hacklink hack forum hacklink film izle hacklink romabetkingbet188onwintaraftarium24deneme.bonusu veren.sitelercasinolevant

Category: পোলট্রি

  • ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং: প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

    ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং: প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

    আসিয়া আফরিন চৌধুরী  ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর কৃত্রিমভাবে তাপ প্রদান করে তাদের লালন-পালনের প্রক্রিয়াকে ব্রুডিং বলা হয়। নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সুষ্ঠুভাবে বড় করা ব্রুডিং-এর প্রধান লক্ষ্য। ব্রুডিং-এর সময় নির্দিষ্ট মাত্রায় তাপ সরবরাহ করা হয়, যা ব্রুডিং তাপমাত্রা নামে পরিচিত। এ তাপ সরবরাহের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ব্রুডার বলে। সাধারণত ঋতুভেদে ব্রয়লার বাচ্চাগুলোকে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ব্রুডিং করা হয় যাতে তারা আরামবোধ করে এবং নিরাপদ থাকে।

    ব্রুডিং-এর উদ্দেশ্য

    • বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় তাপ সরবরাহ করা।
    • ধকল থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করা।
    • খাদ্য ও পানি গ্রহণ নিশ্চিত করা।
    • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
    • দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
    • টিকার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।

    ব্রুডিং-এর গুরুত্ব

    সাধারণত হ্যাচারিতে ডিম থেকে ফুটে বের হওয়ার পর বাচ্চাগুলো নিজেদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই ব্রুডিং দ্বারা তাদের জন্য পর্যাপ্ত তাপ সরবরাহ করা জরুরি। সাধারণত বাচ্চাগুলো ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করে।

    বাচ্চাগুলোর পেটে অবশিষ্ট ডিমের কুসুম ধীরে ধীরে শোষিত হয়। একটি সদ্য ফুটে ওঠা ৪০ গ্রাম ওজনের বাচ্চার পেটে প্রায় ৪ গ্রাম কুসুম থাকে। যদি ব্রুডিং, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা সঠিকভাবে করা হয়, তাহলে ৩-৪ দিনের মধ্যেই কুসুম শোষিত হয়। তবে ব্রুডিং সঠিকভাবে না হলে এই কুসুম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং খামারে লোকসানের কারণ হতে পারে।

    ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং প্রস্তুতি

    সুষ্ঠুভাবে ব্রুডিং সম্পন্ন করতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা উচিত:

                  পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:

      • শেডের দেয়াল চুনকাম করতে হবে।
      • শেডের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
      • জীবাণুনাশক ছিটিয়ে শেডকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
      • খাদ্যপাত্র, পানির পাত্র, ব্রুডার, চিকগার্ড, তুষ ইত্যাদি ধুয়ে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন।
      • শেডের মেঝে কাঁচা হলে জীবাণুনাশক (যেমন ৯ লিটার পানিতে ১ লিটার ফরমালিন) প্রয়োগ করতে হবে।সঠিক তাপমাত্রা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা:
        • শেডের পর্দা বন্ধ রাখতে হবে, তবে ওপরের দিকে ১ ফুট খোলা রাখতে হবে।
        • শুকনো মেঝেতে নতুন তুষ বিছিয়ে দিতে হবে।
        • ব্রুডার এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে প্রয়োজনে ওঠানো-নামানো যায়।
        • ব্রুডারের সব লাইট কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।
        • চিকগার্ড দিয়ে ব্রুডার, খাদ্যপাত্র ও পানির পাত্র ঘিরে রাখতে হবে।
        • শেডের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শেডের চার কোনায় ও মাঝখানে থার্মোমিটার স্থাপন করা দরকার।
    1. ফিউমিগেশন প্রক্রিয়া:
      • বাচ্চা তোলার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই ব্রুডার চালু রেখে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে।
      • ব্রুডারের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখা উচিত।
      • শেডের দরজা ও পর্দা বন্ধ করে ফরমালিন ও পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ফিউমিগেশন করতে হবে।
      • ফিউমিগেশনের সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে ধোঁয়া চোখে না লাগে।

    ব্রুডিং-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

    • উন্নতমানের হ্যাচারি থেকে স্বাস্থ্যকর ও সুস্থ ব্রয়লার বাচ্চা সংগ্রহ করা।
    • ব্রুডিং সংক্রান্ত পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
    • আধুনিক ব্রুডিং পদ্ধতি (যেমন গ্যাস ব্রুডিং) ব্যবহার করা।
    • প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি (ফিডার, ড্রিংকার, লিটার, থার্মোমিটার, চিকগার্ড ইত্যাদি) যথাযথভাবে স্থাপন করা।
    • উন্নতমানের খাদ্য, নিরাপদ পানি এবং নির্দিষ্ট সময়ে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা।
    • খামারে জীব নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
    • সর্বোপরি, খামার পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

    সঠিক ব্রুডিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ব্রয়লার বাচ্চাদের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি ভালো হবে, ফলে খামারের লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • হাঁসের খাদ্য গ্রহণ ও পরিমানের তালিকা

    হাঁসের খাদ্য গ্রহণ ও পরিমানের তালিকা

    হাঁসের খাওয়ার অভ্যাস ও খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা তাদের শারীরিক বৃদ্ধি, উৎপাদন এবং সুষম স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। হাঁস, যা জলজ পাখি হিসেবে পরিচিত, পুকুর, নদী ও অন্যান্য জলাশয় থেকে ছোট জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ খেয়ে জীবন ধারণ করে। কিন্তু বাণিজ্যিক হাঁস পালন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সঠিক খাদ্য ও সুষম রেশন প্রদান অত্যন্ত প্রয়োজন।

    হাঁসের খাদ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া

    হাঁসের খাবারের ধরন, পরিমাণ এবং খাদ্যের উপাদানগুলি তাদের বয়স, জাত, জীবনধারা ও উৎপাদন পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত হাঁসেরা শুষ্ক খাদ্যের চেয়ে ভেজা খাদ্য পছন্দ করে, কারণ তারা খাবারের সঙ্গে পানি মিশিয়ে খেতে অভ্যস্ত। হাঁসের খাদ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া তাদের শারীরিক সুস্থতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    হাঁসের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ

    হাঁসের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ তাদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধি পায়। একটি ছোট হাঁসের বাচ্চা প্রথম সপ্তাহে মাত্র ১৫ গ্রাম খাবার গ্রহণ করে, যা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ৮ সপ্তাহ বয়সী হাঁসের দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৫৫ গ্রাম হয়ে দাঁড়ায়। বড় হাঁস, বিশেষত প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসের ক্ষেত্রে, প্রতিদিন ১২৫ গ্রাম খাবার গ্রহণের প্রয়োজন হয়। খাদ্যের এই পরিমাণ হাঁসের প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সাহায্য করে এবং তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    হাঁসের রেশন: বয়স ও উদ্দেশ্য অনুসারে

    হাঁসের খাদ্য সরবরাহ তিনটি প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা হয়:

    প্রারম্ভিক রেশন (০-৪ সপ্তাহ): হাঁসের বাচ্চাদের জন্য সঠিক পুষ্টির অভ্যস্ততা তৈরি করা হয় যাতে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ এবং শক্তিশালী হয়।

    বাড়ন্ত রেশন (৫-১৯ সপ্তাহ): এ পর্যায়ে হাঁসের শারীরিক বৃদ্ধি অনেকটাই উন্নতি পায়, তাই সুষম খাদ্য সরবরাহ করা হয় যা তাদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    লেয়ার রেশন (২০ সপ্তাহ থেকে পরবর্তী সময়): এই সময়ে হাঁসের উৎপাদনশীলতা এবং ডিম পাড়ার জন্য উচ্চমানের প্রোটিন এবং পুষ্টির উপাদান প্রয়োজন, যা ডিম উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

    হাঁসের খাদ্য উপকরণ

    হাঁসের খাদ্য রেশন তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপকরণ ব্যবহৃত হয়। এদের মধ্যে ভুট্টার গুঁড়া, ধানের কুঁড়া, খৈল, শুঁটকি মাছের গুঁড়া, শামুকের খোসা চূর্ণ, সয়াবিন মিল ইত্যাদি রয়েছে। প্রতিটি খাদ্য উপকরণ হাঁসের বয়স এবং খাদ্য চাহিদার ওপর নির্ভর করে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রারম্ভিক রেশনে ভুট্টার গুঁড়া সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়, তবে বয়স্ক হাঁসের জন্য ধানের কুঁড়া এবং শামুকের খোসা চূর্ণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

    সঠিক খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব

    হাঁসের সঠিক খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। সঠিক খাদ্য ও পানি সরবরাহ হাঁসের মাংস এবং ডিমের উৎপাদন বাড়ায়, যা পালকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। হাঁসের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করার সময় প্রতিটি উপকরণের সঠিক পরিমাণ ও মিশ্রণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে হাঁস সুস্থ থাকে এবং তাদের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

    হাঁসের খাদ্য গ্রহণ ও পরিমাণ নির্ধারণ করা, তাদের সঠিক রেশন ও পুষ্টির মিশ্রণ তৈরি করা, এবং খাবারের সঙ্গে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি সফল হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁসের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত খাদ্য পরিবর্তন এবং সুষম খাদ্য সরবরাহ করা অপরিহার্য। তাই, পালকরা যদি হাঁসের খাদ্য গ্রহণ ও পরিমানের দিকে সঠিকভাবে নজর দেন, তবে তাদের পালনের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক হবে।

  • নেত্রকোনায় হাওরে হাঁসের খামার করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

    নেত্রকোনায় হাওরে হাঁসের খামার করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

    বাসস : হাওরে হাঁসের খামার করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। হাওরে রয়েছে প্রকৃতির নানান বৈচিত্র্য, এখানে বর্ষায় এক রূপ, শীতকালে অন্যরূপ।হাওর প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় চরিত্রের সাথে তাল মিলিয়ে এ অঞ্চলের কৃষকেরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যে ভিন্ন কিছু করার। ধান, মাছ চাষ করার পাশাপাশি হাওরে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাঁসের খামার।হাওরে ধান উৎপাদনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক সময় ফসল নষ্ট  হওয়ার আশংকা থাকে।
    কিন্তু হাঁসের খামারে এমন সম্ভাবনা কম থাকায় নিশ্চিত মুনাফার আশায় এ অঞ্চলে হাঁসের খামার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    বাসস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছিলেন নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুরের নূরপুর বোয়ালি গ্রামের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী সজল মিয়া, হাওরপারে তাঁর একটি হাঁসের খামার রয়েছে। ৩১০০ শত হাঁসের এ খামারটিতে ডিম দেয় প্রায় ১৮০০ টি হাঁস।তার খামারে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়,হাঁসের বাচ্চা, ডিম এবং হাঁস বিক্রি করে বছরে ৬০-৭০ লাখ টাকা আয় করেন তিনি।তার খামারে চৈত্র  মাসে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করা হয় এবং সে বাচ্চা জৈষ্ঠ্যমাসের শেষের দিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়,তার খামার থেকে ডিম পাঠানো হয় ঢাকা, নোয়াখালী, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।কৃষক বাবার সংসারে আর্থিক টানাপোড়ন চলছিল, বাবাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার জন্যে ই তিনি এ খামার গড়ে তুলেন।প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রশিক্ষণ না থাকলেও হাওরাঞ্চলে অনেক কৃষক বংশ পরম্পরায় পূর্বপুরুষদের শেখানো পদ্ধতিতে কৃষিকাজ ও হাঁস পালন করে আসছেন।

    হাওরপারের বোয়ালী গ্রামের  কৃষক আলী হোসেন জানান,

    ” ধান চাষের পাশাপাশি  হাঁসের খামার করে আমরা লাভবান হচ্ছি,বন্যার পানি এসে অনেক বছর আমাদের ফসল নষ্ট করে দেয়,ফসল নষ্ট হলে আমরা তা ঘরে তুলতে পারি না।বছরে একটিমাত্র ফসল নষ্ট হয়ে গেলে সারাবছর আমাদের কষ্ট করে চলতে হয়,ফসল বিক্রি করেই আমাদের সংসার খরচ চলে,এজন্যই ধান চাষের পাশাপাশি আমরা লাভজনক কিছু করার চেষ্টা করছি,হাঁসের খামারে কম সময়ে বেশি লাভ করা যায়”

    একই গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান,
    “হাঁস পালনে তেমন কোন ঝুঁকি না থাকায় কম সময়ে আমরা বেশি লাভবান হতে পারি, বর্ষায় মাঠঘাট যখন পানির নিচে থাকে তখন আমাদের বিকল্প কিছু করার থাকে না।হাঁসের খামার করে তখন আমরা সময় কাটাই,এতে একই  সঙ্গে আমাদের নিজেদের আমিষের চাহিদা মিটাই এবং হাঁসের মাংস, ডিম বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হই”

    নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাসস প্রতিনিধিকে জানান,
    “নেত্রকোনার মানুষ এখন হাঁসের খামার করার জন্য বেশ আগ্রহী এবং তারা খামার করে লাভবান হচ্ছেন।আমরা ইতিমধ্যে এলডিডিপি প্রজেক্টের মাধ্যমে হাঁসের প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) তৈরি করেছি এবং সে সমস্ত পিজিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিদের উন্নত, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে,হাঁসের যেসব রোগবালাই হয় সেগুলোর জন্যে ভ্যাক্সিন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি,বিশেষ করে ডাকপ্ল্যাগ এবং  ডাক কলেরা,আমাদের প্রতিটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা রয়েছে  এবং খামারিদেরকেও আমরা উদ্ভুদ্ধ করছি তারা যেন ভ্যাক্সিন দেয়।হাঁসের এসব রোগ যদি প্রতিরোধ করতে পারি তাহলে এ পেশায় আরো অধিক সংখ্যক লোক সম্পৃক্ত হবেন।আশা করি আমরা খুব তাড়াতাড়ি এর একটি সুফল পাবো।হাঁসের মাংসের ব্যাপক চাহিদা বাংলাদেশে,এখান থেকে  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে  হাঁস সরবরাহ করা হচ্ছে, হাঁসের মাংস এবং ডিমের জনপ্রিয়তা দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে। আমাদের নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কুটুরিকোনা গ্রামে প্রায় ২০০ টি পরিবার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন । এখানকার হাঁসের বাচ্চা দেশব্যাপী সরবরাহ করা হচ্ছে।হাঁস লালন পালনে সকল প্রযুক্তিগত  সহযোগিতা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে দেয়ার সর্বোচ্ছ চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নেত্রকোনা জেলায় সরকারিভাবে একটি হাঁসের হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে, এখানে থেকে উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা এ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করার পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।নেত্রকোনা জেলায় হাঁসের উৎপাদন এবং হাঁসের খামারে কিভাবে আরো সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে আমি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের  সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”

    উল্লেখ্য যে, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে নেত্রকোনা জেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ডিম, মাংস, দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় ডিমের চাহিদা ছিলো ৫৩ কোটি,উৎপাদন হয়েছে  ৫৩.৮০ কোটি, মাংস উৎপাদনের চাহিদা ছিলো ১.৭৩ লক্ষ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয়েছে ১.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের  লক্ষ্যমাত্রা ছিলো  ২.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে ২.৯০ লক্ষ মেট্রিক টন।

     

  • তিতির পালনে সাবলম্বী রাজবাড়ীর রুবেল

    তিতির পালনে সাবলম্বী রাজবাড়ীর রুবেল

    বেকারত্ব দূর ও কর্মস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমানে নতুন নতুন উদ্যোক্তা ও খামারির উদ্ভব ঘটেছে। এতে শ্রম ও ঘাম দিয়ে সফল হচ্ছেন অনেকেই। তেমনই একজন যুবক রাজবাড়ীর সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের রাজু আহম্মেদ রুবেল।

    বাড়ির আঙিনায় সাড়ে ৩ বছর আগে শখের বশে মাত্র ১৩টি তিতির পাখি দিয়ে শুরু করেন রুবেল। এখন খামারে আছে ছোট-বড় প্রায় ৯০০ তিতির। অল্প খরচ ও কষ্টে তিতির পাখি পালন লাভজনক হওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন করছেন। নিজের খামারের ডিম দিয়েই মেশিনের সাহায্যে প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন প্রায় ৩ হাজার বাচ্চা। যা মুহূর্তের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী পারছেন না সরবরাহ করতে।খামারের খরচ বাদ দিয়ে এখন প্রতি মাসে আয় প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা। তার সফলতা দেখে আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানের অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন তিতির পালনে। এই তিতির পাখির মাংস সুস্বাদু হওয়ায় বেশ চাহিদা আছে। তবে সরকারি ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পেলে তিতির পাখি পালন করে বেকারত্ব দূরসহ স্বাবলম্বী হবেন রুবেলের মতো তরুণ খামারিরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শখের বশে ২০২১ সালের মাঝামাঝি ১৩টি তিতির পাখি এনে লালন-পালন শুরু করেন তরুণ উদ্যোক্তা রাজু আহম্মেদ রুবেল। এখন তার খামারের ৪টি শেডে আলাদা আলাদা স্থানে ছোট-বড় ৯০০ তিতির পাখি আছে। যার মধ্যে প্রায় ৪০০-৫০০ আছে ডিম দেওয়া পাখি। ডিম থেকে তিনি মেশিনের সাহায্যে প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার বাচ্চা।তিতির পাখি দেখতে অনেকটাই মুরগির মতো। মুরগির মতো ছেড়ে বা খামারে পালন করা যায়। অন্য মুরগির মতোই দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। ফলে পালাক্রমে বাড়ির সবাই মিলে খামার পরিচর্যা করেন। ডিম দেওয়া এক জোড়া পাখির দাম ৩ হাজার, ১ মাসের বাচ্চা প্রতি পিস ২০০ ও সদ্য ভূমিষ্ট বাচ্চা ৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে খামার পরিচর্যায় সব মিলিয়ে ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। আয় হয় প্রায় ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

    এদিকে দিন দিন তিতির পাখি ও বাচ্চার চাহিদা বাড়ায় আশপাশের অনেকের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে স্বল্প পরিসরে শুরুও করেছেন। অন্যদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে তিতির পাখির কোনো খামার বা উদ্যোক্তার তথ্য নেই। তবে তারা উদ্যোক্তা বা খামারিদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় মিরাজুল ইসলাম এবং পরান শেখ বলেন, ‘তিতির পাখির খামার ও সফলতা দেখে আশপাশের অনেকেই খামার থেকে বাচ্চা নিয়ে ছোট পরিসরে লালন-পালন শুরু করেছেন। তাছাড়া দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন বাচ্চা ও বড় তিতির নিতে। এ পাখি পালনে সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে বেকার যুবকসহ তরুণ উদ্যোক্তরা উপকৃত হবেন।’

    রাজু আহম্মেদ রুবেলের স্ত্রী হালিমা বলেন, ‘আমার স্বামী শখের বশে তিতির পালন শুরু করলেও এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক ভাবে পালন করছেন। খামারের আয় দিয়েই যাবতীয় খরচ চলে। সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে খামার আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো।’

    সফল খামারি রাজু আহম্মেদ রুবেল বলেন, ‘এ পাখি পালন খুবই লাভজনক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক ভালো। সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পেলে খামারের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবো। বর্তমানে প্রতি মাসে সব মিলিয়ে ৯০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এখান থেকে আয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬০-৭০ হাজার টাকা।’রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘এটি সম্ভাবনাময় খাত। তিতির পাখির মাংস মুরগির মাংসের মতোই। এটি লালন-পালন দেশি বা সোনালি মুরগির চেয়ে বেশি লাভজনক। এর বাজারমূল্য বয়লার বা সোনালি মুরগির চেয়ে বেশি। অনেকে সৌখিন পাখি হিসেবেও পালন করেন। পাখিটি ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর সব সময় এ বিষয়ে খামারি বা উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছে।’

  • বাউফলে পোল্ট্রি খামার: বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বীতার পথে

    বাউফলে পোল্ট্রি খামার: বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বীতার পথে

    সাইফুল ইসলাম ,পটুয়াখালী প্রতিনিধি   গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে বাউফলে পোল্ট্রি খামার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। স্বল্প পুঁজি থেকে শুরু করে আজ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অনেক খামারি। বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে, যা শুধু স্থানীয় চাহিদাই নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার চাহিদাও মেটাচ্ছে।

    সাইফুল ইসলাম রিপনের গল্প এই সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা তার যাত্রা আজ ৩০ লাখ টাকার সম্পদে রূপ নিয়েছে। খেজুরবাড়িয়া গ্রামে ৩ একর জমিতে তার ৮টি পোল্ট্রি ফার্ম, যেখানে প্রতিদিন ১৪শ নবাজন মুরগী থেকে পাচ্ছেন প্রায় ৭ হাজার টাকার আয়।

    বাউফলের পোল্ট্রি শিল্পের সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধার সহজলভ্যতা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে স্থানীয় অভিজ্ঞ খামারিদের পরামর্শ – সবই এই শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    বাউফল পোল্ট্রি ফার্ম সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি বাচ্ছু সিকদারের মতে, সফল পোল্ট্রি খামারের জন্য স্থানীয় আবহাওয়া সম্পর্কে জ্ঞান, উপযুক্ত হাউজিং ব্যবস্থা, এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। এই খামারগুলো শুধু আর্থিক স্বাবলম্বীতাই নয়, দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    গ্রাম বাংলার এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। বাউফলের পোল্ট্রি খামারগুলো আজ সেই সম্ভাবনার জীবন্ত উদাহরণ।

  • সফল পোলট্রি ব্যবসা: একজন খামারীর বাস্তব জীবনের পরামর্শ

    সফল পোলট্রি ব্যবসা: একজন খামারীর বাস্তব জীবনের পরামর্শ

    সফল পোলট্রি ব্যবসা করতে চাইলে বাস্তব পরামর্শ আবশ্যক। আর এক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায় হলো একজন খামারীর বাস্তব জীবনের পরামর্শ নেয়া। কারণ এর মাধ্যমে এমন অনেক কিছু শেখা যায় যা প্রশিক্ষণ দ্বারা শেখা সম্ভব না।সফল পোলট্রি ব্যবসা প্রত্যেক খামারীর স্বপ্ন। একজন খামারী তার ব্যবসা পরিচালনার পথে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। যার অনেক কিছুই তার একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব হয়না।

    এমন অবস্থায়, তিনি যদি একজন সফল খামারীর পরামর্শ নেন, তবে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে কোনো রকম লোকসান হওয়া ছাড়াই। একারণেই আমরা সর্বদা পরামর্শ দেই একজন খামারীর থেকে উপযুক্ত পরামর্শ নিতে।

    একজন সফল খামারীর বাস্তব জীবনের পরিচিতি

    পোলট্রি খামারীর বাস্তব পরামর্শ পেতে হলে একজন খামারীর বাস্তব জীবন সম্পর্কে প্রথমে জেনে নেয়া প্রয়োজন। আমরা আজ এখানে বিশেষ কোনো খামারীর নাম উল্লেখ করব না। বরং সামগ্রিক ভাবে বিভিন্ন খামারীদের সাথে কথা বলে যে বাস্তব জীবনের পরিচিতি পেয়েছি, সেটাই তুলে ধরব। সফল খামারী হওয়ার পথ কখনোই মসৃণ নয়। প্রায় সব খামারী অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থা থেকেই শুরু করেছেন তাদের খামার।

    দারিদ্র‍্যে জর্জরিত হয়ে নিজের শেষ সম্বল টুকু দিয়ে অথবা ঋণ করে পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন এক একটি খামার। অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলও পেয়েছেন তারা। তাদের কেউ আজ একের অধিক খামারেরও মালিক। কিন্তু কেমন ছিল তাদের প্রস্তুতির সময়কাল বা এই দীর্ঘ যাত্রা। চলুন ধাপে ধাপে সেগুলো জেনে নেই।

    পোলট্রি খামার শুরু করার সময়ে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন

    পোলট্রি খামার শুরু করার সময় প্রথমত যে প্রস্তুতি প্রয়োজন তা হলো পরিকল্পনা। একটি খামার পরিচালনার পূর্বে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হয়। খামারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মুরগীর জাত ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষদ জানা আবশ্যক।

    প্রস্তুতিগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-

    • আলো-বাতাস সমৃদ্ধ উঁচু জায়গা সন্ধান যেখানে খামার স্থাপন করা যায়।
    • সুপরিকল্পিত বাজেট তৈরী।
    • খামার নির্মাণের সরঞ্জাম ক্রয়।
    • সঠিক মুরগীর জাত নির্বাচন এবং ক্রয়।
    • মুরগীর খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা 
    • খামারে লোক নিয়োগ করা সম্ভব কিনা তা বিচার করা। যদি বাজেটে সংকুলান হয়, তবে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কর্মচারীর ব্যবস্থা করা।
    • খামারের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করা।
    • পণ্য বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ। 

    পোলট্রি খামার পরিচালনার জন্য কার্যকর কৌশল ও পরিকল্পনা

    পোলট্রি খামার পরিচালনা করতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটি হলো পোলট্রি ব্যবসার কৌশল। যে খামারী যত বেশি কৌশলী, তার খামারের উন্নতি তত বেশি। পরিকল্পনা বা কৌশল যেটাই হোক না কেনো, তার মূল দিক হলো কীভাবে অল্প বাজেটে লাভ বেশি করা যায়। খামার পরিচালনায় বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা দ্বারা এসব সমস্যার সমাধান করা গেলেও সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না।

    একারণে খামারের সাধারণ সমস্যা এবং তাদের সমাধান পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ। 

     এবং তাদের কার্যকর সমাধান কৌশল

    উপর্যুক্ত তথ্য থেকে আমরা জেনেছি, খামারের সাধারণ সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা কতটা জরুরী। মূলত পোলট্রি খামারে সফলতা অর্জন এর উপরই নির্ভরশীল। তাই পোলট্রি খামারের সমস্যা ও সমাধান পদ্ধতিগুলো নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করব-

    • পোলট্রি খামারী হওয়ার পরামর্শ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মুরগীর জাত নির্বাচন। শুরুর দিকে এ সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। ডিম এবং মাংস উভয়ই উৎপাদন করতে চাইলে উপযুক্ত জাত নির্বাচন আবশ্যক।
    • পোলট্রি খামারের চ্যালেঞ্জ প্রায় সময়ই উদ্ভুত হতে দেখা যায়। আর তার মধ্যে প্রধান হলো বাজেট সমস্যা। খাদ্য ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট ব্যয় করতে দেখা যায় কিছু খামারী। পরবর্তীতে যা লাভের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেয়। তাই বাজেট যতটা সম্ভব কম করতে হবে।
    • সফল খামারী হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সফল খামারীদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তারা বেশ পরিশ্রমী। তাই সমস্যা দেখে ধৈর্য হারা হওয়াটাও বেশ বড় একটা সমস্যা হিসেবেই দেখা হয়।
    • পোলট্রি খামারের ঝুঁকি থাকবেই। এক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঝুঁকির ভয়ে খামার গুটিয়ে ফেললে চলবে না।

    পোলট্রি খামারের ভবিষ্যত উন্নতি এবং বৃদ্ধি কৌশল

    পোলট্রি খামারে লাভ বৃদ্ধি করতে চাইলে খামারে সময় ও সম্পদের ব্যবস্থাপনা সঠিক হওয়া চাই। এক্ষেত্রে পোলট্রি ব্যবসার বৃদ্ধি কৌশল সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। পোলট্রি খামার নিকট ভবিষ্যতে এদেশের বেশ বড় একটা শিল্প হতে চলেছে। খামারে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োগ করলে এ দিন আর বেশি দূরে নয়। তাই খামারী হওয়ার টিপস সম্পর্কে বিষদভাবে জানতে হবে। 

    মুরগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং বাকারজাতকরণ- এ তিনটি বিষয়ে পান্ডিত্য থাকলে অতি সহজেই পোলট্রি ব্যবসায় লাভ করা যায়। পাশাপাশি, পোলট্রি খামারে প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক। 

    তাই, সাধ্যমত প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পোলট্রি খামারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করলে অতি দ্রুত এ ব্যবসায় প্রসার লাভ করা সম্ভব।

    পোলট্রি ব্যবসা সম্পর্কে এতক্ষণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলাম আমরা। যেকোনো নতুন খামারী উদ্যোক্তার জন্য এ বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো মেনে চলা আবশ্যক। এতে একজন উদ্যোক্তা দ্রুত একজন সফল খামারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।

  • পোলট্রি খামারী হিসেবে সফল হওয়ার গল্প: একটি অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা

    পোলট্রি খামারী হিসেবে সফল হওয়ার গল্প: একটি অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা

    পোলট্রি খামারী হিসেবে সফল হওয়ার গল্প তো আমরা শুনেছি। কিন্তু এবারের গল্পটা একটু ভিন্ন। একেবারেই শোচনীয় অবস্থা থেকে মাসিক ৭০-৮০ হাজার টাকা উপার্জনকারী এক নারী উদ্যোক্তার সফলতার গল্প জানব আজ।

    একটি সফল পোলট্রি খামারের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

    পুরুষ হিসেবে সফল পোলট্রি খামারী আমাদের আশপাশে অনেককেই দেখা যায়। তবে নারীরাও যে এক্ষেত্রে আর পিছিয়ে নেই তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলেন রেহানা।চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পোল্লাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রেহানা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। শুধু কৃষিকাজের উপর নির্ভর থাকায় বেশ দৈন্যদশাতেই কাটত তাদের জীবন। কিন্তু এই নারী দৈন্যতার কাছে হার মেনে নেননি। মানবিক সাহায্য সংস্থা থেকে মহিলা ঋণদান কর্মসূচীর মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে স্বামী মোস্তফাকে নিয়ে শুরু করেন তাদের স্বপ্নের খামার। 

    বর্তমানে “মোস্তফা পোল্ট্রি ফার্ম” থেকে তার মাসিক ইনকাম ৭০-৮০ হাজার টাকা। কর্মচারী খরচসহ অন্য সব খরচ বাদ দিয়েও এ পরিমাণ অর্থ তার নিজের ইনকামের খাতায় জমা হচ্ছে। এতে এই দম্পতি স্বচ্ছলতার সাথে পরিবার চালানোর পাশাপাশি কিছু কিছু সঞ্চয় করতেও সক্ষম হচ্ছেন। যার ফলে তার সংসারে এসেছে আর্থিক স্থিতিশীলতা।

    পোলট্রি ব্যবসার শুরু

    পোলট্রি খামারী
    পোলট্রি খামারী

    রেহানার পোলট্রি ফার্ম তার জন্য যে সৌভাগ্য বয়ে এনেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই সফল হওয়ার যাত্রা এতটা সহজ ছিল না। নিতান্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক গৃহিণীর আজ নারীদের আদর্শ হওয়ার পেছনের গল্পটা বেশ পরিশ্রমের।যেহেতু তিনি ঋণ নিয়ে এই সামগ্রিক ব্যবসা শুরু করেছিলেন, তাই তাকে প্রথম দিকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সে সময় কর্মচারী রাখার সামর্থ্য না থাকায় এই দম্পতি দুজন মিলেই সব দেখাশুনা করেছেন।

    শুরুর দিকে অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা লসের সম্মুখীনও হতে হয় তাদের। কিন্তু তারা হাল ছাড়েননি। নিজেদের লক্ষ্যে স্থির থেকে ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, নতুন নতুন সাফল্য লাভের উপায় বের করার চেষ্টা করেছেন।যার ফল এই সাফল্য

    পোলট্রি খামারে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

    পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জন করার এই পথে রেহানাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এখন আমরা তার থেকেই জানব এই পোলট্রি খামারের গল্প।

    • রেহানার জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল মুরগীর জাত নির্বাচন করা। দেশী মুরগী পালনে অভ্যস্ত রেহানা তাই চিন্তা করেন এমন কোনো জাতের ব্যবস্থা করতে হবে যা মাংস এবং ডিম উভয়ই উৎপাদন করতে পারে।  
    • এরপর খামার নির্মাণ পদ্ধতি নিয়ে তাকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় কোন স্থানে খামার নির্মাণ করলে বেশি ভালো হবে তা তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে যদিও পর্যবেক্ষণ দ্বারা এ সম্পর্কে পারদর্শী হয়ে ওঠেন।
    • মুরগীর খাদ্যের জোগাড় করতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হয় তাদের। ফলে কৃষিকাজের মাধ্যমে দানা জাতীয় খাবারগুলো নিজেরাই উৎপাদন করতেন।
    • মাত্র দুজন মিলে খামার পরিচালনা করতে হত বলে মুরগীর পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করতে হত।
    • সবেচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বাজারজাতকরণ। কেননা কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলবেন তা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়।

    পোলট্রি খামারের ঝুঁকি ও পুরষ্কার

    রেহানার পোলট্রি খামারের উদ্যোক্তা কাহিনী শোনার পরে আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তাকে খামার নিয়ে কোনো ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে কিনা। তিনি জানান তাকে ঝুঁকি নিতে হয় এবং এর জন্য পুরষ্কারও পেয়েছেন তিনি।কখামার শুরুর বেশ কিছুদিন পর তিনি ভাবেন মুরগীর জাত পরিবর্তন নিয়ে। দেশী মুরগীর পাশাপাশি বাণিজ্যিক লেয়ার কিছু জাতের মুরগী আনা আবশ্যক যা তার জন্য বেশ লাভ বয়ে আনবে।এক্ষেত্রে অর্থাৎ লেয়ার মুরগী পালনে একদম নতুন হওয়ায় এটা তার জন্য ছিল অনেক বড় ঝুঁকি। কেননা সফল না হতে পারলে আবারও সেই দৈন্যতায় ফিরতে হবে তাদের।

    তবুও বেশ সাহস নিয়েই এই পদক্ষেপ নেন রেহানা এবং এতে পুরষ্কার হিসেবে যথেষ্ট সাফল্যও অর্জন করেছেন তিনি। যার ফলে তিনি এখন এত বড় খামারের মালিক।

    সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার টিপস

    পোলট্রি খামারের জীবনযাত্রা সম্পর্কিত বেশ কিছু কথা আমরা এতক্ষণ জানলাম। রেহানা-মোস্তফা এই দম্পতি তরুণ সমাজ এবং নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। আর সেই সুবাদেই পোলট্রি খামারী হিসেবে সফল হওয়ার পরামর্শ আমরা জানতে চাই তাদের কাছে।

    খামারের ব্যবসায়িক টিপস সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-

    • রেহানা এবং মোস্তফা উভয়েরই প্রথম পরামর্শ ছিল খামারীকে ধৈর্যশীল এবং পরিশ্রমী হতে হবে। প্রথম পর্যায়ে অনেক চড়াই-উৎরাই আসবে এবং তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। হাল ছাড়লে চলবে না।
    • ব্যবসায়ের জন্য সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিশেষত বাজেটিং এর ব্যাপারটা। নয়ত খরচ সামলানো দুরূহ ব্যাপার হয়ে যাবে।
    • খামারের মুরগীর জন্য ভ্যাক্সিনেশন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। ভালো হয় কোনো দক্ষ মানুষের থেকে কিংবা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিলে।
    • উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য মার্কেটিং কৌশল জানতে হবে।

    রেহানার খামারে সফলতার গল্প এবং পোলট্রি খামারে উন্নতি কৌশল সম্পর্কে এতক্ষণ বিস্তারিত জানলাম আমরা। তাই নতুনদের জন্য পরামর্শ থাকবে সফল পোলট্রি খামারের টিপসগুলো মেনে পোলট্রি খামারের সাফল্য কৌশল রপ্ত করা। এতে আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় উভয় অর্থনীতিই লাভবান হবে।

    কৃষি পাওডাক্ট

    facebook page

  • অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল

    অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল

    অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল জানতে হলে আপনাকে পোলট্রি ফার্ম সম্পর্কিত বিষদ জ্ঞান রাখতে হবে। কেননা পোলট্রি ব্যবসা সহজ হলেও এটা বেশ কৌশলী একটি ব্যবসা। তাই প্রত্যেকটি ধাপেই সচেতন থাকতে হবে।খামারীদের কাছে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় হলো অল্প বিনিয়োগে সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল। কেননা যারা খামার শুরু করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই পুঁজির পরিমাণ থাকে খুব অল্প। সার্বিক দিক দিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল থাকায় অর্থ সংকুলান করা কষ্টকর হয়।

    অনেকে আবার ধার দেনা করেও পোলট্রি খামার শুরু করেন৷ সেক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই অল্প বিনিয়োগে পোলট্রি খামার ফার্ম শুরু করতে হয়। এমতাবস্থায়, এই সংক্ষিপ্ত বিনিয়োগ থেকেই ভালো লাভ পাবার কৌশল জানতে হবে। 

    পোলট্রি খামার শুরু করার প্রস্তুতি

    পোলট্রি খামার সস্তায় শুরু করতে চাইলে অবশ্যই তার জন্য সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতির এই পর্যায়েই মূলত আপনার সাফল্য বিদ্যমান। কেননা খামার নির্মাণের সময় যদি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করেন তবে ভবিষ্যতে তা আপনার খরচ বৃদ্ধির কারণ হবে।

    পোলট্রি খামার শুরু করার টিপস হলো আপনাকে খামারের জন্য উত্তম জায়গা নির্বাচন করতে হবে যা মুরগির জন্য স্বাস্থ্যকর। এতে আপনার মুরগির রোগব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব হবে। ফলে কম খরচে পোলট্রি ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে। 

