অনেকেই সীমিত কিংবা বৃহৎ পরিসরে বাড়িতে মুরগি পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে কৌশলী হলে এবং মুরগীর সকল প্রয়োজনীয় উপাদান সঠিকভাবে দিতে পারলে বেশ ভালো লাভ করা সম্ভব।আপনি যদি ছোট পরিসরে মুরগী পালন করতে চান তবে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বাড়িতে মুরগী পালন। খামার বা খাঁচা ছাড়াও লাভজনক মুরগী পালন করা যায়।
আর তার জন্য প্রয়োজন কিছু নির্দেশিকা যা মেনে চললে মুরগী পালন হবে পরিবেশবান্ধব এবং বেশ লাভজনক। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক সেসকল বিষয়।
ছোট পরিসরে বাড়িতে মুরগি পালনের উপকারিতা
ব্যবসার উদ্দেশ্য থাকলে বেশিরভাগ মানুষই এখন খামার পদ্ধতির মাধ্যমে মুরগী পালন করেন। তবে প্রাথমিক মুরগী পালন উপায় হিসেবে বাড়িতে মুরগী পালনের বিষয়টিকে আপনি গ্রহণ করতে পারেন।
তবে এভাবে বাড়িতে মুরগি পালন এর বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
- প্রথমত আপনার যদি বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে, তাহলে আপনি এই উপায়টি বেছে নিতে পারেন। কারণ খামার তৈরী করতে বেশ ভালো একটি পরিমাণ খরচ প্রয়োজন হয়। সেটা আপনার কাছে না থাকলে বাড়িতে অর্গানিক মুরগী পালন করে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন বাড়িতে মুরগী পালন করে সেগুলো সাধারণত ছাড়া অবস্থায় করা হয়। যার ফলে এরা আশপাশের নরম কচি শাকজাতীয় পাতা, কেঁচো ইত্যাদি খেতে পারে। যার ফলে এদের পুষ্টির পরিমাণ বেশ বৃদ্ধি পায়।
- ডিম এবং মাংস উৎপাদনের জন্য বাজারের উপর নির্ভর করার প্রয়োজন পড়ে না। দেশী মুরগীতে পুষ্টির পরিমাণ বেশি তা আমরা সবাই জানি। ফলে পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা এসব মুরগী এবং ডিম থেকেই পূরণ করা যায়।
- স্থানীয় বাজারে বেঁচে কিংবা গ্রামের প্রতিবেশীর কাছে এসব ডিম এবং মুরগী বেঁচে বেশ লাভ করা যায়।
অতএব, বুঝতেই পারছেন মুরগী পালন আপনার জন্য কতটা লাভজনক হতে পারে।
বাড়িতে মুরগি পালন এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
আমরা ইতিমধ্যে মুরগী পালনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে ফেলেছি। এখন যদি আপনি মুরগী পালনের জন্য প্রস্তুত থাকেন, তবে আপনাকে মুরগীর প্রয়োজনীয় দিকগুলো ভালোভাবে মেনে চলতে হবে। আসুন তাহলে সেগুলো জেনে নেই।
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে মুরগীর ঘর তৈরী
মুরগী পালনের প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মুরগীর ঘর তৈরী। আপনি যদি বাড়িতে ছাড়া অবস্থাতেও মুরগী পালন করেন তবুও আপনাকে মুরগীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ঘর তৈরী করতে হবে।
কীভাবে করবেন?
