Category: কৃষি ফসল

  • মুকুলে ছেয়ে গেছে রাজশাহীর আমগাছ, ভালো ফলনের আশা

    আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রাজশাহীর আমগাছগুলো আগেভাগেই মুকুলে ছেয়ে গেছে। চাষিরা পোকামাকড় থেকে এসব গাছ বাঁচাতে বালাইনাশক দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে আমের ভালো ফলন হওয়ার আশা করছেন। এজন্য গাছের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এই আনন্দের মাঝে ঘন কুয়াশায় মুকুল নষ্টের শঙ্কাও রয়েছে তাদের। যদিও মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    চাষিরা বলছেন, গত বছর জেলার গাছগুলোতে মুকুল কম এসেছিল। এবার আগেভাগেই বেশি মুকুল আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মুকুল।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, কুয়াশার পর রোদ থাকায় নষ্টের পরিবর্তে মুকুল আরও সতেজ হবে। এজন্য কিছু ছত্রাক জাতীয় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চাষিদের।

    সরেজমিনে কয়েকটি আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানগুলোর অধিকাংশ গাছে মুকুল এসেছে। যেসব গাছে এখনও আসেনি, সেগুলোর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন চাষিরা। এ ছাড়া ফড়িয়ারাও বাগানে বাগানে ঘুরতে শুরু করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মুকুল দেখে বাগান কেনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

    তবে আশঙ্কার কথা জানিয়ে চাষিরা বলছেন, আগাম মুকুল আসলে কুয়াশার কবলে পড়ার শঙ্কা বেশি থাকে। ঘন কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ নামে এক ধরনের রোগ দেখা দেয়। এতে মুকুল ঝরে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ফলনে। এজন্য কীটনাশক ব্যবহার করছেন কেউ কেউ।

    Rajshahi Mango News 21.01 (2)

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় ৯৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান আছে। গত বছর এই অঞ্চলে মোট ১২ লাখ ৭ হাজার ২৬৩ টন আম উৎপাদন হয়।

    খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরের বুধপাড়া, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আমের বাগানগুলোতে আগাম মুকুল এসেছে। এর মধ্যে বুধপাড়া, চারঘাটের নিমপাড়া, ভায়ালক্ষ্মীপুর, চারঘাট সদর, সারদা, শলুয়া এবং বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম, বাউসা, গড়গড়িয়া ইউনিয়নের অনেকের বাগানে মুকুল এসেছে বলে জানান চাষিরা।

    বুধপাড়া এলাকার চাষি আয়নাল হক বলেন, ‌‘এবার আবহাওয়া ভালো। তেমন শীত নেই, কুয়াশাও কম। অনেক সময় কুয়াশার কারণে মুকুলের ক্ষতি হয়। কিন্তু এ বছর সেই ঝুঁকি কম। তাই আশা করছি, গাছে ভালো মুকুল আসবে। বর্তমানে লক্ষণভোগ ও গোপালভোগ জাতের গাছগুলোতে মুকুল দেখা যাচ্ছে।’

    সাত বিঘা জমিতে আমের বাগান রয়েছে নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামের বাহাদুর রহমানের। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর বাগানে মুকুল আসেনি। ফলে অনেক গাছ কেটে ফেলেছি। এখন যেসব গাছ আছে সেগুলোতে আগেভাগেই মুকুল এসেছে। কুয়াশায় মুকুল নষ্ট না হলে এবার আমের ভালো ফলন হবে।’

    Rajshahi Mango News 21.01 (1)

    ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আম চাষি ও ব্যবসায়ী শামসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আরও ১০ দিন পর পুরো বাগানে মুকুল দেখা যাবে। তাই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা। এ ছাড়া আগাছা পরিষ্কারসহ পোকা দমনে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে। এতে পোকা যেমন দূর হবে, তেমনি গাছে দেখা দেবে স্বাস্থ্যকর মুকুল। এতে করে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।’

    পবার চাষি সাবিয়ার আলী বলেন, ‘গত দুই বছর গাছে তেমন মুকুল আসেনি। এবার দেখছি আগেভাগেই এসেছে। এতে খুশি হয়েছি। তবে শঙ্কাও আছে, কারণ কুয়াশার কবলে পড়লে মুকুল নষ্ট হয়।’

    চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমের জন্য বিখ্যাত চারঘাট উপজেলা। এখানে চার হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান আছে। চাষিদের মুকুল রক্ষায় ওষুধ স্প্রে করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চাষিরাও অধিক ফলনের আশায় সে অনুযায়ী কাজ করছেন।’

    আগাম মুকুল কুয়াশায় ঝরে যাওয়ার একটা শঙ্কা থাকে উল্লেখ করে রাজশাহী আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ভালো মুকুল আসলেও তা ঝরে পড়ায় উৎপাদন কমেছিল। এবার ভালো ফলনের আশা করছি। বাকিটা আবহাওয়ার ওপরে নির্ভর করবে। কিছুদিনের মধ্যে বাগান কেনাবেচা শুরু হবে।’

    rajsahi.2jpg

    তবে চাষিরা যত্ন নিলে মুকুল ঝরে পড়ার শঙ্কা কম বলে জানালেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত বছর যেহেতু কম মুকুল এসেছিল, এবার বেশি আসা স্বাভাবিক। আর চাষিরা গাছের প্রতি যত্নশীল হলে ঝরে পড়ার শঙ্কা কম।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মোতালেব হোসেন বলেন, ‘প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী কোনও বছর মুকুল কম আসলে পরের বছর বেশি আসে। সে হিসাবে এবার বেশি আসার কথা। এবারের আবহাওয়া আমের জন্য খুবই উপযোগী। আশা করছি, মুকুল-গুটি ও উৎপাদন ভালো হবে। আর কুয়াশার কবলে যদি ঝরে পড়ে সেক্ষেত্রে আগাম সতর্ক থাকতে হবে চাষিদের। আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। ফলে চাষিরা আগেভাগেই সচেতন হবেন আশা করি।’

  • দিনাজপুর সেচখালের পানিতে উৎপাদন হবে ২২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন চাল

    দিনাজপুর সেচখালের পানিতে উৎপাদন হবে ২২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন চাল

    উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের (তিস্তা ব্যারাজ) কমান্ড এলাকার সেচ সক্ষমতা বাড়াতে এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকার সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারের কৃষকরা অতিরিক্ত এক লাখ চার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পাউবো। এর মধ্যে রংপুরে এক লাখ ৩২ হাজার ৭৪৬ হেক্টর, গাইবান্ধায় এক লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে এক লাখ ১৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর, লালমনিরহাট ৪৮ হেক্টর ও নীলফামারী জেলায় ৮১ হাজার ৮৯৭ হেক্টর।

    গত বছর পাঁচ লাখ সাত হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এ বছর অতিরিক্ত এক হাজার ১৪৩ হেক্টর জমি সেচ ক্যানেলের আওতায় এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো আবাদ হলে পাঁচ জেলায় ২২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।

    পাশাপাশি যেসব এলাকায় সেচ খালের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে, সেসব এলাকায় চলতি মৌসুমের ১৫ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হবে বলে জানান ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ বিভাগ। দিনাজপুর সেচ খালের দৈর্ঘ্য ৭৬৬ কিলোমিটার।

    ব্রিটিশ আমলে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ১৯৫৩ সালে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা ও ডিজাইন প্রণয়ন করে তিস্তা ব্যারাজের স্থান নির্ধারণ করেন ডালিয়ায়। ব্যারাজের মোট নির্মাণ ব্যয় ছিল ১৫০০ কোটি টাকা।

    এরপর ১৯৭৯ সালে ব্যারাজ নির্মাণ ও সেচ খালের কাজ ১৯৮৪-৮৫ সালে শুরু হয়। ব্যারাজের দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার, জলকপাট ৪৪টি। ক্যানেল হেড রেগুলেটর ১১০ মিটারের মধ্যে গেট রয়েছে আটটি। এ নিয়ে সর্বমোট গেট ৫২টি।

    সূত্র জানায়, ব্যারেজ প্রকল্প (ফেজ-১) সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয় নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, খানসামা। প্রধান খাল ৩৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। প্রধান খালে পানি সরবরাহ ক্ষমতা ২৮৩ কিউসেক।

    প্রথমের দিকে দিনাজপুর ক্যানেলের সেচযোগ্য এলাকা এক লাখ ১১ হাজার ৪০৬ হেক্টর ধরা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯১ হাজার ২২৬ হেক্টর। কিন্তু ক্যানেলের বুক ভরাট হওয়ার কারণে গড়ে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো। ২০২১ সালে জুলাই থেকে সেচের সক্ষমতা বাড়াতে নতুনভাবে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তা সেচ প্রকল্প কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সংস্কার প্রকল্প’।

    এদিকে, কমান্ড এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধান বৃষ্টি নির্ভর। আর বোরো ধান সেচ নির্ভর। ক্যানেলের পানি প্রতি বিঘায় সেচ খরচ মাত্র ১৫২.৩৯ টাকা। একর প্রতি ৪৮০ টাকা খরচ হয়। আর শ্যালো বা বিদ্যুৎ চালিত পাম্পে বিঘায় খরচ হয় ১১০০-১২০০ টাকা। ক্যানেলের সেচ পাঁচ জেলার কৃষকের জন্য আশীর্বাদ।

    নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক তনজিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর প্রথম পানিতে তিন বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু গত বছর বৃষ্টিপাতের সংকট হওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলাম। পরে সেচ ক্যানেলের পানি পেয়ে চিন্তামুক্ত হই। ক্যানেলের পানি পেয়ে আমনের ফলনও হয়েছিল বাম্পার।’

    একই উপজেলার কৃষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীন পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত সেচ নালা সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এই মৌসুমে দেড় বিঘা জমি সেচের পানিতে বোরো লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। অল্প খরচে অধিক ফলন ক্যানেলের পানির বিকল্প নাই।’

    জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারী ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্র পাঠ কমান্ড এলাকার সুবিধাভোগী পরেশ চন্দ্র রায় জানায়, পানি প্রবাহ ঠিকঠাক থাকলে বোরো আবাদে কোনও সমস্যা হবে না। অল্প খরচে বোরো আবাদে সেচের পানিতে বাম্পার ফলন হয়ে থাকে।

    পাউবো রংপুর বিভাগীয় মুখ্য সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, ক্যানেলে খনন কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সেচ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করি, জানুয়ারি শেষ নাগাদ পুরোদমে বোরো চাষ শুরু হবে।

    জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    একই প্রকল্পের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ১২টি উপজেলায় সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

    তিনি জানান, এবার বোরো মৌসুমে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হবে। এ জন্য এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করছি। কোন এলাকায় কী পরিমাণ সেচ প্রয়োজন সেটি জানার পর আমরা সেচ ব্যবস্থা পরিচালনা করবো। বাস্তবতার নিরিখে সংস্কার কাজ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • মুকুল আসার আগেই আম গাছের যত্ন নিন

    মুকুল আসার আগেই আম গাছের যত্ন নিন

    সমীরণ বিশ্বাস , কৃষি ও পরিবে

    আম গাছের মুকুল সুস্থ রাখতে সঠিক যত্ন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মুকুল ঠিকঠাক থাকলে ফলন যেমন ভালো হবে; তেমনই রোগ-বালাই থেকেও গাছ থাকবে নিরাপদ। চলুন, এই যত্নের সহজ কিছু উপায় জেনে নিই।

    মুকুল আসার আগে যত্ন
    মুকুল আসার আগে আম গাছের যত্ন নিন। আম গাছ সুস্থ রাখতে ছোট ছোট পদক্ষেপ অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

    আগাছা পরিষ্কার
    আগাছা শুধু গাছের পুষ্টি কমায় না, রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই মাটির চারপাশ একদম পরিষ্কার রাখুন।

    মরা ডালপালা কাটুন
    মরা বা শুকনো ডাল গাছে শুধু ওজন বাড়ায় কিন্তু কোনো কাজে আসে না। এগুলো কেটে গাছকে হালকা করুন।

    পরগাছা সরান
    গাছের শক্তি চুরি করে নেওয়া পরগাছা দূর করুন।

    সেচ বন্ধ করুন
    গাছে মুকুল আসার ২-৩ মাস আগে সেচ বন্ধ রাখলে গাছ আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়।

    প্রথম স্প্রে
    সময়মতো প্রথম স্প্রে করলে ভালো ফল পাবেন। মুকুল যখন ৪-৬ ইঞ্চি হয়; তখন সঠিকভাবে স্প্রে করলে গাছ রোগমুক্ত থাকে। এতে ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার ইমিডাক্লোপ্রিড কীটনাশক ব্যবহার করবেন। এছাড়া ২ গ্রাম ম্যানকোজেব ছত্রাকনাশক ব্যবহার করবেন। এ সময় আম গাছের সব অংশ ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করবেন।

    মনে রাখবেন
    ফুল ফোটা অবস্থায় কোনো ধরনের স্প্রে করা যাবে না। প্রয়োজন হলে জানুয়ারিতে স্প্রে করুন। যদি জানুয়ারি মাসে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকে, তবে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগে স্প্রে করতে পারেন।

    হপার পোকা থেকে সুরক্ষা
    ১ লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার সাইপারমেথ্রিন কীটনাশক এবং ২ গ্রাম সালফারযুক্ত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করবেন। এটি হপার পোকা থেকে সুরক্ষা করতে সাহায্য করবে। সুট্যি মোল্ড ছত্রাকের আক্রমণ কমানো যাবে।

