পোলট্রি উদ্যোক্তা হতে চান অনেকেই। তবে সঠিক পরামর্শ এবং পরিকল্পনার অভাবে এই শিল্প কিছু কিছু জায়গায় লাভ এনে দিতে পারে না। তাই এই পরামর্শ বিষয়ক বিস্তারিত জানা আবশ্যক।পোলট্রি ব্যবসা গাইড সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। বিশেষত যারা পোলট্রি উদ্যোক্তা হতে চান তাদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাই আজ এ বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।
পোলট্রি শিল্পের গুরুত্ব
আমাদের দেশে যেসকল শিল্পের জনপ্রিয়তা বেশি তার মধ্যে অন্যতম হলো পোলট্রি শিল্প। কেননা পোলট্রি ফার্ম বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের জন্য নতুন একটি দ্বার উন্মোচন করেছেন।পোলট্রি ব্যবসা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসলেও কৌশলগতভাবে এবং পরিকল্পনা করে ফার্ম দেওয়ার ব্যপারটি তেমন পুরোনো নয়। একারণেই বর্তমানে পোলট্রি উদ্যোক্তাও তৈরী হচ্ছে অনেক যা আমাদের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
তবে শুধু যে অর্থনীতির জন্যই, বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। বরং জনজীবনের উন্নতিতে এবং ব্যক্তি স্বার্থের উন্নয়নেও পোলট্রি শিল্প বেশ ভালো ভূমিকা রাখছে।
তাই আমাদের দেশে যারা স্বল্প বিনিয়োগে উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য এট বেশ ভালো একটি পদক্ষেপ। আর আশা করা যায়, বেশ ভালো পরিমাণও লাভও পাবেন তারা।
পোলট্রি উদ্যোক্তা হিসেবে শুরু করার প্রথম ধাপ
আপনি যদি পোলট্রি উদ্যোক্তা হতে চান, তবে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শুরু করতে হবে। অন্যথায় লসের সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই এখানে প্রাথমিক ধাপ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা হলো-
পোলট্রি খামার তৈরী করতে হলে প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে স্থানীয় বাজারে চাহিদা কেমন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আপনি ব্যবসা বাড়াতে পারবেন কিনা এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ব্যবসার উদ্দেশ্য নির্ধারণটাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আপনার পোলট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কী মাংস উৎপাদন নাকি ডিম- এই বিষয়টি নিয়েও ভাবা উচিৎ।
তাছাড়াও আপনার এলাকায় এ ব্যবসায় যারা আগে থেকেই জড়িত তাদের সাথেও পরামর্শ করতে পারেন। এতে আপনার ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই কাজ শুরু করা উচিৎ।
পোলট্রি খামার প্রতিষ্ঠার পরামর্শ

পোলট্রি খামার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত এবং সার্বিক বিবেচনা শেষ করার পর আপনাকে এটি শুরু করার বিষয়সমূহ বা ধাপসমূহ মেনে চলতে হবে। একে পোলট্রি শিল্পের শুরু করার গাইড হিসেবেও ধরতে পারেন।
তাই পরামর্শস্বরূপ এখানে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো-
- গবেষণা
প্রথমেই আপনাকে দেখতে হবে মুরগীর জাত হিসেবে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী হবে। এবার জাত নির্বাচন হয়ে গেলে ঐ জাতীয় মুরগীর খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং চাহিদা সম্পর্কে জানতে হবে। তাছাড়াও ঐ মুরগী পালন পদ্ধতিও ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।
- ব্যবসা পরিকল্পনা
বিস্তারিত ভাবে একটি ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরী করতে হবে। যেমন ধরুন আপনার লক্ষ্য, বাজেট, বিপণনের কৌশল এবং কীভাবে এর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আপনি আনতে পারে এই সার্বিক চিন্তা করে বাজেট করে ফেলুন।
- অর্থের ব্যবস্থা
বাজেট তৈরী হয়ে গেলেই অর্থের জোগান করতে হবে। বাজেট করার পর যে পরিমাণ অর্থ আপনার প্রয়োজন তা যদি আপনার কাছে থাকে তবে তোও খুবই ভালো। কিন্তু যদি না থাকে তাহলে ব্যাংক ঋণ কিংবা অন্য কোনো উৎসের মাধ্যমে এউ অর্থের যোগান দিতে হবে।
- জায়গা নির্বাচন
অর্থের যোগান হয়ে গেলেই খামার নির্মাণের কাজ শুরু করে দিন। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে জায়গা নির্বাচন করতে হবে। আলো-বাতাস যুক্ত রৌদ্রজ্জ্বল যেকোনো উঁচু জায়গা নির্বাচন করে সেখানে খাঁচা বা মাচা পদ্ধতিতে খামার নির্মাণ করে ফেলুন।
- প্রাথমিক কার্যক্রম
খাঁচা নির্মাণ হওয়ার পরে মুরগীর বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ এবং বাকি সব আনুষঙ্গিক জিনিস নিয়ে এসে পূর্ণভাবে খামার গড়ে তুলুন।
- বাজারজাতকরণ কৌশল
সঠিকভাবে মুরগী পালন করার মাধ্যমে মুরগীর বৃদ্ধি করুন এবং পাশাপাশি তা কীভাবে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারেন সেটি মেনে চলুন।
পোলট্রি খামারে বিনিয়োগের নির্দেশনা
উদ্যোক্তাদের জন্য পোলট্রি ব্যবসা পরিকল্পনা কিছুটা কঠিন। তবে পোলট্রি নির্দেশিকা মেনে চললে এই কঠিন পথ খুব সহজেই পার হওয়া যায়। আর একারণেই পোলট্রি শিল্পে সফল হওয়ার কