Category: কৃষি ফসল

  • আসছে মৌসুমে করুন ডাল চাষ

    আসছে মৌসুমে করুন ডাল চাষ

    নাজনীন নাহার অনন্যা: আমাদের দেশে ডাল একটি অতি পরিচিত খাদ্য। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হিসেবে পরিচিত এই ডাল চাষ বিভিন্নভাবে আমাদের ক্ষেতে ফলন হয়ে থাকে। মুগ, মসুর, মাসকলাই, খেসারি, অড়হর ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের ডাল আমাদের আশপাশে প্রচলিত।

    মূলত ডালজাতীয় ফসল আমাদের মাটিকে উর্বর করে। ডাল এমন একটি ফসল যা রবি, খরিফ-১ এবং খরিফ-২ এই তিন মৌসুমেই চাষ করা যায়। কৃষি গবেষকদের মতে, ১ হেক্টর জমি থেকে ৮-১০ টন বায়োমাস পাওয়া যায় যা উর্বরতা রক্ষায় অত্যন্ত উপকারী। 

    কিন্তু ডাল চাষে আমাদের কৃষক ভাইদের এখনো অনেক অবহেলা দেখা যায়। যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তাই ডাল চাষে অধিক ফলন পেতে কী কী করণীয় এমন কিছু টিপস নিয়ে আমাদের এই আর্টিকেল।

    ডালচাষে আরও বেশি ফলন লাভের উপায়:

    -ডালচাষের প্রধান সমস্যা হলো একই সময়ে সম্পূর্ণ ফসল তোলা যায় না। ডালের ফুল থেকে বীজ পর্যায়ক্রমে পরিপক্ব হয় এবং একারণেই পুরো মৌসুমে ২-৩ বারে ফসল তুলতে হয়। তাই পরিপক্বতা অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ফল তুলতে হবে।

    -যে জমিতে ডালচাষ করবেন সেখানে অবশ্যই পানি জমতে পারবে না। বৃষ্টি বা সেচের কারণে যদি পানি জমে যায় তাহলে তা অতি দ্রুত নিষ্কাশন করে ফেলতে হবে। মাটি জমে থাকা অবস্থায় ডালজাতীয় ফসল হতে পারে না।

    -সবচেয়ে ভালো ফসল পেতে রবি কিংবা খরিফ-১ মৌসুমে (যেটাকে আউশ ধানের মৌসুম হিসেবে বলা হয়) ডালচাষ করুন। কারণ এসময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকে এবং তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা কম থাকে। এ পরিবেশ ডালচাষের জন্য আদর্শ।

    -জমি প্রস্তুতের সময় সার পরিমিত উপাদানে দিতে হবে যেনো পরবর্তীতে কোনো ঘাটতির সৃষ্টি না হয়। তবে এতে ইউরিয়া প্রয়োজন হয় না। কারণ ডালজাতীয় ফসলের মূলে যে স্ফীত গুটির সৃষ্টি হয় তা পরিবেশ থেকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করতে পারে। মূলত রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া এ কাজে সাহায্য করে। এতে একদিকে যেমন ফসলের পুষ্টির যোগান হয় তেমনি মাটিতেও উর্বরতা বাড়ে। তাই ইউরিয়া সার দিয়ে খরচ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

    -ডালচাষের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ফল তোলার পরেই গাছ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া উচিৎ।  কারণ ২ বার ফল তোলার পর তেমন ফল আর পাওয়া যায় না। ফলে ঐ সামান্য ফলসহ গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে জমির উর্বরতা বেশ ভালো পরিমাণে বেড়ে যায়। তাই, আসছে মৌসুমে ডাল চাষের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আপনারা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

    ধান চাষ বিস্তারিত

  • ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি – আধুনিক ও কার্যকরী কৃষি কৌশল

    ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি – আধুনিক ও কার্যকরী কৃষি কৌশল

     

    বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে ধান চাষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে ধান চাষ এবং বর্তমান পদ্ধতিতে ধান চাষের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। আর বর্তমান সময়ে আমাদের জন্য একটি বেশ বড় হাতিয়ার হলো ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি। আমাদের আজকের আর্টিকেলে এই পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো

    প্রথমেই জেনে নেই, এই পদ্ধতির কিছু আগের কথা। ১৯৭০ সালে IRRI (International Rice Research Institute) একটি নতুন ধান চাষের পদ্ধতি নিয়ে আসে যে পদ্ধতিতে এখনো বেশিরভাগ কৃষক ধান চাষ করছেন। আর তা হলো ধানের চারা প্রথমে বীজতলায় প্রস্তুত করে এরপর মূল জমিতে স্থানান্তর করে চাষাবাদ।পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা নতুন নতুন জাত এবং ভালো ফলনের উপায় পেতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি SRI (এসআরআই পদ্ধতি)

    এসআরআই পদ্ধতিতে কীভাবে ধান চাষ হয়?

