Tag: দৈনিক কৃষক কণ্ঠ

  • ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি

    ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি

     বর্তমানে বাংলাদেশে রোগ-ব্যাধি জনিত ফসলের ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। একারণে ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আবশ্যক।কৃষক ভাইদের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান সমস্যা হিসেবে পাওয়া যায় ফসলের রোগ-ব্যাধি। একারণেই ফসলের প্রধান রোগ ও তাদের মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব। 

    কেননা এই বিষয়টির কারণে এত আধুনিক প্রযুক্তি আসার পর বাংলাদেশে খাদ্য অভাব নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না

    ফসলের উপর বিভিন্ন রোগের প্রভাব

    বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরণের ফসল করা সম্ভব। যেমন, ডালজাতীয়, তেলজাতীয়, শস্যজাতীয়, ফল, বাদামসহ ইত্যাদি বিভিন্ন ফসলে গ্রাম-বাংলার মাঠ সর্বদা সবুজ থাকে।তারপরেও আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হয় প্রচুর পরিমাণে। আর তার অন্যতম প্রধান কারণই হলো ফসলের রোগ-ব্যাধি। 

    ফ স লে র চারা বের হওয়া থেকে শুরু করে যতদিন মাঠে থাকে, প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনো রোগের আক্রমণ হয়। যার ফলে ফ স ল তোলার সময় উৎপাদন পাওয়া যায় খুবই কম।

     

    ফসলের প্রধান রোগগুলির পরিচিতি

    ফ.স.লে র রোগসমূহ যে আমাদের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ তা আমরা দেখেছি। এখন আমরা জানব ফসলের প্রধান রোগ সম্পর্কে। কারণ রোগের প্রতিকার করতে হলে প্রথমে এ সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

    ছত্রাকজনিত রোগ

    ফসলের রোগের কারণসমূহের মধ্যে ছত্রাকজনিত রোগের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ফসলের পাতা পোড়া রোগ, ফসলের পাতায় দাগ, পাওডারি মিলডিউ বা পাতার উপর সাদা আস্তরণ ইত্যাদি।ছত্রাকজনিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো ধানের ব্লাস্ট রোগ যা প্রত্যেক বছর আমাদের প্রচুর পরিমাণ ধান নষ্ট করে দেয়। ফসলের বিভিন্ন পর্যায়ে এ রোগগুলো আক্রমণ করে।

    ভাইরাসজনিত রোগ

    ভাইরাসজনিত ফসলের রোগ এর মধ্যে রয়েছে পাতা কুঁচকানো রোগ, মোজাইক বা পাতায় হলদে-সবুজ রঙ হওয়া, গাছ নেতিয়ে পড়া বা মারা যাওয়া ইত্যাদি।ভাইরাসজনিত রোগগুলো মূলত কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাসের স্পোর বহনকারী এসব পোকা সুস্থ ফসলে বসলেই সেখানে আক্রমণ শুরু হয়।

     

    ব্যাকটেরিয়াল রোগ

    ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলো মূলত ধানের পাতা এবং কান্ড উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই জীবাণুর আক্রমণে পাতায় বাদামি দাগ পড়ে যা ক্রমান্বয়ে কালো হয়ে ঐ জায়গায় পঁচে যায়।প্রত্যেক ফসলেই কিছু না কিছু ব্যাকটেরিয়াল রোগ আছে যেগুলো ফসলের ক্ষতি করে সবচেয়ে বেশি। একারণেই ব্যাকটেরিয়াল রোগগুলো প্রতিরোধ করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

    এছাড়াও এসকল রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে এজাতীয় বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে পারেন।

     

    ফসলের রোগ চিহ্নিতকরণ এবং সময়মত প্রতিকার

    ফসলের রোগ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আমরা জানলাম। এবার প্রয়োজন রোগের প্রতিরোধ এবং প্রতিকার। কৃষি প্রযুক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণে ফসলের ক্ষতি কমানো অনেকাংশে সম্ভব।কিন্তু রোগ হলে তার প্রতিকারস্বরূপ এবং রোগ যেনো বৃদ্ধি না পায় তার প্রতিরোধ স্বরূপ ফসলের কিছু পরিচর্যা প্রয়োজন। এখন আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করব-

