড়া আকারে বেশ বড় হয়। রঙও হয় বেশ সুন্দর। তবে এ জাতের কুমড়া ইঁদুর ও পোকার কারণে বেশি নষ্ট হয়। এ কারণে অনেক কৃষক হাইব্রিড জাতের কুমড়া চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

    এখানকার চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার কুমড়ার ফলন অনেক বেশি। কিন্তু প্রত্যাশিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।মুন্সীগঞ্জের শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের গাদিঘাট এলাকার আবুল কাশেম অন্য অনেকের মতো এবারও মিষ্টি কুমড়া ফলিয়েছেন। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি কুমড়া এবার ১০-১২ টাকার বেশিতে বিক্রি করা যাচ্ছে না। গতবছরই এই কুমড়া বিক্রি করেছি ৩০-৩২ টাকায়। বাজারে অন্য সবজিরও দাম কম।’

    আবুল কাশেম জানান, এ এলাকায় তার মতো হাজারচারেক কৃষক আছেন। তারা অন্য ফসলের পাশাপাশি কুমড়াও ফলান। তাদের সবারও প্রায় একই অবস্থা।

    আরেক চাষি নুরুল হকের সঙ্গে কথা বলে কুমড়ার বীজ লাগানো থেকে শুরু করে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরন সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া গেল। তিনি বলেন, ‘বীজ লাগানোর পর থেকে নিয়মিত পানি-সার দেওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিচর্যার কাজ করতে হয়। পরে পাকা কুমড়া বিলের ডাঙার পাড় থেকে শ্রমিক দিয়ে সংগ্রহ করে ঘাট পর্যন্ত আনতে হয়। এরপর পিকআপ বা ছোট ট্রাকে করে পাঠানো ঢাকার কারওয়ান বাজার ও মিরপুরে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই কাজে প্রতি ট্রাক কুমড়ায় খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো। কিন্তু এবার কুমড়ার দাম এতটাই কমেছে যে উৎপাদন খরচই উঠছে না।

    নুরুল হক বললেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে প্রতি কেজি কুমড়া ৮-১০ টাকায় বিক্রি করতেও বাধ্য হচ্ছি।

    এবা কুমড়া চাষের মৌসুমে সারের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচও বেশি পড়েছে বলে জানান নুরুল হক। বলেন, ‘এবার প্রতি বস্তা সার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে।’

    আবার বিলের ‘ডাঙা’ থেকে কুমড়া তুলে তা ট্রাক কিংবা পিকআপ পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যে শ্রমিকের খরচ সেটাও এবার বাড়তি বলে জানালেন কৃষক কামাল হোসেন। বলেন, ‘শ্রমিকরা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করেন। এই কাজে তাদের ৭০০ টাকা করে দিতে হয়।

    কৃষক ইকবাল হোসেনের হিসাবে, এবার কুমড়া চাষে খরচ বেড়েছে দেড়গুণ। কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে অর্ধেকেরও কম দামে। এবার আর লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা নেই।’

    মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানালেন, এবার মুন্সীগঞ্জে ২২৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। তার দাবি, প্রতি কেজি কুমড়া কৃষকরা বিক্রি করছেন ১৫-২০ টাকায়।

    মুন্সীগঞ্জ কৃষি বিপনন কর্মকর্তা মো. সামির হোসাইন সিয়াম বলেন, ‘কৃষকরা যেন ভালো দাম পান সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি যে কোন কোন জেলায় কুমড়ার চাহিদা বেশি। চাহিদা বেশি থাকলে সেসব জেলায় সরাসরি কুমড়া বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

  • ইউনাইটেড সীড কোম্পানীর আয়োজনে হাইব্রিড তরমুজ লিডার -৭৭৭ মাঠ অনুষ্ঠিত

    ইউনাইটেড সীড কোম্পানীর আয়োজনে হাইব্রিড তরমুজ লিডার -৭৭৭ মাঠ অনুষ্ঠিত

    সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার মনজিলতলা গ্রামের কাকিনা গাই হাওরে ইউনাইটেড সীড কর্তৃক আয়োজিত হাইব্রিড তরমুজ লিডার-৭৭৭ জাতের মাঠ দিবস অনুষ্টিত হয়। উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্টানে প্রায় শতাধিক কৃষক, বীজ বিক্রেতা সহ মাঠ পরিদর্শন শেষে সবাই খুব খুশি। মনজিলাতলা গ্রামের চাষী মো:জয়নাল আবেদীন বলেন, আর আগে তিনি অন্য জাতের তরমুজ চাষ করতেন, এই প্রথম তিনি ইউনাইটেড সীড কোম্পানীর লিডার-৭৭৭ ও ব্ল্যাক টাইগার জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এই দুটো জাতের ফলন দেখে তিনি অত্যান্ত অনেক খুশি। লিডার-৭৭৭ জাত টি বীজ বপনের ৬৫-৭০ দিনে ফসল তোলা যায়, অন্য জাতের চেয়ে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন ১০-১২কেজি পর্যন্ত হয়। উপস্থিত সকল কৃষক আগামীতে লিডার-৭৭৭ জাত চাষ করার আশা প্রকাশ করেন। কোম্পানীর পক্ষ থেকে আর্দশ চাষী কে পুরস্কার প্রদান করা হয়।।

  • নড়াইলে বিষমুক্ত সবজি চাষে রমজানসহ তিন ভাইয়ের সাফল্য

    নড়াইলে বিষমুক্ত সবজি চাষে রমজানসহ তিন ভাইয়ের সাফল্য

    জেলার কালিয়া উপজেলা সদরের ঘোষপাড়ায় বিষমুক্ত সবজি চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগসহ কৃষকরা।

    চাকরির পেছনে না ছুটে তিন ভাই তাদের বাড়ির পাশের ক্ষেতে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার।মাসে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন তারা।

    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়া পৌরসভাধীন ঘোষপাড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রমজান খান (২৬) বিষমুক্ত সবজি চাষ করে কৃষি কাজে চমক দেখিয়েছেন।প্রায় সাত বছর আগে কৃষি খামার গড়ে তোলেন তিনি।প্রথমে শশা চাষাবাদের মধ্যদিয়ে কৃষি কাজে যুক্ত হন রমজান। এ কাজে কোনো অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ না থাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরবর্তীতে মালচিং পদ্ধতিতে শশার পাশাপাশি আগাম জাতের টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর এই কৃষি খামারের সাথে যুক্ত হন রমজানের বড় দুই ভাই  এলাহী খান ও ওয়ায়েস খান। এই কৃষি খামার থেকে এখন খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা।

    রমজান জানান, আগাম জাতের টমেটো  প্রথম দিকে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এছাড়া ‘সাথী ফসল’ হিসেবে টমেটোর পাশাপাশি বাঁধাকপির চাষ করে সাফল্য পেয়েছি।টমেটো ক্ষেতের পাশের দু’টি জমিতে বেগুন ও মরিচ আবাদ করেছি। তিনটি জমি মিলে বর্তমানে ৫০ শতকে সবজি চাষাবাদ করছি। আমাদের সবজি সম্পূর্ন বিষমুক্ত। তাই আমাদের সবজির চাহিদা বেশি। আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির চাষ করে লাভবান হয়েছি। আমাদের ক্ষেতে উৎপাদিত টাটকা সবজিগুলো বাজারে নিলে আগেভাগে বিক্রি হয়ে যায়।আমাদের তিন ভাইয়ের এই কৃষি খামারে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভালো ফলন পেতে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।’কৃষি একটি ভালো বিজনেস’ হিসেবে উল্লেখ করেন সফল কৃষি উদ্যোক্তা রমজান।

    কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে রমজানসহ তাদের তিন ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে গুরুত্বারোপ করা হয়। মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করায় সার ও পানির অপচয় রোধ হয় এবং আগাছাও দূরীভূত হয়। রমজানদের সবজিক্ষেতসহ আরও অনেক ক্ষেতে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষাবাদে কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কালিয়া তথা নড়াইল জেলায় উৎপাদিত সবজি হোক শতভাগ বিষমুক্ত, কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনায় আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদে ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি বেকারত্ব দূর হচ্ছে বলে তিনি জানান।

  • ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা

    ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা

    ৫ বছর আগেও বাণিজ্যিকভাবে ফুল বাগান ছিল না পাবনা জেলায়। এখন কয়েক হেক্টর জমিতে করা হয়েছে বাণিজ্যিক ফুল বাগান। সবজি ও অন্যান্য চাষে দফায় দফায় লোকসানে পড়েন। তবে গোলাপ বাগানে ব্যাপক সফলতা মিলেছে টেবুনিয়ার ভজেন্দ্রপুরের তিন ভাইয়ের। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে এ মাসে ৫ লাখ টাকার গোলাপ বিক্রির আশা তাদের।