জেনে নিন তাহলে ধাপগুলো-
- মুরগীর ঘর নির্মাণের জন্য বাড়ির যে স্থানটি উঁচু এবং পরিমিত রোদ পায় সেই স্থানটি নির্বাচন করুন।
- এরপর বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে ঘর নির্মাণ করুন। মুরগী যেনো সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে এমনভাবে ঘরের দরজা তৈরী করুন। বাঁশ বা কাঠের মাঝ দিয়ে যেনো ভেতরে বাতাস যেতে পারে এমন সামান্য জায়গা রাখুন।
- প্রতিটি মুরগীর জন্য অন্তত ১.৫ বর্গফুট জায়গা থাকে এমনভাবে ঘরে নির্মাণ করুন।
- ঘরের আশপাশের পরিবেশ যেনো স্যাঁতসেঁতে না হয় এমন স্থানে ঘর নির্মাণ করুন।
মুরগীর খাদ্য এবং পুষ্টি

মুরগীর ঘর নির্মাণ হয়ে গেলে এবার আপনাকে নজর দিতে হবে মুরগীর খাদ্যের প্রতি। মুরগীর ডিম উৎপাদন এবং মাংস উৎপাদনের জন্য খাদ্যের বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে মুরগী পালনের ক্ষেত্রে একটি সুবিধা হলো মুরগী নিজের কিছু খাদ্য নিজেই খুঁজে নিতে পারে। যেমন নরম কচি পাতা, কেঁচো, পোকামাকড় ইত্যাদি। পাশাপাশি আপনি যেসকল খাবার দিতে পারেন সেগুলো হলো-
- দানা জাতীয় খাদ্য যেমন তিসি বীজ, সরিষা বীজ ইত্যাদি।
- শস্য জাতীয় খাদ্য যেমন ধান, গম, ভূট্টা ইত্যাদি
- পুষ্টিকর শাকের পাতা
- নরম সবজি যেমন ফুলকপি
- ঝিনুকের গুঁড়া যা ক্যালসিয়াম উৎপাদনে সহায়তা করে এবং ডিমের গুণগত মান উন্নয়ন করে
- পাশাপাশি পরিমিত স্বাস্থ্যকর পানি প্রদান করতে হবে।
মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা
মুরগী পালনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর রোগ-বালাই। এ বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে মুরগী রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে এবং তার সঠিক চিকিৎসা না হলে আপনার সব মুরগী কিছুদিনের মধ্যেই মারা যাবে।তাই মুরগীর জন্য অবশ্যই সঠিক সময়ে ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে, সকল মুরগীর উপর ভালোভাবে নজর রাখতে হবে। কোনো মুরগীর মধ্যে যদি অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তবে সাথে সাথে তার জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে।
আপনি যদি মুরগী পালনে দক্ষ হয়ে থাকেন, তবে এ কাজ আপনিই করতে পারেন। অন্যথায় পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক।
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে বাড়িতে মুরগি পালন
মুরগী পালনের খরচ কমাতে হলে পরিবেশ বান্ধব মুরগী পালন আবশ্যিক একটি বিষয়। কিন্তু পরিবেশবান্ধব মুরগী পালন বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন এবং একারণেই অনেকে মুরগী পালনে লাভ করতে পারেন না। তাই বিষয়টি বিশ্লেষণ করা বলা প্রয়োজন।পরিবেশবান্ধব বলতে মূলত বোঝায় একটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুস্থ পরিবেশে মুরগী পালন। বাড়ির যে অংশে মুরগীর ঘর থাকবে সে অংশটি অবশ্যই বেশ রৌদ্রজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর হতে হবে।
একইসাথে নিয়মিত ভাবে সে জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। এখন হয়ত অনেকে ভাবছেন গ্রামীণ পরিবেশে সবসময় ধুলাবালি ময়লা থাকেই। তবে মুরগীর ঘরের আশপাশে নিয়মিত ঝাড়ু দিয়ে জায়গা পরিষ্কার রাখা যায়।
একইসাথে মুরগীর বিষ্ঠা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মুরগীর রোগব্যাধি বেশিরভাগই এই বিষ্ঠার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই এগুলো প্রতিদিন অন্তত ২ বার পরিষ্কার করতে হবে। তবে কৃষিকাজে সার হিসেবে এসব বিষ্ঠা ব্যবহার করতে হবে।
একইসাথে মুরগীকে পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে যেনো মুরগীর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মুরগীর জায়গার আশপাশে জীবাণুমুক্ত করতে পারলে এ বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
এছাড়াও মুরগী শিকারী যেমন শিয়াল, বেজি ইত্যাদি যেনো মুরগী ধরে নিয়ে না যেতে পারে সেজন্য বেড়া বা দেয়ালের ব্যবস্থা করতে হবে।
তাহলে, আমরা বাড়িতে মুরগী পালন বিষয়ক সব কিছু সঠিকভাবে জেনে নিলাম। কৃষক ভাইয়েরা মুরগীর পালনের ক্ষেত্রে অবশ্যই এসকল বিষয় গুরুত্বের সাথে নজরে রাখবেন।
visit FB

Leave a Reply