    দ্বিতীয় স্প্রে
    যখন মুকুলে ফল আসবে, আমের মটর দানা আকৃতি তৈরি হলে দ্বিতীয় স্প্রে করতে হবে। ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার ইমিডাক্লোপ্রিড কীটনাশক এবং ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম ছত্রাকনাশক ব্যবহার করবেন। এসময় গাছের সম্পূর্ণ অংশ ভিজিয়ে স্প্রে করবেন।

    গাছের জন্য আপনার ভালোবাসাই আসল যত্ন। তাই সঠিকভাবে পরিচর্যা করা জরুরি। আম গাছের মুকুল সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করুন। গাছের সঠিক যত্নই ভালো ফলনের চাবিকাঠি। কৃষি বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

  • নাটোরে আখ চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

    নাটোরে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) উদ্ভাবিত ৪৬ জাতের আখ চাষ করে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। রোগবালাইমুক্ত বীজের মাধ্যমে কৃষকেরা অন্য জাতের আখের চেয়ে বেশি ফলন পাচ্ছেন। প্রতি বিঘায় ৪৫০ মণ থেকে ৬০০ মণ পর্যন্ত আখ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা ৪৬ জাতের আখ উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে নাটোর চিনিকল এলাকায ১০৫টি প্লটে কৃষকেরা ৪৬ জাতের আখ চাষাবাদ করেছেন। প্রত্যেক চাষি বিঘাপ্রতি ৪৫০-৬০০ মণ পর্যন্ত আখের ফলন পাচ্ছেন। যা অন্য জাতের আখের চেয়ে বিঘাপ্রতি ২১০-৩৫০ মণ পর্যন্ত বেশি। বর্তমানে ৪৬ জাতের আখ চাষ সম্প্রসারণের জন্য বিএসআইআর বীজ সার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে।

    বিএসআরআই সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকদের জীবনমান, দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন এবং চিনির ঘাটতি দূর করতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২১-২২ অর্থবছরে ‘কৃষক পর্যায়ে আখের রোগমুক্ত পরিচ্ছন্ন বীজ ও বিস্তার’ শীর্ষক প্রকল্পের যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭টি সুগার মিল জোন ও নন মিল জোনে প্রকল্পের কাজ চলমান। এ ছাড়া দেশের ৩১টি জেলার ৭০টি উপজেলায় এ প্রকল্পের কাজ চলমান।

    প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে একমাত্র বিএসআরআই আখের বীজ উৎপাদন ও মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও চিনি শিল্পের উন্নয়নই এ প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য। তবে দেশে আর কোনো প্রতিষ্ঠান আখ নিয়ে কাজ না করায় উৎপাদন নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করেন। কৃষকদের এ নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে বিএসআরআই কৃষকদের বিনা মূল্যে বিএসআরআই-৪৬ জাতের সত্যায়িত ভিত্তি বীজ সরবরাহ করছে। কৃষকেরা সত্যায়িত বীজ চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছেন।

    নাটোরে আখ চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

     

    এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রত্যায়িত ভিত্তি বীজের প্লট চাষে বিনা মূল্যে ভালো বীজ, সার ও কীটনাশক এবং সেচ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। কম খরচে কৃষকেরা বেশি আখ উৎপাদন করতে পারছেন। এতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। চিনি শিল্পে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। কাজেই বিএসআরআই সংশ্লিষ্ট ও কৃষকেরা এ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

    নাটোর সদর উপজেলার পণ্ডিত গ্রামের চাষি রুস্তুম আলী শেখ বলেন, ‘আমি এ জাতের আখ চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আমাকে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও সেচ সুবিধা দেওয়া হয়। চলতি বছর প্রতি বিঘায় সাড়ে ৪০০ মণ আখ উৎপাদনের আশা করছি। প্রকল্পটি চালু থাকলে আমার মতো আরও কৃষক উপকৃত ও লাভবান হতে পারবেন।’

    কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, তার জমি একটু উঁচু হওয়ায় ভালো ফলন পাচ্ছেন। তিনি বিঘাপ্রতি ৬০০ মণ হারে ফলন পাচ্ছেন।