    প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধের কৌশল

    কৃষকদের জন্য রোগ প্রতিরোধের কৌশল বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রথমেই বেছে নেয়া উচিৎ প্রাকৃতিক উপায়ে ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধ।কারণ কীটনাশক ব্যবহার জমির স্বাস্থ্য এবং ফসলের রোগ দুটোকেই প্রভাবিত করে। আর অতিরিক্ত কীটনাশক বা রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহারে এক পর্যায়্র ঐ জীবাণু ঐ ঔষধের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে।ফলস্বরূপ ঐ ঔষধ আর কাজ করে না তেমন। একারণে জমির পুষ্টি ঠিক রাখতে হবে সবার আগে। পাশাপাশি, ফসলে পরিমিত জৈব সার প্রয়োগ কর‍তে হবে যেনো প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি পায়।

    মিশ্র ফসল চাষ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা

    ফসলের রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করার একটি উত্তম উপায় হলো মিশ্র ফসল চাষ। একই জমিতে দুই বা তিনটি ফসল থাকলে তা বেশ উপকারী হয়। যেমন পেয়াজ চাষের সময় এর সাথে সরিষা বা কালোজিরা জাতীয় ফসল অল্প পরিমাণে চাষ করা যায়। এর ফলে হোস্ট বা জীবাণুর নির্দিষ্ট ফসলের সাথে মিশ্রণ থাকায় এরা বেশি সুবিধা করতে পারে না। ফলে রোগ কম হয়।

    জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং তাদের প্রয়োগ

    ফসলের রোগের জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কৃষক ভাই জানেন না। তাই তাদের জন্য এ পদ্ধতি এবং জৈব বালাইনাশক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি আবশ্যক।জৈব বালাইনাশক মূলত প্রস্তুত করা হয় উদ্ভিদ বা প্রাণির অংশ থেকে। একইসাথে, যেসকল শিকারী পোকামাকড় আছে যারা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে শেষ করে এদের ব্যবহারও আবশ্যক।

    ফ.স.লে.র রোগসমূহ আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর এ সম্পর্কে আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি। কৃষক ভাইয়েরা এ বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন তাদের ফসলের মাঠে। 

     

    তাই ফসলের রোগ মোকাবেলা করতে উপর্যুক্ত পদ্ধতিগুলো অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। এতে আমাদের খাদ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই কমে যাবে। 

    Facebook page

  • ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি – আধুনিক ও কার্যকরী কৃষি কৌশল

    ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি – আধুনিক ও কার্যকরী কৃষি কৌশল

     

    বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে ধান চাষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে ধান চাষ এবং বর্তমান পদ্ধতিতে ধান চাষের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। আর বর্তমান সময়ে আমাদের জন্য একটি বেশ বড় হাতিয়ার হলো ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি। আমাদের আজকের আর্টিকেলে এই পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো

    প্রথমেই জেনে নেই, এই পদ্ধতির কিছু আগের কথা। ১৯৭০ সালে IRRI (International Rice Research Institute) একটি নতুন ধান চাষের পদ্ধতি নিয়ে আসে যে পদ্ধতিতে এখনো বেশিরভাগ কৃষক ধান চাষ করছেন। আর তা হলো ধানের চারা প্রথমে বীজতলায় প্রস্তুত করে এরপর মূল জমিতে স্থানান্তর করে চাষাবাদ।পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা নতুন নতুন জাত এবং ভালো ফলনের উপায় পেতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি SRI (এসআরআই পদ্ধতি)

    এসআরআই পদ্ধতিতে কীভাবে ধান চাষ হয়?

    আমরা এখানে প্রচলিত পদ্ধতির সমান্তরালে রেখে এই পদ্ধতিটি বর্ণনার চেষ্টা করব যেনো কৃষক ভাইদের বুঝতে সুবিধা হয়।এক্ষেত্রে প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরী করে ৩৫-৪০ দিনের চারা মূল জমিতে স্থানান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে চারা যথেষ্ঠ শক্ত থাকে বলে রা মারা যায় না।

    তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে যেমন একটি গোছায় ৪/৫ টা করে ধানের চারা লাগানো হয়, এ পদ্ধতি কিন্তু এমন নয়। এক্ষেত্রে একটি গোছায় একটিই ধানের চারা লাগানো হয় এবং চারাগুলো বর্গাকৃতি অনুযায়ী লাগানো হয়। এতে প্রত্যেকটি চারা যথেষ্ট আলো-বাতাস পায়, কুশি বেশি হয় এবং ফলন বেড়ে যায়।

    এরপর সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জৈব সার প্রয়োগের প্রতি বেশি নজর দেয়া হয়। যার ফলে মাটির অম্লত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়ে, অণুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং ফলন ভালো হয়।

    প্রচলিত পদ্ধতির মত এ পদ্ধতিতে সবসময় মাঠে পানি রাখতে হয় না। যখন সেচ প্রয়োজন শুধু তখনই শুধু দেয়া হয়। রাইস উইডার দিয়ে আগাছা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। ফলে এটিও মাটিতে পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে।