    একইসাথে, এমন জায়গায় খামার নির্মাণ করার চেষ্টা করতে হবে যেনো সরবরাহ করতে সুবিধা হয়। এতে পরিবহন খরচ কম হবে, ফলে আপনার খরচের থেকে আয় বৃদ্ধি পাবে। 

    এভাবে পোলট্রি খামার শুরু করার পদ্ধতি থেকেই শুরু হবে আপনার খামারী হওয়ার সেরা পরিকল্পনা।

    পোলট্রি খামারে খরচ কমানোর উপায়

    পোলট্রি খামারে খরচ কমাতে হলে খামারে সাশ্রয়ী কৌশল অবলম্বন করতে হবে। পোলট্রি খামারের পরিকল্পনা ও বাজেট বিষয়টির মধ্যে এটি সম্পর্কিত।খামার ব্যবস্থাপনার সময় আপনাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে বিভিন্ন খাত থেকে খরচ বাঁচানোর জন্য। এর কিছু উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো-

    • আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খামার পরিচালনা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। এতে আপনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও বাইরে থেকে লোক নিয়োগ করতে হবে না। ফলে এক্ষেত্রে খরচ বাঁচানো সম্ভব।
    • খামারের মুরগির ভ্যাক্সিনেশন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে মুরগির চিকিৎসা এবং ঔষধজনিত খরচ বেঁচে যাবে।
    • মুরগির জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর এবং সুষম খাদ্যের ব্যবস্থাপনা করতে হবে। যেনো খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মুরগি তার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে বিক্রির সময় ভালো লাভ করতে পারবেন, ডিম বেশি হবে এবং মুরগির ব্যবস্থাপনা খরচ কমবে। 
    • মুরগি নিয়মিত ভাবে সঠিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এতে কোনো মুরগির অসুখ হলেও ছড়াতে পারবে না এবং আপনার খরচ কমে যাবে। 
    • এছাড়াও, মুরগির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সবকিছু মেনে চলতে হবে। এটি নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে একটি আর্টিকেল আছে যেখানে এগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণিত। চাইলে সেগুলো দেখে নিতে পারেন। 

    লাভজনক খামার চালানোর জন্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনা 

    পোলট্রি ব্যবসা স্বল্প পুঁজি দিয়ে পোলট্রি খামারে লাভের কৌশল হলো মূলত সফল পোলট্রি খামারী হওয়ার কৌশল। আর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা হলো খামারের প্রচার বৃদ্ধি করা। এক্ষেত্রে অর্গানিক ফার্ম গড়ে তুললে আপনি দ্রুত প্রচার করতে পারবেন। কেননা বর্তমানে অর্গানিক ফার্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। এ সম্পর্কে যদি আপনি না জেনে থাকেন, তবে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিবেন। পাশাপাশি, দোকানীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যেনো তারা আপনার পণ্য নিতে পারে। এভাবে নিজের ব্যবসা প্রচার করার পরিকল্পনা বা ব্যবস্থা করতে হবে। 

    পোলট্রি খামারের ঝুঁকি ও সমাধান

    খামারে কম বিনিয়োগে বেশি লাভ করতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করার সেরা সময় কোনটি। পাশাপাশি কেনো এই সময়টাই সেরা এবং অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় সেগুলোও বুঝতে হবে-

    • শীতকালে কম তাপমাত্রার কারণে মুরগির কিছুটা জড়তা থাকে। এরা খাদ্য গ্রহণ করে কম। ফলে বাড়েও কম। আবার এই আবহাওয়ায় তারা তুলনামূলক কম ডিম দেয়। খামার যেহেতু বাচ্চা মুরগি দিয়েই শুরু করতে হয়, তাই শীতকালে কোনোভাবেই শুরু করা যাবে না। অনেক বাচ্চা মুরগি শীতকালে মারা যায়। আবার অতিরিক্ত গরমও সুবিধাজনক নয়, এজন্য শীত চলে যাওয়ার পর ফেব্রুয়ারী মার্চ সময়টা খামার তৈরীর সবচেয়ে ভালো সময়।
    • খামারে মুরগির খাদ্যের সমস্যা হলে মুরগির ঠিকমত ডিম এবং মাংস উৎপাদন করে না। অনেকে খাবার বেশি দেন, কিন্তু তাতে পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ থাকে কম। এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। খাবার সুষম হওয়া আবশ্যক যেখানে আমিষ, কার্বোহাইড্রেট সহ সবকিছু সুষম পরিমাণে থাকবে। পোলট্রির চিকিৎসা বিষয়ে যেকোনো কাজ পশু ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই করতে হবে। অন্যথায়, এতে মুরগীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
    • মুরগী যেনো অতিরিক্ত গরমে বা ঠান্ডা মারা না যায় সেজন্য মুরগীর ঘরের তাপমাত্রা সর্বদা স্বাভাবিক অর্থাৎ ২৫° সেলসিয়াস রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

    বিষয়গুলো মেনে চললে পোলট্রি খামারের মূল ঝুঁকিগুলো এড়ানো সম্ভব।

    পোলট্রি খামারে স্বল্প পুঁজি নিয়ে সফলতা লাভ করতে হলে তার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম এবং বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটানো আবশ্যক। কেননা প্রতিযোগীতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে নিজেকে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। 

    তাই আশা করা যায়, খামারী ভাইয়েরা যদি এই নীতিগুলো অনুসরণ করেন, তবে তারা অবশ্যই সাফল্য পাবেন এই কাজে।  পাশাপাশি খামার বৃদ্ধিও করতে পারবেন অতি দ্রুত।

     

  • জেনে নিন সফল পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট

    জেনে নিন সফল পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট

    পোলট্রি খামার তৈরী করা সহজ হলেও তা সঠিকভাবে পরিচালনা করে সেখান থেকে ব্যবসায়িক লাভ তুলে আনাটা বেশ কঠিন। আর এই কঠিন কাজটি সহজে করতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট রহস্য।আপনি হয়ত জিজ্ঞেস করতে পারেন যে পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট জানা কেনো এত প্রয়োজনীয়? তাহলে জেনে নিন, আমাদের দেশের অনেক কৃষক এবং তরুণরা এখন পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা করছে। 

    তবে এদের মধ্যে অনেকেই পোলট্রি ব্যবসা লাভজনক হওয়ার পরেও তেমন সুবিধা করতে পারছে না। আবার কিছু পোলট্রি উদ্যোক্তাদের খামার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে লসের জন্য। আর একারণেই আপনার খামারে যেনো এমন কোনো সমস্যা না হয় সেকারণে আপনার এই জিনিসগুলো জেনে নেয়া আবশ্যক। সফল খামারী হওয়ার মানসিকতা থাকলে আপনি অবশ্যই লাভবান হবেন।

    পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার জন্য প্রাথমিক ধারণা

    পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হলো সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং সব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে শুরু করা।

    কেননা মুরগীর খাদ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি নিয়ে বেশ ভালো ধকল পোহাতে হয় খামারীদের৷ আর এগুলো জানার পাশাপাশি নিচের সিক্রেটগুলো ফলো করলে অবশ্যই লাভ করা সম্ভব।

    পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার সিক্রেট

    উপর্যুক্ত ধারণা থেকে আপনি অবশ্যই বুঝতে পারছেন আপনার উদ্যোগ আসলে কেমন হওয়া উচিৎ। এবার সেই উদ্যোগকে সম্পূর্ণ সফল করতে জেনে নিন এই ৭টি সিক্রেট।