    জামাত আলী বলেন, ‘দেশীয় প্রচলিত জাতের আখের চাষ করে ৮ গাড়ি বা ২৪০ মণের বেশি আখ উৎপাদন হয় না। কিন্তু ৪৬ জাতের আখ ১৫-১৮ গাড়ি পর্যন্ত ফলন হয়। মিলের এক গাড়ি সমান ১২০০ কেজি বা ৩০ মণ। ফলে ৪৬ জাতের আখের আবাদ আমাদের নতুন করে উৎসাহিত করছে। তাছাড়া ৪৬ জাতের আখ চাষাবাদে পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। তবে গাছ বেশি লম্বা হওয়ায় গোছা করে বেঁধে দিতে হয়। এ কারণে জমিতে প্রচুর আলো-বাতাস থাকে।’

    নাটোরে আখ চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

    নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নীলিমা জাহান জানান, বিএসআরআই-৪৬ একটি পরিশোধিত ভিত্তি বীজ। প্রত্যায়িত ভিত্তি বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহের মাধ্যমে আখ চাষ বৃদ্ধি করা গেলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। চিনি শিল্প এগিয়ে যাবে।

    বিএসআরআই’র প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ইমাম হোসেন জানান, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রোগমুক্ত ভিত্তি বীজের প্রত্যায়িত প্লট তৈরি ও ফলন বৃদ্ধি করা। এর ফলাফল খুব ভালো। এ ধরনের প্লটে রোগের প্রকোপ অনেক কম। ভালো বীজ বেশি উৎপাদনের মাধ্যমে চিনির ঘাটতি পূরণ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।’

    নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ অধিক উৎপাদনশীল, অধিক চিনি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও অধিক রিকভারি সম্পন্ন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অবশ্যই চিনি শিল্প লাভবান হয়েছে। প্রকল্পটি আরও ১ বছর চালু থাকলে জেলার দুটি মিল জোন এলাকায় রিপ্লেসমেন্ট দিয়ে অধিক পরিমাণ আখ উৎপাদন ও চিনির রিকভারি সম্ভব হবে।

    বিএসআরআই’র মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পটি এ বছরই শেষ হয়ে যাবে। সরকার চিনি শিল্পের দিকে নজর দিচ্ছে। বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রচুর আখের প্রয়োজন হবে। এ জন্য আখের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ চাষ করে কৃষকেরা আর্থিকভাবে দ্বিগুণ লাভবান হবেন। পাশাপাশি চিনির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

  • কচুয়ায় পানির নিচে সুপারির ব্যবসা

    কচুয়ায় পানির নিচে সুপারির ব্যবসা

    বাসস : কচুয়ায় পানির নিচে রেখে কোটি টাকার সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পানির নিচে রেখে সুপারি বিক্রি সনাতন পদ্ধতি হলেও এ পদ্ধতি চলে আসছে বহুদিন ধরে। এ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ সুপারি সাধারণত মজা সুপারি কোথাও ঢোপ সুপারি নামে পরিচিত।

    কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কাঁচা পাকার মৌসুমে সুপারি মজুদ করে বিশেষ পদ্ধতিতে পানির ভিতর নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত রেখে এক সময় ভালো মূল্যে বিক্রি করা হয়। এ পদ্ধতিতে সুপারি বিক্রি করে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিবছর পানির নিচে রাখা কোটি টাকার সুপারি এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি করা হয়।

    তবে এ ধরনের পদ্ধতিতে সুপারি বিক্রি করা লাভজনক হলেও দূষিত হচ্ছে পানি। আর এ পানি দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য সুপারি প্রক্রিয়াকরণের জন্য সুপারিকে চৌবাচ্চা অথবা সংরক্ষিত ডোবায় রাখা জরুরি।

    তবে মদা সুপারিকে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ কিংবা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে।

    কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার আকাশ বৈরাগী বলেন, কচুয়া উপজেলায় মোট ১১৫৩ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়। এ বছর ফলন হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৭১ মেট্রিকটন। সুপারিকে ভিজিয়ে বেশিক্ষণ কাঁচা রাখার জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। যা স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক চাহিদা রয়েছে। মদা সুপারি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা ভালো লাভবান হচ্ছেন।

    পানি ও পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, প্রশাসনসহ সবার সহায়তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যদি এ ব্যাপারে সচেতন করা যায় তবে এ ধরনের সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

  • পেঁয়াজ চাষে কৃষকের বিপাক: সাঁথিয়ায় আর্থিক সংকটের কাহিনী

    পেঁয়াজ চাষে কৃষকের বিপাক: সাঁথিয়ায় আর্থিক সংকটের কাহিনী

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষিরা এক অভাবনীয় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। বাজার দরের চরম পতন এবং উৎপাদন খরচের অনিয়ম্ত্রিত বৃদ্ধি কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে।