    এসআরআই পদ্ধতির সুবিধা:

    -এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন প্রচলিত পদ্ধতি অপেক্ষা বেশি হয় কারণ যত্ন, সেচ, আগাছা দমন ইত্যাদি কাজ সঠিক উপায়ে করা হয়।

    -পরিচর্যার পরিমাণও এ পদ্ধতিতে বেশি। তবে উৎপাদনে সময় লাগলেও এর ফলন অনেক বেশি দেয়।

    – কম বয়সের চারাও রোপণ করা যায়।

    -যন্ত্র দিয়ে আগাছা দমন করা হয় বলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

    – কীটনাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি কম দরকার হয় বলে খরচের মাত্রাও কমে যায়।

    -জমি প্রয়োজন অনুযায়ী ভিজানো বা শুকানো যায়।

    – এ পদ্ধতিতে শ্রমিকের পরিমাণও কম প্রয়োজন হয়।

    তাই আসছে ধানের মৌসুমে কৃষক ভাইয়েরা চাইলে৷ পদ্ধতি অবলম্বন করতেই পারেন।

     

     

  • নীলফামারীতে জিংক ধান চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা

    নীলফামারীতে জিংক ধান চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা


    নীলফামারী প্রতিনিধি

    নীলফামারীতে জিংক ধান চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা। নীলফামারীতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন জিং ধান চাষে উদ্বুদ্ধকরণ ও বাজারজাত নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানায় টিএলএমের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মশালায় জিং ধানের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশনের (গেইন) কনসালট্যান্ট ড. মনির হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পুষ্টি সমৃদ্ধ জিংক ধান চাষ উৎপাদনে নতুন ধারা উন্মোচন করেছে। এতে কৃষক শতভাগ সফলতাও পেয়েছে। বায়োফর্টিফাইড ধানের জাত বি-৭৪, বি-৮৪, বি-৮২ ও বঙ্গবন্ধু ১০০, ১০২ জাতের ধান উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করার এখন আমাদের সময় এসেছে।

    গেইন’র সহযোগিতায় বায়োফর্টিফাইড ধান সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব মসুর ডাল ও চালের ভূমিকা বিষয়ক এ কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) শাহিনা বেগম, নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান, টুপামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, অটোরাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি সামসুল হক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, কৃষক তারা পদ রায় ও আজাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

    ড. মনির হোসেন আরও বলেন, সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে জিং ধান চাষের বিকল্প নেই। কর্মশালায় বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী, কৃষক, বিএডিসি কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

  • উদ্যোক্তা কে? কেন একজন মানুষকে উদ্যোক্তা বলা হয়?

    উদ্যোক্তা কে? কেন একজন মানুষকে উদ্যোক্তা বলা হয়?

    উদ্যোক্তা কে? কেন একজন মানুষকে উদ্যোক্তা বলা হয়?

    উদ্যোক্তা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলেন, নতুন পণ্য বা সেবা প্রদান করেন, এবং সমাজে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। উদ্যোক্তাদের মূল কাজ হলো নতুন বাজারে নতুন পণ্য অথবা সেবা প্রদান করা, নতুন প্রযুক্তি বা পদ্ধতি বিকাশ করা, এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। একজন উদ্যোক্তা প্রায়ই ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকেন এবং তার উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নবীন চিন্তার প্রসার ঘটান।

    উদ্যোক্তারা নতুন পণ্য বা সেবার ধারণা প্রদান করেন, যা বাজারে নতুনত্ব এনে দেয়। তারা ব্যবসায়ের সৃজনশীল পরিকল্পনা করেন এবং এটি বাস্তবায়নে নিযুক্ত থাকেন, যা প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণ করেন এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করেন।

    তারা তাদের ব্যবসায়ের মাধ্যমে নতুন চাকরি সৃষ্টি করেন, যা সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। অনেক উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়ের মাধ্যমে সামাজিক ইস্যুগুলি সমাধান করার চেষ্টা করেন, যেমন পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি। একজন উদ্যোক্তা তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সরাসরি অবদান রাখেন, এই কারণেই তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়।

    একজন উদ্যোক্তা কেন ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণ করেন

    এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এই কারণগুলি উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক লক্ষ্য, অভিপ্রায় এবং সামগ্রিক কৌশলের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। উদ্যোক্তারা প্রায়ই নতুন বাজারের সুযোগ খুঁজে বের করেন এবং তা ধরতে গিয়ে ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণ করেন। এই সুযোগগুলি প্রায়শই উচ্চ লাভের সম্ভাবনা বহন করে।

    উদ্যোক্তারা নতুন প্রযুক্তি, পণ্য, বা সেবা উদ্ভাবন করতে চান। এই ধরনের উদ্ভাবন প্রায়ই বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আসে কারণ তা পূর্বানুমান করা কঠিন যে বাজারে এটি কতটা সাড়া ফেলবে। নতুন বাজারে প্রবেশ করা বা নতুন ব্যবসায় চালু করা প্রায়ই বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বহন করে। বাজার গবেষণা এবং বিপণন কৌশল সত্ত্বেও, প্রত্যাশিত সাফল্য নিশ্চিত নয়।

    অনেক উদ্যোক্তা তাদের নিজের বস হওয়ার জন্য এবং নিজেরাই তাদের কর্মজীবনের দিকনির্দেশনা ঠিক করার জন্য ঝুঁকি নেন। এই স্বাধীনতা পেতে গিয়ে তাদের আর্থিক ও পেশাগত ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়। উদ্যোক্তারা সামাজিক, পরিবেশগত, অথবা অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বৃহত্তর প্রভাব সৃষ্টির জন্য ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক হয়।

    আর এই ঝুঁকি গ্রহণের মাধ্যমেই উদ্যোক্তারা নতুন বাজার তৈরি করে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অর্জন করে, এবং সামাজিক পরিবর্তনে অবদান রাখে। একইসাথে, এই ঝুঁকি গ্রহণের কারণেই উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক সাফল্যের চূড়ান্ত ফলাফল অর্জন করতে পারেন।

    সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোক্তা

    উদ্যোক্তারা সমাজে নতুন চাকরি সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন উপায়ে সমাজের উন্নয়নে সহায়তা করেন। উদ্যোক্তারা নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা গড়ে তোলেন। এই নতুন ব্যবসা গুলো পণ্য বা সেবা উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের জন্য মানুষ নিয়োগ করে, যা সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে।

    উদ্যোক্তারা নতুন বাজার খুঁজে বের করে এবং বাজারে প্রবেশ করার মাধ্যমে তাদের ব্যবসা বাড়ান। বাজার বিস্তারের মাধ্যমে আরও বেশি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা সমাজে আর্থিক সক্রিয়তা বাড়ায়। উদ্যোক্তারা প্রায়শই নতুন প্রযুক্তি বা প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করে থাকেন। এই উদ্ভাবনগুলি অন্যান্য শিল্প ও সেক্টরগুলিতে প্রয়োগ করা হলে, সেগুলি থেকে নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    তারা তাদের পণ্য বা সেবার জন্য সাপ্লাই চেইন এবং বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। এই নেটওয়ার্কগুলি পরিচালনা করতে গিয়ে আরও চাকরির সৃষ্টি হয়। উদ্যোক্তারা প্রায়ই তাদের ব্যবসার মাধ্যমে অন্যান্য শিল্পের বিকাশে সাহায্য করেন, যেমন টেকনোলজি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিসেবা ইত্যাদি। এই প্রক্রিয়া সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে আরও চাকরির সৃষ্টি করে। এইভাবে উদ্যোক্তারা নতুন চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখেন, যা ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত দুই পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।

    Our Facebook Page 

  • গভীর রাতে পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    গভীর রাতে পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    গভীর রাতে পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

     জেলা প্রতিনিধি  পাবনা

    ডিবি পুলিশ পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানকে গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার (২৪ মে) রাত ১২টার দিকে দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করেন।

    পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান আহমেদ তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সুলতান মাহমুদ খান একাধিক মামলার আসামি বিষয়টি পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। আর ঐ গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গত রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভাঁড়ারা ইউনিয়ন রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে খ্যাতি আছে। গত ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনের ঠিক ১৫ দিন আগে ১১ ডিসেম্বর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান মাহমুদ খান ও ইয়াসিন আলমের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। ঐ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন আলম নিহত হন। নৌকার প্রার্থী এবং টানা ২৫ বছরের চেয়ারম্যান ও পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খানকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদ ২০২২ সালের ১৫ জুন ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। আবু সাঈদ খান এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারোফ হোসেনের পক্ষে মো. সুলতান মাহমুদ উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