    জানা যায়, তিন ভাই খন্দকার শরিফুল আলম রানা, খন্দকার আশরাফুল হক শাহিন ও জাফরুল্লাহ। ভজেন্দ্রপুরে তাদের এ পৈতৃক জমিতে ছিল বাঁশঝাড়। অন্য জমিতে সবজি ও বিভিন্ন চাষাবাদ হতো। কোনোভাবেই নিজেদের ভাগ্য বদল সম্ভব হচ্ছিল না। উল্টো দফায় দফায় সবজি চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে। এ অবস্থায় বড় ভাই শরিফুল আলম রানা গোলাপ বাগান করার পরামর্শ দেন। তিনি ঢাকায় দীর্ঘদিন নার্সারির সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থাকায় বাঁশঝাড় তুলে দিয়ে দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ বাগান করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভারত এবং দেশের যশোর ও সাভারসহ কয়েকটি অঞ্চল থেকে ১০ হাজার চারা এনে রোপণ করা হয়।

    শুরুতেই ভালো উৎপাদন ও দামের কারণে আগ্রহ বাড়ে তিন ভাইয়ের। প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় ব্যাপক লাভ ও সফলতায় বেড়েছে বাগানের পরিসর। দেড় বিঘা জমি থেকে ৪ বিঘার তিনটি বাগানে রূপ নেয়। শুরুতে নিজেরা পরিচর্যা করলেও এখন সারাবছর কমপক্ষে ৫ জন করে শ্রমিক কাজ করেন। বাগানে জুমুলিয়া, বিউটি, ভার্গো ও বমবমসহ ৭ প্রজাতির গোলাপ আছে। এসব ফুল লাল, শেড পিংক, অরেঞ্জ, হলুদ ও সাদা রঙের।

    বাগান দেখভাল ও বিপণনের দায়িত্বে থাকা ইউনুফ জানান, সারাবছরই গোলাপের কম-বেশি চাহিদা থাকে। বছরের সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে দেড় থেকে ২ লাখ টাকার গোলাপ বিক্রি হয়। মাসে খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। নভেম্বরের শেষদিক থেকে গোলাপের চাহিদা বাড়তে থাকে, দামও বাড়ে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গোলাপের চাহিদা ব্যাপক। ফেব্রুয়ারি মাসে অসম্ভব চাহিদা। এজন্য এ মাসকে সামনে রেখে বাগানকে অতিরিক্ত যত্ন ও পরিচর্যাও করতে হয়।

    তিনি জানান, সপ্তাহজুড়ে ১০০ পিস গোলাপের দাম ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে আছে। সামনে ভালোবাসা দিবস। তাই দু’একদিনের মধ্যে এর দাম বেড়ে প্রতি ১০০ পিস গোলাপ সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এদিক থেকে এ মাসে ৪-৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন।

  • নওগাঁয় গাজরের অধিক ফলন

    এবার একটানা ঘনকুয়াশা ও দীর্ঘমেয়াদী শৈত্যপ্রবাহ না থাকা এবং উন্নতমানের বীজের কারনে গাজরের অধিক ফলন হয়েছে উত্তরের জেলা নওগাঁয়।

    তবে জেলার মধ্যে গাজর চাষ হয় সবচেয়ে বেশি মান্দা উপজেলায়। পরিশ্রম ও খরচ কম, উৎপাদন বেশি এবং ভালো দাম পাওয়ায় নওগাঁয় গাজর চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে মান্দা উপজেলায় প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে গাজরের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিলকরিল্যা, কুসুম্বা, বাদলঘাটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এ ফসলের চাষ বেশি হয়ে থাকে। এ উপজেলা থেকে অন্তত ৭২ হাজার মণ গাজর উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

    উপজেলার বিলকরিল্যা গ্রামের কৃষক হানিফ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, এবারে আমি ১৫ বিঘা জমিতে গাজরের চাষ করেছি। হাল চাষ, সার, বীজ, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি উৎপাদন হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ মণ। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় আমার ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে।