    সিক্রেট-১: সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি 

    সফল পোলট্রি খামারী হতে চাইলে প্রথমেই আপনার থাকতে হবে বিষদ এবং সঠিক পরিকল্পনা। খামারে সাফল্য অর্জনের কৌশল এর মধ্যে প্রথমটিই হলো সঠিক পরিকল্পনা। আপনার পরিকল্পনা হতে হবে সহজ এবং পরিষ্কার। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে শুরু করবেন, কোন মুরগীর জাত নিবেন, অর্গানিক খামার করবেন কিনা, আপনার আশপাশে মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আছে কিনা এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরিকল্পনা করতে হবে।

    প্রত্যেকটি পরিকল্পনা অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে নোট করে রাখতে হবে যেনো ভুল হবার কোনো সম্ভাবনা না থাকে। পোলট্রি খামারে সঠিক পরিকল্পনা আপনার সাফল্যের মাত্রা ৫০% পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারে।

     

    সিক্রেট ২: সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার

    সিক্রেট ১ অনুযায়ী, আপনি আপনার সঠিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। তাহলে আপনার পরবর্তী কাজ বা ধাপ হলো সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার। এক্ষেত্রে আপনার পোলট্রি খামারের টিপস ও ট্রিক্স হিসেবে একটি স্পেশাল ট্রিকস ব্যবহার করতে পারেন। ধরুন, আপনার খামারের জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। কিন্তু পুকুর আছে, সেক্ষেত্রে পুকুরের উপরও আপনি ফার্ম তৈরী করতে পারেন।

    এতে পুকুরে মাছ চাষ এবং উপরে পোল্ট্রি খামার দুটোই করতে পারেন যা পোলট্রি খামারে অর্থনৈতিক সাফল্যে এনে দিতে পারে। এছাড়াও সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে।অর্থাৎ মুরগীর সকল খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক সময়ে হওয়া উচিৎ। এভাবে খামারে সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

     

    সিক্রেট ৩: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গ্রহণ

    সফল খামারী হওয়ার পরামর্শ হিসেবে আপনার জন্য তৃতীয় সিক্রেট হলো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। মুরগীর সুরক্ষার জন্য এবং সঠিকভাবে তদারকির জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সহায়ক।এক্ষেত্রে ড্রোন জাতীয় প্রযুক্তি গ্রহণ করা যেতে পারে যাতে আপনি এক জায়গায় বসে সকল মুরগীকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এছাড়াও ডিম রাখার বাক্স, ফিডিং মেশিন ইত্যাদি প্রযুক্তিও বেশ কার্যকরী।

    এভাবে পোলট্রি খামারের উদ্ভাবন ও কৌশল আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।

     

    সিক্রেট ৪: কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

    আপনার পোলট্রি খামারের পরিশ্রম ও ফল তখনই সমানুপাতিক হবে যখন কঠিন সময় সঠিকভাবে মোকাবিলা করার দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। বর্তমানে মুরগীর খাদ্যের মূল্য বেশি থাকায় অনেক খামারী বেশ সংকটে সময় পার করছেন। আবার কিছু কিছু সময় বিশেষত শীতকালে মুরগীর রোগ-ব্যাধির পরিমাণ বেড়ে যায়। এসকল বিপর্যয় বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার জ্ঞান এবং দক্ষতা দুটোই থাকতে হবে।

     

    সিক্রেট ৫: ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা

    খামারে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সিক্রেট আপনার খামারকে অন্য অনেক খামারের তুলনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আপনি কীভাবে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করবেন।অনেক ক্ষেত্রেই ডিম অথবা মাংস সরবরাহ নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। একারণে স্থানীয় বাজারেই শুধু খামারীরা তাদের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেন। এমনটা না করে ব্যবসা কীভাবে পরিচালনা করলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    আবার অর্গানিক মুরগী খামারের পরিকল্পনাও এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি কিছুটা কঠিন হলেও বেশ লাভজনক। পোলট্রি খামারে ঝুঁকি ও সাফল্য পরস্পর জড়িত। তাই সাফল্য পেতে হলে কিছু ঝুঁকি নিতেই হবে। তবে তা অবশ্যই চিন্তাভাবনা করে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

     

    সিক্রেট ৬: ব্যবসার বৃদ্ধি ও উন্নতির পথ

    পোলট্রি খামারে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভের পন্থা হলো উত্তরোত্তর ব্যবসার বৃদ্ধি এবং উন্নতির পথ। স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে আপনি আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারেন।এছাড়াও বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে মুরগী এবং ডিমের চাহিদা প্রচুর। সেসব জায়গায় সাপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধি করা যায়।এভাবে পোলট্রি ব্যবসায়িক কৌশল খাটিয়ে লাভবান হওয়ার প্রচেষ্টা করতে হবে। 

     

    সিক্রেট ৭: একটি দৃঢ় মনোভাব ও সঠিক মনোভাব

    খামারে উদ্যোক্তার সিক্রেটস হিসেবে সর্বশেষ হলো দৃঢ় এবং সঠিক মনোভাব। পোলট্রি খামারী হতে হলে অনেক ধরণের চড়াই-উতরাই আপনাকে পার হতে হবে। তাই এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। কখনোই ভয় পেয়ে বা মাঝ পথে ব্যবসা ছেড়ে দেয়া যাবে না। এতেই উন্নতি সাধিত হবে। 

     

    এই হলো পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার সিক্রেট। পোলট্রি খামারী হওয়ার টিপস সম্পর্কে আমরা আগেও আলোচনা করেছি যা আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবেন। তবে পোলট্রি খামারের সিক্রেটস ফলো করলে ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আপনি লাভবান হতে পারবেন এবং ব্যবসা বৃদ্ধিও করতে পারবেন।

     

  • একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ

    একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ

    পোলট্রি ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম করণীয় কাজটি হলো একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জেনে নেয়া। কারণ খামার শুরু করার পূর্বে আপনাকে পরিকল্পনা করে নিতে হবে। আর এই পরিকল্পনার জন্য সহায়ক হবে উক্ত সফল উদ্যোক্তার গাইডলাইন।আপনি কি জানেন একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কেনো জানা প্রয়োজন? একটি পোলট্রি খামার শুরু করা তুলনামূলক সহজ মনে হলেও এর ধাপে ধাপে রয়েছে নানা প্রতিকূলতাপ্রতিটি পদক্ষেপে এমন কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে যা আপনি অন্য কোনো মাধ্যমে সমাধান করতে পারবেন না। এমনও হতে পারে আপনি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলেও হয়ত সেই সমাধান করতে পারবেন না। তখন আপনার প্রয়োজন হবে একজন অভিজ্ঞ খামারীর পরামর্শ। 

    পোলট্রি উদ্যোক্তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 

    উপর্যুক্ত ব্যাখ্যা অনুসারে আমরা বুঝতে পারছি যে একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তার পরামর্শ আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে এবার জেনে নেই একজন সফল পোলট্রি উদ্যোক্তা সম্পর্কে-

    তিনি হলেন গাইবান্ধা জেলার বোয়ালী ইউনিয়নের উদ্যোক্তা শহীদুল ইসলাম বাবু। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েই পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন তিনি।

    এরপর যদিও চাকরির আশায় ঢাকায় এসেছিলেন এবং প্রায় দেড় মাস কাজও করেছিলেন। তবে এখানে স্থায়ী হতে পারেননি। তাই ঢাকার সাথে লেনদেন শেষ করে তিনি চলে যান গ্রাম্র এবং গড়ে তোলেন পোলট্রি খামার।

    আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। সংসার চালানোর সমস্ত খরচসহ যা উন্নতি করেছেন সবকিছুর মূলেই রয়েছে এই খামার থেকে অর্জিত আয়।

    প্রথম পর্যায়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?