    গ্রেফতারের বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারোফ হোসেন পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাাঁড়া মেলেনি।

    facebook page

  • আজ ২৫শে মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী

    আজ ২৫শে মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী

    আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী (২৫শে মে) আজ। প্রেম, মানবতা ও বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে তাঁর জন্ম হয়েছিলো। তিনি বাংলাদেশ এবং ভারতের অন্যতম একজন বিখ্যাত কবি, গীতিকার এবং সঙ্গীত রচয়িতা। ১৮৯৯ সালে ২৫শে মে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম হয়েছিল, যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ভারতে অবস্থিত। নজরুল ইসলামকে প্রায়শই ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে অভিহিত করা হয় কারণ তাঁর রচনায় বিদ্রোহের স্পিরিট এবং সামাজিক ও ধর্মী য় অসামঞ্জস্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। তাঁর জন্মদিন বাংলাদেশে জাতীয় কবি দিবস হিসেবে পালিত হয়।

    কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভা হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখনী বিভিন্ন ধরণের সাহিত্যিক কর্মে পরিপূর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে কবিতা, গান, নাটক, প্রবন্ধ এবং ছোটগল্প। নজরুলের লেখায় প্রায়শই বিদ্রোহী ভাবনা, সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানবতাবাদী আদর্শের প্রতিফলন ঘটে। নজরুলের কবিতা বাংলা সাহিত্যে এক বিপ্লব সৃষ্টি করে। “বিদ্রোহী” এবং “প্রলয়োল্লাস” তাঁর অসামান্য কবিতার উদাহরণ, যেখানে তিনি নিজেকে একজন বিদ্রোহী হিসেবে অভিহিত করেন।

    নজরুল সঙ্গীতে তাঁর অবদান অসীম। তিনি নজরুল গীতি নামে পরিচিত অনেক গান রচনা করেছেন, যা আজও বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে গৃহীত। নজরুলের নাটকগুলি প্রায়ই সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলি তুলে ধরে। “ব্যথার দান” এবং “আলেয়া” উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রবন্ধগুলি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, এবং দার্শনিক বিষয়ে গভীর চিন্তা-চেতনার প্রকাশ ঘটায়। তিনি বিভিন্ন ছোটগল্প লিখেছেন, যেগুলি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। নজরুলের লেখনী তাঁর সাময়িক সমাজের বিদ্রোহী মনোভাবকে প্রতিফলিত করে এবং সাহিত্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

    কাজী নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় কারণ তাঁর লেখনী এবং কবিতায় সামাজিক, ধর্মীয়, এবং রাজনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে এক তীব্র বিদ্রোহের স্বর প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি তাঁর লেখায় মানবাধিকার, স্বাধীনতা, এবং সমতা লাভের জন্য সব ধরণের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন।

    নজরুলের কবিতা “বিদ্রোহী” তাঁর বিদ্রোহী মানসিকতার এক অনন্য নিদর্শন। এই কবিতায় তিনি নিজেকে বিদ্রোহের এক প্রতীক হিসাবে উপস্থাপন করেছেন, যা অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি তাঁর লেখায় সামাজিক অসাম্য, ধর্মীয় মৌলবাদ, এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রখর কণ্ঠ উচ্চারণ করেছেন।

    নজরুল তাঁর লেখনীতে সব ধরণের ধর্মীয় ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদ করেছেন এবং মানবজাতির মুক্তির জন্য কলম ধরেছেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির জন্যও সক্রিয়ভাবে লেখনী এবং কাজ করেছেন। এসব কারণেই তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন এবং তাঁর লেখনী আজও বাঙালি জাতীয় চেতনা ও বিদ্রোহের এক অনুপ্রেরণা।

    কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে বাংলাদেশে এবং ভারতের বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয় কবি দিবস হিসাবে পালিত হয়। এই দিনটি তাঁর সাহিত্য ও দার্শনিক আদর্শগুলোর স্মরণে বিভিন্ন উদযাপন এবং কর্মসূচী দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। নজরুলের সমাধি অথবা ভাস্কর্যের নিকট মানুষজন পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে এবং শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজরুলের কবিতা, গান এবং নাটক পরিবেশন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিদ্বজ্জন এবং শিক্ষাবিদরা তাঁর কাজের বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করবেন। আজ নজরুল জয়ন্তীতে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা নজরুলের কাজ নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবেন। টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলগুলিও আজকের এই দিনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার স্কুল ও কলেজগুলোতে নজরুলের কবিতা পাঠ এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এই দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাঁর চিন্তা ও সাহিত্যের প্রভাব উদযাপনের মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানানো হয়।

    facebook page

  • কৃষকের নিকট থেকে পিসে কেনা তরমুজ কেন ওজনে কিনবো?

    কৃষকের নিকট থেকে পিসে কেনা তরমুজ কেন ওজনে কিনবো?

    বয়কট!!!!                   বয়কট!!!                                 বয়কট!!!  তরমুজ কেন ওজনে কিনবো????