    মহিষাকোলা গ্রামের যে কৃষক নূর ইসলাম চার বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “ধারদেনা করে আশা নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। শুরুতে ভাবছিলাম ভালো লাভ পাব, কিন্তু বাজারের ধস আমাদের ভেঙে দিয়েছে।”

    তাঁর হিসেবে, প্রতি বিঘায় তিনি বিনিয়োগ করেছেন ১.১৩ লাখ টাকা। বীজ কিনেছেন ৯ হাজার টাকা মণ দরে। অথচ বাজারে বর্তমান দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ৭১-৭২ হাজার টাকা, যা প্রতি বিঘায় প্রায় ৪২ হাজার টাকা লোকসান।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, পেঁয়াজ বীজের দাম ৫-৬ হাজার টাকা থেকে ৮-১০ হাজার টাকায় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়।

    বোয়ালমারি হাটের আড়তদার রাজা হোসেন বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাঁরা পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এবার পেঁয়াজ আবাদ বেশি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক সরবরাহ বেড়ে গেছে।”

    সাঁথিয়ায় ১,৬২৭ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে এবং দেশি পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

  • বাদাম চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চরের কৃষকদের

    বাদাম চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চরের কৃষকদের

    দেশের বৃহৎ চরাঞ্চলখ্যাত কুড়িগ্রাম জেলায় বাদাম চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। চরের কৃষকরা বাদাম চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন।

    কুড়িগ্রামে দেশের বৃহৎ ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শুকিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য বালুচর জেগে উঠেছে। জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে বাদামের চাষ করেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। বাদাম গাছের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে পুরো বালুচর। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, দুধকুমারসহ জেলার ১৬টি চরাঞ্চলে পাঁচশতাধিক চরাঞ্চলে বাদাম তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ দল বেঁধে বাদাম তোলার দৃশ্য চোখে পড়বে চরগুলোতে। চরাঞ্চলের বালু মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের বালু মাটির জমিতে বাদাম চাষ করেছেন।

    রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এবারে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। ২০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে ওই জমি থেকে ৫/৭ মন বাজারে বিত্রিু করেছি। মন প্রতি ২ হাজার ৯শ টাকা। আরও অনেক বাদাম আছে, বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

    একই ইউনিয়নের আব্দুল জলিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে চরের সংখ্যা। প্রতিবছর বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে জেগে ওঠা চরে বাদাম, কাউন, তিল, তিসিসহ হরেক রকম ফসল চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

    চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজরা দিয়ার খাতা এলাকার মাহফুজার রহমান বলেন, বাদাম খেত থেকে আগাছা কেটে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া অন্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে তুলনামূলক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। তবে সার-বীজ, কীটনাশকসহ শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়া কৃষকরা লাভ কম পাচ্ছেন। বীজ রোপণের আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যেই বাদাম তুলে সংগ্রহ ও হাট-বাজারে বিক্রি করা যায়।

    রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের  শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন,  চরাঞ্চলে কৃষি কাজ ছাড়া হাতে তেমন কাজ না থাকায় বছরের অন্যান্য সময় জেলার বাইরে কাজের সন্ধানে যেতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে। দরিদ্র ও অসচ্ছল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছেন চরাঞ্চলগুলোতে। এক মন বাদাম তুলে দিলে পারিশ্রমিক হিসেবে পাঁচ কেজি বাদাম দেন।

    একই ইউনিয়নের মোছা. আমেনা বেগম বলেন, বাদাম চাষ ভালো হয়েছে। সারাদিন বাদাম তুলে শুকাতে হচ্ছে।

    কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মুনাফা অর্জনের আশায় চরের কৃষকরা বাদাম চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সব সময় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

    জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক চরাঞ্চলে বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার হেক্টর। যা অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ১১০ হেক্টর।

  • ঘৃতকুমারী চাষ লাভজনক, সমস্যা বিপণনে

    বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ঘৃতকুমারী চাষ করে ব্যাপক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাজারজাতের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই এই ফসল আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন না।

    অন্য ফসলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভবান হওয়ায় উপজেলার কয়েকজন কৃষক ঘৃতকুমারী চাষ করছেন। তাঁদেরই একজন শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের মারিয়া গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম।

    এক যুগ আগে ঘৃতকুমারী চাষ শুরু করেন জাহিদুল ইসলাম। শুরু করেছিলেন ১২ শতক জমি দিয়ে। প্রথমে নাটোর থেকে তিনি চারা সংগ্রহ করেছিলেন। এই চারা পরিচর্যা করতে সময় লেগেছিল বছর তিনেক। এখন তিনি চাষ করেন এক বিঘার বেশি জমিতে। তবে বর্তমানে তিনি নিজেই চারা তৈরি করেন। চাষের পরিধিও বাড়িয়েছেন।

    বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের আরিয়া বাজার থেকে এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে করতোয়া নদী। এ নদীর পূর্ব তীরের মারিয়া গ্রামের কয়েক বিঘা জমিতে ঘৃতকুমারী চাষ করেছেন জাহিদুল ইসলাম। এখানে ঘৃতকুমারী চাষ শুরু হয় প্রায় এক যুগ আগে।

    সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, জাহিদুল ঘৃতকুমারীর জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন। কদিন আগেই চারা ও বড় ঘৃতকুমারীর গাছে চুন ছিটিয়েছেন। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, চুন ছিটানো ও বিভিন্ন প্রকার সার দেওয়াই এই ফসল উৎপাদনের প্রধান কাজ। চুনের পানি দিলে গাছের পাতায় কোনো দাগ হয় না। তবে বড় পরিসরে কাজে লাগে প্রসাধনসামগ্রী তৈরিতে। কিন্তু দেশে এখনো কোনো কারখানা তৈরি হয়নি।

    বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঘৃতকুমারী বৈজ্ঞানিক নাম Aloe Vera। লিলি প্রজাতির উদ্ভিদ। এদের ভেষজ গুণ আছে।

    ঘৃতকুমারী চাষ শুরু করার বিষয়ে জাহিদুল জানান, তাঁর বড় ভাইয়ের পরামর্শে ঘৃতকুমারীর চাষ শুরু করার সময় এলাকার লোকজন বিরূপ মন্তব্য করছিলেন। এতে তিনি কান দিতেন না। তিন বছর পর এর উৎপাদন শুরু হয়। চারা ছোট থাকায় প্রথমে সমস্যায় পড়েছিলেন জাহিদুল। উৎপাদন হওয়ার পর থেকে অন্য কোনো ফসলের দিকে তাঁকে আর ঝুঁকতে হয়নি।

    এই ফসল অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে বেশি ফলনশীল বলে জানান জাহিদুল। প্রথম প্রথম ঘৃতকুমারীর দাম কম ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে ঘৃতকুমারীর দাম বেড়েছে। অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘৃতকুমারী থেকে বেশি আয় হয়। এ কারণে তাঁকে ঘৃতকুমারী চাষ ছাড়তে হয়নি।

    জাহিদুল আরও বলেন, এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫০ মণ ঘৃতকুমারী উৎপাদিত হয়। সময়ভেদে ৫ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। মূলত ছয় মাস ভরা মৌসুম। এ সময় দাম বেশি থাকে। তবে সবই বিক্রি করা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে। গড় হিসাব করলে দেখা যায়, এক বিঘায় ঘৃতকুমারী চাষ করলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। অন্য কোনো কৃষি আবাদ করে এই পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব নয়।

    ওই গ্রামের আরেক ঘৃতকুমারীচাষি ওবায়দুর রহমান। তিনি অবশ্য জাহিদুলের কাছ থেকে চারা নিয়ে ঘৃতকুমারী চাষ শুরু করেন ১৫ শতক জমিতে। এখন তিনি দুই বিঘার বেশি জমিতে এই উদ্ভিদ চাষ করেন। ওবায়দুর জানান, বাজার ভালো থাকলে ঘৃতকুমারী চাষের মতো লাভবান হওয়ার কোনো ফসল আপাতত এই অঞ্চলে আর নেই। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনা খারাপ। সরাসরি বড় ব্যবসায়ীদের কাছে ঘৃতকুমারী বিক্রি করার সুযোগ নেই। বিভিন্ন এলাকার বিউটি পারলার, নাটোরের কিছু ব্যবসায়ী ও শরবত বিক্রয়কারীরা তাঁদের কাছ থেকে ঘৃতকুমারী কেনেন।

    এই বিষয়ে জাহিদুল বলেন, ‘শুনেছি ঘৃতকুমারী দিয়ে নানা হারবাল ওষুধ তৈরি করা হয়। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে এই এলাকার বেশির ভাগ মানুষই ঘৃতকুমারী চাষ করতেন।’

    একই গ্রামের আমিরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, সরকার বাজার তৈরি করলে তাঁরা ঘৃতকুমারী চাষে আগ্রহী। বাজার না থাকলে ঘৃতকুমারী এমন জিনিস, যা বাড়িতে রেখে খাওয়াও যাবে না।