    ইতোমধ্যে, আমরা আমাদের আদর্শ উদ্যোক্তাকে পেয়ে গেছি যিনি একটি সফল পোলট্রি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এবার তার থেকেই জেনে নেবো যে তার পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পথ কেমন ছিল।তিনি জানান, শুরুর দিকে তাকে বেশ প্রতিকূল সময়ই পার করতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে নতুন এই উদ্যোগকে সফল করতে। সেগুলোকে পার হতে তার মানসিকতা ছিল অনেকটা এমন-

    • সফলতার মূল মন্ত্র পরিশ্রম। যেহেতু তিনি একজন ব্যবসায়ী, তাই লাভ কিংবা লস যেটাই হোক তিনি তা মেনে নিতেন। হাজার সমস্যার মাঝেও পরিশ্রম কখনো ছেড়ে দেননি। রাত দিন খামার নিয়ে ভেবেছেন, কাজ করেছেন যে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়।
    • শহীদুল কখনো হাল ছাড়েননি। তার লাভ না হলেও তিনি লেগে থেকেছিলেন এই কাজের সাথে।
    • তার পোলট্রি ব্যবসার উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে তিনি দুজন কর্মচারীও রেখেছিলেন। আর তাদেরকে এমনভাবে শিখিয়ে নিয়েছিলেন যেনো তারা দুজন মুরগীগুলোকে নিজের সন্তানের মত ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেন। বেলাল এবং হেলালও তার কথা মতই পরিচালনা করছেন খামার। 
    • তিনি মানুষের কাছে বসতেন, গল্প করতেন এবং বোঝার চেষ্টা করতেন মানুষের চাহিদা সম্পর্কে। আর এ চাহিদা কীভাবে তার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারে সেই চেষ্টা করতেন।

    এগুলোই ছিল শহীদুলের পোলট্রি খামারে উদ্ভাবন।

    পোলট্রি উদ্যোক্তার মুখোমুখি হওয়া সাধারণ চ্যালেঞ্জ

    পোলট্রি ফার্ম পরিচালনা করতে শহীদুল যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন রা নি:সন্দেহে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কিন্তু একারণে যে তাকে পোলট্রি ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ এর মুখে পড়তে হয়নি এমন হয়। এই পোলট্রি উদ্যোক্তার কঠিন সময় গিয়েছে প্রথম পর্যায়ে।

    এবার আমরা জেনে নিব কী কী চ্যালেঞ্জ তাকে পার করতে হয়েছে। 

    • প্রথমত তাকে অর্থ যোগান নিয়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পোলট্রি খামারে বেশ বড় অংকের অর্থ দরকার খাদ্য ব্যবস্থাপনায়। তাই এ অর্থ যোগাতে তাকে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
    • মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে প্রথমে তিনি খুব বেশি জানতেন না। ফলে আক্রান্ত মুরগীর চিকিৎসায় তার বেশ ভালো খরচ হয়েছিল এবং এ কারণে প্রথমদিকে তিনি তেমন লাভ করতে পারেননি।
    • মুরগীর জন্য সুষম খাদ্য বণ্টন করতে না পারায় মুরগীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। এতে মাংস এবং ডিম উৎপাদন তুলনামূলক কম হত।
    • সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বাজারজাতকরণ নিয়ে। তার উৎপাদিত ডিম এবং মাংস কীভাবে ক্রেতা কিংবা দোকানীদের কাছে পৌঁছে দেবেন এ নিয়ে বেশ ভালো বেগ পেতে হয়েছে তাকে।

    কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে সফল হয়েছেন?

    কিন্তু, এত এত সমস্যার মাঝেও শহীদুল থেমে থাকেননি। একারণেই তিনি উদ্যোক্তার প্রেরণা হয়ে উঠেছেন অনেকের কাছে। ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জন করতে এবং পোলট্রি খামারের উন্নতি সাধন করতে তিনি যেসকল পদক্ষেপ নেন সেগুলো নিচে বিশ্লেষিত হলো-

    • শহীদুল মুরগীর খাবার নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন।  তাই দানা জাতীয় খাবারগুলো তিনি নিজ জমিতে উৎপাদন করতে শুরু করেন। সরিষা, তিসি জাতীয় বীজ গুলো নিজের জমি থেকেই পেতেন।
    • তিনি এলাকায় কর্মরত পশু ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন মুরগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে। পরবর্তী বছর থেকে নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
    • তিনি তার খামারের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন যাতে তারা মুরগীর খাদ্য এবং স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকতে পারেন। 
    • পোলট্রি উদ্যোক্তার কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল অর্গানিকভাবে মুরগী পালনের ব্যবস্থা করা এবং তাতে তিনি সফলও হন। যদিও পুরোপুরি অর্গানিক খামার তিনি গড়তে পারেননি, তবুও যতটুকু উদ্যোগ নিয়েছেন তা মুরগীর মাংস এবং ডিমের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য। 

    সফলতা অর্জনের পরের গল্প

    যাই হোক, এতক্ষণ তো আমরা এই পোলট্রি উদ্যোক্তার সফলতার গল্প শুনলাম। কিন্তু সাফল্য অর্জনের পরের গল্পটা শুনবেন না? 

    বর্তমানে প্রায় ১০০ শতাংশ জমির উপর রয়েছে তার বিশাল খামার। আর এই বিশাল খামারে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি লেয়ার মুরগী রয়েছে। খামার শুরুর সময় তার বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু, বর্তমানে তার মাসিক ইনকাম প্রায় লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি তার এই ব্যবসা আরও বর্ধিত করতে চান এবং এর মাধ্যমে অনেক বেকার যুবকের কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান।

    নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ

    এই হলো গাইবান্ধা জেলার একজন সফল খামারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক চিন্তা। তবে আমরা আপনাদের কথাও ভেবেছি। সেকারণেই তার অভিজ্ঞতা জানার পাশাপাশি আমরা আরও জানতে চেয়েছি কিছু খামার পরিচালনার টিপস।শহীদুল জানান, তিনি সবসময়ই যুবকদের বেকার না থেকে পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন প্রত্যেক খামারী উদ্যোক্তার কৌশল আলাদা হয়। তবে পোলট্রি ব্যবসা লাভজনক হলেও সঠিক ভাবে পরিচালনা না করতে পারলে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই তিনি পরামর্শ হিসেবে বলেন-

    • উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা হতে হবে সহজ এবং সাশ্রয়ী। অর্থ ব্যবস্থাপনা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর মুরগীর খাদ্য এবং চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ চলে যায়। 

    তাই কীভাবে খামার পরিচালনা করলে কম অর্থে বেশি লাভ করা যায় তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে হবে। পাশাপাশি নিজের উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার কৌশল জানতে হবে।

    • নিয়মিত পশু ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।
    • উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। ডিম নাকি মাংস নাকি উভয়ই কোনটি উৎপাদন করতে চান এটা ঠিক করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে যেকোনো এক জাতের মুরগী আনতে হবে। 
    •  ধৈর্য হারানো যাবে না। লস হলেও লেগে থাকতে হবে।
    • মুরগীর ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

    এই হলো সফল পোলট্রি খামারের কৌশল। আপনিও যদি খামার তৈরীর কথা ভাবেন তবে আপনার এলাকার যেকোনো পোলট্রি উদ্যোক্তার সাথে পরামর্শ করুন। অথবা বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তাদের কৌশলগুলো জানুন। এতে আপনার কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।