    বয়কট শব্দটি নিয়ে কিছুদিন ধরেই বাক বিতন্ডাসহ সকলের মাঝেই চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বয়কট করলে কি শুধু কৃষকেরই ক্ষতি, নাকি অন্যান্য কিছু অসহায় দুর্বল পেশার লোকজনও জড়িত। মানতেই হবে আমরা হুজুগে বাঙ্গালি। কোন কিছুর হুজুগ উঠলেই আমরা না বুঝে শুনেই সবার কাছেই ভাইরাল নামক শব্দকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচার শুরু করি।

    আমরা কৃষি নিয়ে কাজ করি তাই কৃষি পণ্য নিয়ে বয়কটের কিছু বাস্তবতা নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি। গত সিজনের ড্রাগন ফল থেকে শুরু করে বর্তমান তরমুজ পর্যন্ত যে বয়কট আমরা করেছি, তাতে আসলে কে লাভবান হয়েছে, একটু খতিয়ে দেখতে হবে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে সমাজে ইউটিউবারদের বড় একটি প্রভাব সমাজে দেখা দিয়েছে।

    যাদের আমরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জানি। এই কনটেন্টের যাত্রা ভালোভাবে শুরু প্রায় ২০ বছর পূর্বে। যখন সোহাগ ৩৬০ ডিগ্রি চ্যানেল বিভিন্ন কম্পিউটার কোর্স ও মোবাইলের ফাংশন নিয়ে ভিডিও প্রচার করেন। সেই সময় থেকে আস্তে আস্তে আবাল, বৃদ্ধ বনিতা সকলেই ইউটিউবার হয়ে ডলার ইনকামের দিতে ঝুকতে শুরু করেছে। কিন্তু আসলে কতজন সফল হয়েছে, আর কতজন সমাজের কি পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা, বাংলার জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

    কিছু কিছু শিক্ষনীয় চ্যানেল এখনও স্বমহিমায় উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছেন আমাদের কাছে, আমরা তাদের ঋণ কখনও শোধ করতে পারবোনা। আবার কিছু কিছু অশিক্ষিত মূর্খ মানব যে বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই, পেটে বোমা মারলে দু-চার কলম লিখতে পারবে না, তাঁরা কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থা, কৃষি পণ্যের বাজারজাত ব্যবস্থা, কৃষিতে অর্থনৈতিক প্রভাব, মুদ্রাস্ফিতি, কৃষকের কলা ফুলে বড়লোক হওয়া (বানোয়াট ও মিথ্যা গল্প) নিয়ে ভিডিও করে রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।

    তাঁরা জানেনা ড্রাগন ফলে হরমোন ব্যবহার করা বৈধ কিনা, এতে কৃষি অফিস অনুমোদন দিয়েছে কিনা, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বাস্থ্য ঝুকি সংক্রান্ত কোন প্রতিবাদ লিপি আছে কিনা, কৃষক এটা না বুঝে শুনে করছে কিনা। না জেনে না বুঝে ভিডিও করা হলো ড্রাগন ফলে হরমোন ব্যবহার করে এটা বড় করা হয়েছে, এটা খাওয়া যাবেনা, ব্যাস রাতারাতি ইউটিউবে, ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল, বাংলার সুবোধ ও সহজ সরল জনগণ তাতে সায় দিয়ে ড্রাগন কেনা বন্ধ করে দিলো। ফলাফল দুস্থ, অসহায় কৃষকের লক্ষ, লক্ষ, কোটি টাকা লস। ব্যাংকের দেনা, এনজিও কিস্তি, সারের দোকানের হালখাতা ইত্যাদির চাপে কৃষক প্রায় দিশেহারা।

    আমরা এখন এমন ইউটিউবার ও ফেকবুকার দেখতে পাই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, পাশের মানুষগুলো তাঁকে সেবা শুশ্রষা করা বাদ দিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। অথচ এমন হতে পারতো উনাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে হয়ত উনি বেঁচে যেতে পারতেন। দেখে মনে হয় উনারা নোবেল জয়ী বিশ্বসেরা সাংবাদিক, এখনই মানুষ কিভাবে মারা যাচ্ছে সেই ভিডিও না দিলে উনার বিশ্বনন্দিত পদ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সামনের দু-চারজন মানুষ মারা গেলেও উনাকে ভিডিও করতেই হবে।