    কুশুম্বা গ্রামের গাজর চাষী নিজাম উদ্দিন বলেন, গত বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। সেই আশা থেকে এ বছর বাড়তি ৯ বিঘাসহ মোট ১৫ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছেন। হাল চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে বিঘাতে খরচ পড়ে ১৪-১৬ হাজার টাকা। বিঘাতে ফলন হয় ১১০ মণ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত। মৌসুমের শুরুতে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়। সে হিসেবে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ টাকা থেকে ৬৪০ টাকা। বর্তমানে সবাই উত্তোলন করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে দাম সামান্য কমেছে। বর্তমানে ১৪-১৬ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খরচ বাদে বিঘাতে লাভ থাকে ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা।

    বিলকরিল্যা গ্রামের কৃষক আবুল বাশার বলেন, প্রতিবারের মতো এবারেও গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ৯টি মেশিনের সাহায্যে গাজর পরিষ্কারের কাজ চলছে। এজন্য একমণ গাজরে দিতে হচ্ছে ২৫ টাকা করে। প্রতিদিন এসব পয়েন্টে অন্তত ২ হাজার মণ গাজর প্রসেসিং করা হয়। এরপর ট্রাকে করে নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

    কুশুম্বা গ্রামের কৃষক ইছাহাক আলী মণ্ডল বলেন, আশপাশের জমিতে অনেকে আলু ও সরিষার আবাদ করেছে। তবে গতানুগতিক সেসব ফসল চাষ না করে গাজরের আবাদ করা হয়। কারন একই ফসল চাষ করলে বাজারে নেয়া হলে দাম কম পাওয়া যায়। এতে লাভের তুলনায় লোকসান হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই আমরা গাজর চাষ করেছি।

    মান্দার গাজর ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, সরাসরি জমি থেকে গাজর সংগ্রহ করা হয়। আবার কৃষকরা বাজারে নিয়ে গিয়েও বিক্রি করেন। এসব গাজর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। প্রতিদিন এ এলাকা থেকে অন্তত ৫ লাখ টাকার গাজর বেচাকেনা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাসস’কে বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারনে এবার গাজরের  অথিক ফলন হয়েছে। উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দামও বেশ ভালো। জেলায় এ বছর ২৭০ হেক্টর জমিতে গাজরের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে ১৫ মেট্রিক টন। এবার মান্দা উপজেলা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার গাজর বিক্রির সম্ভাবনা করছেন কৃষিবিভাগ।

     

  • নাটোরে মটরশুটির অধিক ফলন

    নাটোরে মটরশুটির অধিক ফলন

    আর্থিক মূল্য এবং জমির উর্বরতা শক্তির সুফল প্রাপ্তির কারণে জেলার কৃষকরা মটরশুটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিগত বছরগুলোতে জেলায় আবাদী জমি ও উৎপাদন-উভয়ই বেড়েছে। চলতি বছর জেলায় প্রায় শত কোটি টাকার মটরশুটি উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৭৯ হেক্টর, সদর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর, লালপুরে ২১০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ১১৬ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ১১২ হেক্টর এবং গুরুদাসপুর উপজেলায় ১০ হেক্টর।

    কৃষি বিভাগ আশা করছে, ১০৭৭ হেক্টর জমি থেকে ১৩ হাজার টন মটরশুটি উৎপাদন হবে- মণ প্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা গড় হিসাবে যার আর্থিক মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। বিগত বছরে জেলায় এক হাজার ২২ হেক্টর জমি থেকে ১২ হাজার  টন মটরশুটি উৎপাদন হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আবাদী জমি ও উৎপাদন ক্রমশ বেড়েছে।

    মূলত অক্টোবর মাসে জমি চাষ করে মটরশুটির বীজ বপন করা হয়। বিঘা প্রতি ১২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। জমিতে শুধুমাত্র টিএসপি ও পটাশ সারের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত্রবিশেষ অনুখাদ্য এবং গোড়াপঁচা ও পোকারোধী কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। তবে সেচের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুটি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

    সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার কৃষক চাঁন মিয়া তার আড়াই বিঘা জমিতে মটরশুটি আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দু’দফায় গাছ থেকে মটরশুটি পেয়েছেন প্রায় ৫০ মণ। তৃতীয় দফায় আরও ১৫ মণ মটরশুটি পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

    দেড় বিঘা জমিতে মটরশুটি চাষকারী ফতেঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, মটরশুটি উঠলে ঐ জমিতে পাট চাষ করবো। মটরশুটি গাছের ডালপালা ও শেঁকর মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তাই পরের ফসলে সার কম লাগে।

    নাটোরের হয়বতপুর, দত্তপাড়া এবং ছাতনী বটতলা হাটে মৌসুমী সবজির সাথে প্রতিদিন শত শত মন মটরশুটি বিপণন হয়। নাটোর ছাড়াও ঢাকার ব্যবসায়ীরা নাটোরের মটরশুটির ক্রেতা। দত্তপাড়া হাটে মটরশুটি বিক্রী করতে আসা বড়হরিশপুর এলাকার কৃষক হযরত আলী জানান, ১২ মণ মটরশুটি বিক্রী করেছেন ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। মৌসুমের শুরুতে এই দর দ্বিগুণেরও বেশী ছিল বলে তিনি জানান।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, মটরশুটির শেঁকর ইউরিয়ার ফ্যাক্টরি হিসেবে কাজ করে। তাই মটরশুটির জমি ইউরিয়া সার তো প্রয়োজন হয় না, পরবর্তী ফসল চাষাবাদে ঐ জমিতে ২০ ভাগ ইউরিয়া কম ব্যবহার করলেই চলে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাসস’কে বলেন, মটরশুটির শেঁকড় ইউরিয়া সারের উৎস হিসেবে কাজ করে। ফলে মটরশুটির আবাদী জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করতে হয়না। এছাড়া মটরশুটির জমিতে পরবর্ত্তী ফসলেও ইউরিয়ার ব্যবহার করতে হয়না বললেই চলে। উৎপাদন খরচ কম, অধিক মূল্য প্রাপ্তি ছাড়াও জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে মটরশুটি চাষের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হন। তাই কৃষকরা মটরশুটি চাষে ঝুঁকেছেন। মাটির গুনাগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসলের উচ্চমূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা মটরশুটি চাষে ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে মটরশুটি এই এলাকার অন্যতম অর্থকরি ফসলে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

     

  • সিলেট জেলার অপার সম্ভাবনার ফসল হাইব্রিড ক্যাপসিকাম

    সিলেট জেলার অপার সম্ভাবনার ফসল হাইব্রিড ক্যাপসিকাম

    সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে হাইব্রিড ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। বিগত ২-৩ বছর ধরে কৃষকগন ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

    তবে, বিগত কয়েক আগেও এই হাইব্রিড ক্যাপসিকাম মরিচ গুলো বিদেশ থেকে আমদানী করে চাহিদা মিটানো হতো। আমদানীর কারন ছিল, দেশে ভালো মানের হাইব্রিড ক্যাপসিকামের বীজ বাজারে ছিলো না। বিধায়- তাই কৃষকগন নিজেরা এই ক্যাপসিকাম গুলো চাইলেও নিজেরা চাষ করতে পারতেন না। বিগত ৩-৪ বছর ধরে ইউনাইটেড সীড কোম্পানী হাইব্রিড ক্যাপসিকাম বীজ বাজারজাত শুরু করেন।

    বিশ্বনাথ উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক মো: ময়েন উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এই বছর তিনি প্রায় ১.৫ বিঘা জমিতে ইউনাইটেড সীডের হাইব্রিড ক্যাপসিকাম পাওয়ার, চয়েজ, মারিয়া, ব্যানানা এই জাত গুলো চাষ করেছেন। এই জাত গুলো চাষের কারন হিসাবে বলেন জাতগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, আগাম ফলন প্রদান করে ও ফলের সাইজ গড় ৩০০-৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে, ফলন অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিন ফলন দেয়। তাই তিনি কৃষকদের ভালো বীজ ব্যবহার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। অধিক ফলনে ভালো বীজের বিকল্প নেই। এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছেন ৭০-৮০হাজার টাকা। ফসল সংগ্রহ শুরুতে বাজার মূল্য প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ১১০-১২০ টাকা দামে পাইকারি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারছেন। এই রকম বাজার থাকলে আশা করা ২.৫-৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। ক্যাপসিকাম চাষ করে এই জমি থেকে ১.৫ – ২ লক্ষ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে, ক্যাপসিকাম চাষ অন্য ফসলের চেয়ে লাভজনক।।

    ক্যাপসিকাম গুনাগুন: ক্যাপসিকাম মরিচে মানবদেহের উপকারী সম্পূর্ন অনেক ধরনের উপকারী ভিটামিন বিদ্যমান রয়েছে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ত্বকের কোষ মেরামত করে এবং চুলের গ্রোথে সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং সেরোটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দূর করতে সহায়ক। যা মানব দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খাবারে এই জাতীয় ক্যাপসিকাম মরিচের চাহিদা রয়েছে। রাজধানীসহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন জেলার শহরের রেস্টুরেন্টে গুলোতে ক্যাপসিকাম ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে।

    এলাকার অন্যান্য চাষীদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায় যে, যদি সরকারীভাবে ক্যাপসিকাম রপ্তানী করার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। বাজার মূল্য ভালো পেলে আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে হাইব্রিড ক্যাপসিকাম চাষ করতে চাষীগন আগ্রহ প্রকাশ করেন।।। এই উচ্চ মূল্যের ফসল চাষের সরকারের সহযোগীতা ও সুনজর কামনা করেন।।

    উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, তাঁরা কৃষকদের কে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহযোগিতা ও ভালো বীজের ব্যবহার, বিভিন্ন বালাই দমনে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং সেই সাথে ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করছেন।।

  • সিলেটে আগাম তরমুজের বাম্পার ফলনে লাভবান কৃষক

    সিলেটে আগাম তরমুজের বাম্পার ফলনে লাভবান কৃষক

    সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট জেলার হাওর বেষ্টিত জেলা যেখান চা, ধান, টমেটো চাষে ছিল সীমাবদ্ধ। তবে এখন আর কৃষকগন এইসকল ফসলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে, বালু, পাথরের কোয়ারী বন্ধ থাকার ফলপ্রসূতীতে বেকার ছিল হাজার হাজার শ্রমিকগন। এই হাওরের জমি গুলোতে শুধু মাত্র ধান চাষ ব্যতীত কোন চাষাবাদ হতো না। এখন তরমুজ চাষে কৃষকগন আগ্রহী হচ্ছেন।

    তাঁরা অনেক দু:খ কস্টে জীবনা-যাপন করতেন। সেই দু:খ-কস্ট লাঘবে তারা শুরু করেন পতীত জমিতে তরমুজ চাষ।। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলার প্রায় ৭০০-৭৫০ হেক্টর জমিতে এই বার তরমুজ চাষ হয়েছে। এই তরমুজ চাষে কারনে এলাকায় সার-বীজ ও বালাইনাশক ব্যবসা বানিজ্যর প্রসারের পাশাপাশি ও অনেক শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হয়েছে।।

    মনজিলতলা গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করতেছি তবে এই বছর তরমুজ চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারবো – ইনশাআল্লাহ, তবে সার ও বালাইনাশক দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে কৃষকগন সংকিত। কারন এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে সার, বীজ, বালাইনাশক ও সেচ মিলিয়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। সবচেয়ে চাষীদের বড় সমস্যা হচ্ছে, সেচ ব্যবস্থা।। কারন এই এলাকা গুলোতে সেচ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অনেক দূর থেকে পানি এনে তরমুজ সেচ দিতে হয়ে, যা অনেক কস্ট সাধ্য ও ব্যয় বহুল।। যদি সরকারীভাবে কৃষকদের জন্য সেচ ব্যবস্থা করত তাহলে কৃষকগন অনেক উপকৃত হতো পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষে আগ্রহী হতো।।।

    সেচ সমস্যার পর থেমে নেই কৃষকগন, তারা নিজ উদ্দোগ্যে সেচের ব্যবস্থা করে। বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে প্রতিটি তরমুজ ১৫০-২২০ টাকা পিস হিসাবে পাইকারী করতে পারছেন। সকল খরচে বাদে কৃষকগন বিঘা প্রতি ১-১.৫ লক্ষ টাকা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্য মতে, উপজেলা কৃষি থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য উপসহকারী কর্মকর্তাগন কৃষকদের সহায়তা প্রদান করছেন এবং সেচ ব্যবস্থা জন্য চাষীদের কে বিএডিসি সেচ প্রকল্প অধিদপ্তরে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ করেন।।

  • জাকিউরের বাগানে সারা বছরই আম পাওয়া যায়

    জাকিউরের বাগানে সারা বছরই আম পাওয়া যায়

    আমগাছের একটি ডালে ফুটেছে মুকুল। সেখানে ভিড় করেছে মৌমাছি। ওই গাছেরই আরেক ডালে ঝুলছে আম। হালকা সবুজ রঙের প্রতিটি আমের ওজন গড়ে ৩৫-১০০ গ্রাম। মে–সেপ্টেম্বর মাস আমের মৌসুম হিসেবে পরিচিত। তবে এই বাগানে সারা বছরই আম পাওয়া যায়। অসময়ে আসা এই জাতের আমের নাম ‘কাটিমন’। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে এই আম বাজারে বিক্রি করা যাবে।

    আমবাগানটির দেখা মিলবে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার পূর্ববর্ষা গ্রামে। বাগানমালিকের নাম জাকিউর আলম ওরফে জাকির (৪১)। তিনি কাহারোল উপজেলার জোত মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

    ২০১৬ সালে স্নাতক শেষ করে বাবার ধান–চালের ব্যবসার হাল ধরেন জাকিউর আলম। কিন্তু ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারেননি। কয়েক মাস পরেই পৈতৃক তিন বিঘা জমিতে শখ করে বারি-৪ জাতের এক হাজার আমের চারা লাগিয়ে বাগান করেছিলেন। পরের বছর ২০১৭ সালে তিন লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। এরপর শখ হয়ে ওঠে পেশা এবং নেশা। বর্তমানে ৬৯ বিঘা জমিজুড়ে জাকিউরের আমবাগান। আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ক্ষীরশাপাতি, থ্রি টেস্ট, হিমসাগর, কাটিমন, ল্যাংড়া, গৌড়মতি, ইলাবতীসহ বিভিন্ন জাতের ৩০ হাজারেরও বেশি আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বিঘা জমিতে কাটিমন জাতের আমগাছ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০টি। আগামী দেড় মাসের মধ্যে ৪৫ লাখ টাকার শুধু কাটিমন আম বিক্রি হবে—এমনটিই প্রত্যাশা জাকিউরের।

    গত শুক্রবার জাকিউরের আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, ৬-১০ ফুট উচ্চতার গাছগুলোর প্রায় প্রতিটি ডালে আম ও মুকুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। উচ্চতা কম রাখতে নিয়মিত ডাল ছাঁটাই করা হয়। তাই গাছগুলোকে দূর থেকে দেখে মনে হয় মেলে থাকা ছাতা। পোকামাকড় থেকে সুরক্ষা এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে আমগুলো বিশেষ কার্বন ম্যাঙ্গো ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে হেলে পড়া ডালগুলো ঠেক দেওয়া হয়েছে। পোকা ও মাছির আক্রমণ রোধে কৃষি প্রযুক্তি হিসেবে হলুদ আঠালো স্টিক ও ফেরোম্যান সেক্স ট্র্যাপ বসানোর কাজ করছেন শ্রমিকেরা। গাছের গোড়া পরিষ্কার ও সেচের কাজ করছেন কেউ। ফল ও গাছের সুরক্ষায় মরা ডাল ও পাতা ছাঁটাই করা হচ্ছে।

    বর্তমানে ৬৯ বিঘা জমিজুড়ে জাকিউরের আমবাগান। আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ক্ষীরশাপাতি, থ্রি টেস্ট, হিমসাগর, কাটিমন, ল্যাংড়া, গৌড়মতি, ইলাবতীসহ বিভিন্ন জাতের ৩০ হাজারেরও বেশি আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বিঘা জমিতে কাটিমন জাতের আমগাছ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০টি।

    আম নিয়ে জাকিউরের যত ধ্যানজ্ঞান। কখনো বাগানে, কৃষি অফিসে, কখনো আবার ইন্টারনেট ঘেঁটে আম নিয়ে পড়াশোনা করেন। জাকিউর জানান, মাঝেমাঝে দিন কয়েকের জন্য বেরিয়ে পড়েন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরাসহ আম চাষ হয় এমন সব এলাকা ঘুরে আসেন। সেখানকার চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। নতুন নতুন আমের জাতের সন্ধান করেন।

    মৌসুমে প্রথমে আম্রপালি জাতের আম বিক্রি করেন জাকিউর। আর মৌসুমের শেষ দিকে (আগস্টের শুরুতে) বাজারে আনেন বারি-৪ জাতের আম। জাকিউর বলেন, ‘বাজারে যখন অন্য কোনো আমের জোগান থাকে না, ঠিক তখনই বারি-৪ জাতের আম বিক্রি শুরু করি। তবে গত দুই বছরে এই আমের বাজার কমেছে; তাই প্রতি তিন সারি গাছ থেকে এক সারি কেটে ফেলেছি। ওই সারিতে এখন লাগানো হয়েছে কাটিমন। কাটিমনের বাজার ভালো, তা ছাড়া বছরজুড়ে ভোক্তাকে আম খাওয়াতে পারছি।’ তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাটিমন আমের দাম ১৫-১৮ হাজার টাকা। বাগানে অন্তত ৩০০ মণ আম আছে। হিসাব অনুযায়ী, ৪৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করবেন আগামী দেড় মাসের মধ্যে। তবে শেষ সময়ে বাগান পরিচর্যায় যে ব্যয় হচ্ছে তাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। স্থানীয় একটি সরকারি ব্যাংক পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

    মাছি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমে পরানো হচ্ছে বিশেষ কার্বন ম্যাঙ্গো ব্যাগ। গত শুক্রবার দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার পূর্ববর্ষা গ্রামে
    মাছি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমে পরানো হচ্ছে বিশেষ কার্বন ম্যাঙ্গো ব্যাগ। গত শুক্রবার দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার পূর্ববর্ষা গ্রামেছবি: প্রথম আলো

    কাটিমন আম বিষয়ে গাজীপুর উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন জানান, কাটিমন আমের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে গাছে মুকুল আসাটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ফলে একই সঙ্গে গাছে মুকুল দেখা যায়, আবার ফলও কর্তন করা যায়। চারা রোপণের দেড় বছরের মধ্যে মুকুল আসা শুরু করে। একেকটি আমের ওজন হয় ১৫০-৪৫০ গ্রাম। এই আমের চামড়া খুব পাতলা, আঁশ ছোট, খেতেও সুস্বাদু ও মিষ্টি। আকারে লম্বাকৃতির। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয় এবং হলুদ রং ধারণ করে। এই আমের ৭৮ শতাংশ খাওয়া যায়। অনায়াসে ১০-১২ দিন সংরক্ষণ করা যায়। হেক্টরপ্রতি ফল পাওয়া যায় ১২-১৫ মণ।

    শুক্রবার জাকিউরের বাগানে বেড়াতে এসেছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘পাশেই একটা বিয়েবাড়িতে এসেছি। শুনলাম, এখানে বারো মাস আমগাছে আম ধরে। দুই বন্ধু দেখতে আসছি। দূর থেকে কিছুটা বোঝা যাচ্ছে। কাছে এসে দেখলাম কীভাবে আমগুলোকে প্যাকেট করে রাখা হয়েছে। বাগানমালিক একটি আম খেতেও দিয়েছেন। খুবই ভালো লাগছে এত বড় আমবাগান দেখে। অসময়ে পাকা আমও খেতে পারলাম।’

    বাজার বুঝে বিভিন্ন উন্নত জাতের আমগাছ দিয়ে বাগান সাজিয়েছি। বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন আমের জাত আবিষ্কার করছেন, সেগুলোর দিকে খেয়াল রাখছি।

    জাকিউর আলম, আম বাগানের মালিক

    আমবাগানে সফলতা পেয়েছেন জাকিউর। আট বছরের ব্যবধানে বাগানের আয় দিয়ে ৩৫ বিঘা জমি কিনেছেন। ছাদবিশিষ্ট পাকা বাড়ি তুলেছেন গ্রামে। গরুর খামার করার কাজে হাত দিয়েছেন। জাকিউর বলেন, ‘বাজার বুঝে বিভিন্ন উন্নত জাতের আমগাছ দিয়ে বাগান সাজিয়েছি। বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন আমের জাত আবিষ্কার করছেন, সেগুলোর দিকে খেয়াল রাখছি। অনেকে ফলের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। এতে ফল দ্রুত পাওয়া যায়; ওজনও বেশি হয়। এতে গাছের স্বাস্থ্যহানি ঘটে; দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। এটা আমচাষিদের বোঝা উচিত।’ তিনি পোকা ও মাছির আক্রমণ প্রতিরোধে কীটনাশকের পরিবর্তে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।