    ঘৃতকুমারী হারবাল চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বলে জানান বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘৃতকুমারীর পাতার শাঁস পোড়াস্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য, চর্মরোগ, যকৃতের রোগের চিকিৎসায়ও ঘৃতকুমারীর পাতা ও শাঁস ব্যবহার করা হয়।

  • সিরাজগঞ্জের মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

    সিরাজগঞ্জের মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

    বাসস জেলার উপজেলা গুলোতে মিষ্টি আলু চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছে এ অঞ্চলের কৃষক। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

    সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৮০ হেক্টর জমিতে লাভজনক মিষ্টি আলু চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে কাজিপুর, বেলকুচি, কামারখন্দ, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে।

    খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এবারো মিষ্টি আলু চাষাবাদে ঝুকে পড়েছে কৃষকেরা। এ চাষাবাদ যমুনা ও শাখা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলেই বেশি হয়ে থাকে। সদর উপজেলায় বাগবাটি ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নে এবার ২৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বাগবাটি ইউনিয়নের মরা ইছামতী নদীর বুক জুরে মিষ্টি আলু চাষে সবুজের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ নদীর বুকেই প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে মিষ্টি আলু রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, অগ্রহায়ন মাসে জমিতে মিষ্টি আলুর বীজ রোপণ করা হয় এবং কয়েক মাস পরেই এ ফসল উত্তোলন করা হয়। ধানসহ অন্যান্য ফসলের চেয়ে মিষ্টি আলু চাষে লাভ বেশি। এ চাষাবাদে পরিশ্রম ও খরচ কম লাভ বেশি।

    এ আলু হাট-বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা এ আলু ভালো দামে ক্রয় করে এবং তারা বিদেশে রপ্তানি করে থাকে প্রতিবছর। এবারো এ আলু চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আ. আহসান শহীদ সরকার বলেন, এবারো জেলায় বিভিন্ন স্থানে আলু চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এ চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভজনক এ আলু উত্তোলনে খুশি হবে কৃষকেরা।

    ক্যান্সার প্রতিরোধে এ মিষ্টি আলু খুবই উপকারি। এজন্য দেশের চাহিদার পাশাপাশি বিদেশেও এ আলুর চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে এ আলু রপ্তারি করা হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • পেঁপের চারা ধ্বসা রােগ দমন

    পেঁপের চারা ধ্বসা রােগ দমন

    পেঁপের চারা ধ্বসা রােগ দমন

    পেঁপের চারার বেশ কিছু রোগ দেয়া দেয়। এর মধ্যে আজকে আমরা আলোচনা করবো পেঁপের চারা ধ্বসা রােগ দমন পদ্ধতি নিয়ে।পেঁপের চারা ধ্বসা রোগ দমন পদ্ধতিটি সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং অন্য কৃষি উদ্যোক্তাদের কাছে শেয়ার করে দিন।

    লক্ষণ:
    আক্রান্ত চারার গােড়ার চারদিকে দাগ দেখা যায়।। শিকড় পচে যায়, চারা নেতিয়ে পড়ে গাছ মারা যায়। স্যাতস্যাতে মাটি ও মাটির উপরিভাগ শক্ত হলে রােগের প্রকোপ বাড়ে। রােগটি মাটিবাহিত বিধায় মাটি, আক্রান্ত চারা ও পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। একবার রোগের প্রকোপ বাড়লে সহজে রোগ দমন করা যায় না। খুব কম সময়েই গাছের ধ্বংস দৃষ্টিগোচর হয়।

    প্রতিকার:
    ১. পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করা
    ২. আক্রান্ত চারা বীজতলা থেকে অপসারণ করা।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
    স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই গাছের বা চারা আশেপাশে কোন শাকসবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:
    ১. রােগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা
    ২.লাগানাের আগে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম
    কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: ব্যাভিস্টিন বা নােইন অথবা ৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি মিশিয়ে ১৫-২০মিনিট ধরে বীজ শােধন করে নিন।
    ৩. রৌদ্রযুক্ত উচু স্থানে বীজতলা তৈরী করুন।
    ৪. বীজতলায় বীজ বপনের ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন অথবা পলি ব্যাগের মাটি শােধন করে নিন।

    উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো মেনে চললেই পেঁপের চারা ধ্বসা রোগ দমন খুব সহজেই করা সম্ভব। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেঁপের চাষ করে লাভবান হতে তাই আমাদের উচিত উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো মেনে পেঁপে চাষ করা। তবেই আমরা লাভবান হতে পারব।