    এবার আসি তরমুজের ঘটনা নিয়ে। কৃষক কত কস্ট করে তরমুজের জমি চাষ করা থেকে শুরু করে তরমুজ কাটা পর্যন্ত কি পরিমাণ শ্রম আর পয়সা খরচ করেছেন, তা একমাত্র কৃষকই জানে। হুট করে একদল হলুদ সাংবাদিক প্রচার শুরু করলেন আমরা কেজিতে তরমুজ কিনবো না, আমাদের কাছে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করতে হবে। ব্যাস কম্ম সারা, তরমুজ বিক্রিতে ধস। বিক্রি কমে যাওয়াও বেপারি আর ক্ষেতে যায় না তরমুজ কিনতে, তরমুজ পেঁকে ফেটে নস্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকের রক্তের প্রবাহ বেড়ে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, তাঁর গত কয়েক মাসের পরিশ্রম জলে ভাসিয়ে দিয়ে মার্ক জুকারবাগের বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকাভূক্ত হতে সহায়তা করছে।

    একটি কৃষি পণ্য কৃষকের ক্ষেত থেকে ভোক্তা পর্যন্ত আসতে কতটি হাত বদল হয় ও কত খরচ হয়? এ সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি। কৃষক যে হাটে বিক্রি করে সেখান থেকে বেপারী কেনে। লেবার দিয়ে বেপারী তার গোডাউনে নিয়ে আসে, কোন সময় ক্ষেত থেকে ট্রাকে লোড হয়, আবার জমিতে ট্রাক না পৌছালে গোডাউন থেকে ট্রাকে লোড হয়। ট্রাক বরিশাল বিভাগ থেকে কারওয়ান বাজার সহ দেশের অন্যান্য জায়গায় পৌছাতে কতগুলো ব্রীজের টোল, আর রাস্তা খরচ দিতে হয় তা আমরা সবাই জানি।

    এরপর ট্রাক পৌছালে সেখান থেকে আড়তের গোডাউনে আনলোডিং, সেখান থেকে পাইকারি বিক্রেতা এরপর খুচরা বিক্রেতা, সবশেষে ভোক্তা। মাঝে আড়তের অ্যাডভান্স ও ভাড়া, পাইকারি বিক্রেতার গোডাউন ও মাসিক ভাড়া, খুচরা দোকানদারের এডভান্স ও দোকান ভাড়া, ভ্যানওয়ালার ভ্যান বানানো খরচ ও যেখানে বিক্রি করবে সেই জায়গার মাস্তানি ট্যাক্স। সব মিলিয়ে তরমুজ, শসা, ও ড্রাগন পেয়ারা বেচারারা কতবার যে নিজেদের ভ্যালু এ্যাড করেছে, তা তাঁরা নিজেরাও জানেনা।

    এখন আমরা যারা ভোক্তা তাঁরা প্রশ্ন করি ১০ টাকার শসা কেন আমরা ৪০ টাকায় কিনবো, কৃষকের নিকট থেকে পিসে কেনা তরমুজ কেন ওজনে কিনবো? কিন্তু এই প্রশ্নগুলো আসলে কার কাছে করছি? এই দাম বৃদ্ধির দায়ভার কার? কে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে? প্রশ্ন সবার, জবাব কারোও কাছে নেই। আমরা জানি অফিস আদালতে বা বাড়িতে ব্যবহৃত কাঁচ ওজনে বিক্রি হয় পাইককিরি ভাবে আর

    আমরা কিনে আনি স্কয়ার ফিট হিসেবে, কিন্তু এটা নিয়ে কোন দিনও কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখিনি, আবার কেউ বয়কটের ডাক দিয়েছে এমন প্রমাণও নেই। তাহলে শুধুমাত্র কৃষকের উপর কেন এত ক্ষোভ ও রাগ যে কিছু হলেই কৃষি পণ্য বয়কট করতে হবে।

    কৃষক যদি সংগঠিত হয়ে কৃষি পণ্য উৎপাদন বয়কট করে তখন কি হবে? অতিরিক্ত টাকা কি শহরে যে ভ্যানওয়ালা বা দোকানদার খুচরা বিক্রি করছে সে একাই নিচ্ছে, নাকি এই টাকা ট্রাকের ড্রাইভার, ভ্যানচালক, লোড ও আনলোডের লেবার, প্যাকিং লেবার, টোল গ্রহিতা আরোও কতজনের পকেটে গিয়ে তাঁদের সংসার চলে?