    আমরা এখানে প্রচলিত পদ্ধতির সমান্তরালে রেখে এই পদ্ধতিটি বর্ণনার চেষ্টা করব যেনো কৃষক ভাইদের বুঝতে সুবিধা হয়।এক্ষেত্রে প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরী করে ৩৫-৪০ দিনের চারা মূল জমিতে স্থানান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে চারা যথেষ্ঠ শক্ত থাকে বলে রা মারা যায় না।

    তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে যেমন একটি গোছায় ৪/৫ টা করে ধানের চারা লাগানো হয়, এ পদ্ধতি কিন্তু এমন নয়। এক্ষেত্রে একটি গোছায় একটিই ধানের চারা লাগানো হয় এবং চারাগুলো বর্গাকৃতি অনুযায়ী লাগানো হয়। এতে প্রত্যেকটি চারা যথেষ্ট আলো-বাতাস পায়, কুশি বেশি হয় এবং ফলন বেড়ে যায়।

    এরপর সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জৈব সার প্রয়োগের প্রতি বেশি নজর দেয়া হয়। যার ফলে মাটির অম্লত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়ে, অণুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং ফলন ভালো হয়।

    প্রচলিত পদ্ধতির মত এ পদ্ধতিতে সবসময় মাঠে পানি রাখতে হয় না। যখন সেচ প্রয়োজন শুধু তখনই শুধু দেয়া হয়। রাইস উইডার দিয়ে আগাছা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। ফলে এটিও মাটিতে পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে।

    এসআরআই পদ্ধতির সুবিধা:

    -এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন প্রচলিত পদ্ধতি অপেক্ষা বেশি হয় কারণ যত্ন, সেচ, আগাছা দমন ইত্যাদি কাজ সঠিক উপায়ে করা হয়।

    -পরিচর্যার পরিমাণও এ পদ্ধতিতে বেশি। তবে উৎপাদনে সময় লাগলেও এর ফলন অনেক বেশি দেয়।

    – কম বয়সের চারাও রোপণ করা যায়।

    -যন্ত্র দিয়ে আগাছা দমন করা হয় বলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

    – কীটনাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি কম দরকার হয় বলে খরচের মাত্রাও কমে যায়।

    -জমি প্রয়োজন অনুযায়ী ভিজানো বা শুকানো যায়।

    – এ পদ্ধতিতে শ্রমিকের পরিমাণও কম প্রয়োজন হয়।

    তাই আসছে ধানের মৌসুমে কৃষক ভাইয়েরা চাইলে৷ পদ্ধতি অবলম্বন করতেই পারেন।

     

     

  • বর্ষাকালে শাক-সবজি চাষ: উঁচু জমি এবং পানি নিষ্কাশনের গুরুত্ব

    বর্ষাকালে শাক-সবজি চাষ: উঁচু জমি এবং পানি নিষ্কাশনের গুরুত্ব

    বর্ষাকালে শাক-সবজি চাষ:

    বাংলাদেশে জুন মাস মানেই বর্ষার শুরু। এ সময়ে কৃষকেরা ব্যস্ত থাকেন নানা ধরনের শাক-সবজি চাষে। তবে, এই মৌসুমে চাষাবাদের সফলতা নির্ভর করে কিছু বিশেষ কৌশলের উপর, যেমন উঁচু জমি নির্বাচন এবং জলবদ্ধতা প্রতিরোধ।

    উঁচু জমির নির্বাচন: বর্ষায় জমি জলবদ্ধ হয়ে গেলে ফসলের গোড়া পচে যেতে পারে। তাই উঁচু জমি চাষের জন্য আদর্শ। এই ধরনের জমি পানি নিষ্কাশনে সহায়ক, যা ফসল সুরক্ষায় অপরিহার্য।

    আগাছা পরিষ্কার: বর্ষায় আগাছার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়, যা ফসলের খাদ্য ও আলো গ্রহণে বাধা দেয়। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করে ফসলের বৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।

    পানি নিষ্কাশন: বর্ষাকালে প্রায়শই জমি জলাবদ্ধ হয়ে যায়, যা ফসলের জন্য ক্ষতিকারক। পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল, ড্রেন বা অন্যান্য পানি সরানোর পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি।

    বাংলাদেশে জুন মাসে বর্ষাকাল শুরু হয় বলে এ সময়ে অনেক ধরনের শাক-সবজি চাষ করা যায়। এই মাসের আর্দ্র ও বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়া শাক-সবজির চাষের জন্য আদর্শ। নিম্নলিখিত শাক-সবজি জুন মাসে বাংলাদেশে চাষ করা হয়:

    1. পাটশাক – এই শাকের পুষ্টিগুণ খুব ভালো।
    2. লালশাক – রক্তশোধনে উপকারী।
    3. পুঁইশাক – খুব জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর।
    4. গিমাকলমি – এটি এক ধরনের লোকাল শাক।
    5. ডাঁটা – খুব স্বাদু এবং নানা রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
    6. লাউ – বর্ষায় চাষ উপযুক্ত।
    7. চিচিঙা – অনেকে এটি স্নেক গার্ড বলেও জানেন।
    8. শসা – সহজেই চাষ যোগ্য।
    9. শিম – বিভিন্ন ধরনের বাঙালি রান্নায় উপযোগী।
    10. ঝিঙা – অনেক ধরনের রান্নায় প্রচলিত।
    11. কাঁকবোল – বিশেষ ধরনের শাক।
    12. মিষ্টি কুমড়া – মিষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর।
    13. ঢ্যাঁড়শ – বর্ষায় ভালো ফলন হয়।
    14. চাল কুমড়া – বেশ বড় হয়।
    15. করলা – তিতা কিন্তু পুষ্টিকর।
    16. বেগুন – বিভিন্ন পদে ব্যবহার হয়।
    17. ধুন্দল – অন্যান্য শাকের মতো ব্যবহার্য।
    18. মুখিকচুলতিরাজ কচু – উভয়েই আলুর মতো ব্যবহৃত হয়।

    জুন মাসে শাক-সবজি চাষের জন্য উঁচু জমি নির্বাচন এবং আগাছা পরিষ্কারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জলবদ্ধতা এড়াতে পানি সরানোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে চাষাবাদ করলে জুন মাসেও শাক-সবজি চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্ষায় যথাযথ পরিচর্যা ও প্রস্তুতি ফসলের সুরক্ষা ও সফল উৎপাদনের চাবিকাঠি।

    Visit Our Facebook Page 

  • লেটুস পাতার বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানা জরুরি।

    লেটুস পাতার বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানা জরুরি।

    লেটুস পাতার বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে জানা জরুরি। এখানে কিছু সাধারণ রোগ এবং তাদের চিকিৎসার উপায় দেওয়া হলো:

    1.ডাউনি মিলডিউ (Downy Mildew) – এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ যা লেটুসের পাতায় হলুদাভাব বা বাদামি দাগ তৈরি করে। প্রতিকারের জন্য ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে এবং লেটুস চাষের স্থানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা উচিত।

    2.ব্যাকটেরিয়াল লিফ স্পট (Bacterial Leaf Spot) – এই রোগে পাতায় ক্ষুদ্র জলপাই রঙের দাগ দেখা যায়। প্রভাবিত পাতা অপসারণ এবং সংক্রমিত স্থানে ব্যাকটেরিয়ারোধী স্প্রে ব্যবহার করা হয়।

    3.ফিউজারিয়াম উইল্ট (Fusarium Wilt) – এই রোগ লেটুসের পাতা এবং ডালপালাকে শুকিয়ে ফেলে। এর জন্য রোগমুক্ত বীজ এবং মাটির সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

    4.এফিডস (Aphids) – এটি এক ধরণের পোকা যা লেটুসের রস চুষে নেয়। পোকামাকড় দমনে নিম অয়েল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

    এছাড়াও, লেটুস চাষে সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাটি ব্যবহার করা উচিত যাতে পাতাগুলো স্বাস্থ্যজনক থাকে এবং রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ে।

    লেটুস পাতার চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই?

    লেটুস পাতার চাষ একটি জনপ্রিয় কৃষি প্রক্রিয়া, যা সঠিক পদ্ধতি ও পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন দিতে পারে। নিচে লেটুস পাতার চাষের কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলো:

    1. বীজ বপন:

    •লেটুসের বীজ বোনার জন্য শীত মৌসুম আদর্শ।

    •বীজ সরাসরি মাটিতে বা ট্রেতে বপন করা যেতে পারে।

    •বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে তারা সহজে অঙ্কুরিত হতে পারে।

    2. মাটি ও জলবায়ু:

    •লেটুস চাষের জন্য ভালো জলনিকাশী যুক্ত উর্বর মাটি প্রয়োজন। মাটির pH মান 6.0 থেকে 6.8 এর মধ্যে হওয়া উচিত।

    •লেটুস ঠান্ডা জলবায়ু পছন্দ করে, তাপমাত্রা 16°C থেকে 22°C এর মধ্যে ভালো বেড়ে ওঠে।

    3. পরিচর্যা:

    •নিয়মিত পানি দেওয়া আবশ্যক যাতে মাটি সবসময় আর্দ্র থাকে। অতিরিক্ত জল দেওয়া উচিত নয় যা মূল পচন ঘটাতে পারে।

    •অপ্রয়োজনীয় ঘাস ও আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

    •সার হিসেবে কম্পোস্ট বা নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার দিতে পারেন।

    4. রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ:

    •রোগ প্রতিরোধ করার জন্য সঠিক জলবায়ু এবং মাটির পরিচর্যা জরুরি।

    •পোকামাকড় যেমন এফিডস ও স্লাগের জন্য বায়োলজিকাল কীটনাশক বা নিম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

    5. ফসল তোলা:

    •বীজ বপনের 30 থেকে 60 দিনের মধ্যে লেটুস সংগ্রহ করা যেতে পারে।

    •পাতা যখন মোটা এবং সজীব দেখায়, তখনই তোলা উচিত।

    লেটুস চাষ করতে গেলে উপরোক্ত নির্দেশাবলী মেনে চলা উচিত, এতে করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

    facebook page