    আমি ভোক্তা যদি ১০ টাকায় শসা ও পিস হিসেবে তরমুজ খেতে চাই, তাহলে সরাসরি টাকা খরচ করে কৃষকের নিকট গিয়ে কিনে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সে সময় তো আমাদের কাছে নেই, তাহলে কেন আমরা বারে বারেই কৃষকের ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছি, তথাকথিত ইউটিউবার ও ফেসবুকিংদের কথায়। আমাদের নাচা বন্ধ করতে হবে, যতদিন না আমরা বুঝবো যে, আমার নাচানাচির কারণে কতটি সংসার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, ততদিন এ সমস্যার সুরাহা হবেনা।

    আমি কাউকে কটাক্ষ বা ছোট করার জন্য কথাগুলো বলিনি, বাস্তবতা তুলে ধরেছি মাত্র। অযথা কেউ কস্ট পাবেন না, কস্ট পেলে জোড় হাতে ক্ষমা চাইছি।

    ধন্যবাদ, প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক কৃষক কণ্ঠ।

  • কিনোয়া ও চিয়া সিড চাষে, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা

    কিনোয়া ও চিয়া সিড চাষে, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা

    দিনাজপুরের হিলিতে এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা, শামীম খান, প্রথমবারের মতো কিনোয়া ও চিয়া সিড চাষের প্রয়োজন মহুল প্রকাশ করেছেন। এই অভিজ্ঞতার ফলে উপকূলের কৃষকরা নতুন ফসল চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থাগুলি এই প্রচেষ্টার সহায়তায় নির্দিষ্ট সফলতা লাভ করছেন।

    শামীম খান, একজন হিলির বোয়ালদার গ্রামের মূল বাসিন্দা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাস্টার্স অনার্স করেছেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি করেছিলেন, তবে তার কৃষিকাজে আগ্রহ ছিলো। তাই তিনি বেসরকারি জীবিকায় বিদ্যমান না থাকেন। বরং তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন কৃষিকাজে।

    শামীম খান জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপারফুড হিসেবে পরিচিত কিনোয়া বীজটি আপাত কিন্তু পুষ্টিমান। তাই তিনি প্রথম চেষ্টা চালানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে বীজ সংগ্রহ করেন এবং ৪২ শতাংশ জমিতে আবাদ করেন। ফলে এই অঞ্চলে নতুন এই ফসল চাষাবাদে একটি নতুন সম্ভাবনা প্রতীত হয়েছে।

    এখানে চাষ করা যায় ৬০-৭০ দিনের মধ্যে। প্রতি বিঘা জমি থেকে তিন-চার মণ পরিমাণে ফলন হতে পারে। আপাত বাজার জনপ্রিয় নয়, কিন্তু প্রতি কেজি কিনোয়ার দাম ৬০০-৮০০ টাকা।

    শামীম খানের সফলতা একটি আশাবাদী উদাহরণ। তার অভিজ্ঞতার পরিণতি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আরো এই ফসল চাষাবাদের উপর আগ্রহ উৎপাদন করছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থাগুলি যথাযথ সহায়তার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টার অনুষ্ঠান লাভবান হয়েছে।.

  • কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান: উন্নতির পথ

    কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান: উন্নতির পথ

    পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান

    বাংলাদেশে, কৃষি একটি প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য মুখ্য মাধ্যম। এই  কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি, নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তাদের সংখ্যা অধিক হচ্ছে যা একটি সামাজিক পরিবর্তনের চিহ্নিত উদাহরণ।

    নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে অনেক উপকারের দিকে এগিয়ে এসেছে। তারা অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চলে বাস করে এবং মুখ্যতঃ পারিবারিক কৃষি করেন। নারীদের কৃষিতে অবদান করা কৃষিকাজের সমগ্র প্রক্রিয়ায় উন্নতি আনে, সংস্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ফলন উৎপাদন বৃদ্ধি করে, সহজে অস্ত্রোপচার করে এবং পরিবেশের সংরক্ষণের দিকে মনোনিবেশ সৃষ্টি করে।

    সাথে সাথে, নারীদের কৃষি কর্ম দ্বারা তাদের আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায়, স্থানীয় সম্প্রদায়ে সামাজিক অবদান করে এবং সমাজে উন্নত অবস্থা সৃষ্টি করে। এছাড়াও, নারীদের কৃষি প্রযুক্তিগত প্রভাবে শিক্ষার স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উন্নতি এবং সামাজিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে।

    এই প্রক্রিয়ায় নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির একটি অগ্রণী প্রয়োজনা। সরকার এবং সংস্থাগুলির সাথে কাজ করে, নারীদের কৃষি ক্ষেত্রে অধিক সুযোগ ও সুবিধা সৃষ্টি করা একটি প্রয়োজন।

    সুতরাং, কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অর্থনৈতিক মুক্তির পথে একটি প্রধান উদাহরণ।

    FB page: Clink hare

  • জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।

    বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।

    সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও  ভালো ফলন দেখা যায়।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩

    আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।

    এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।

    সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।

    কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।

    জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

    চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।

    লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

    ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।

    লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।

    চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।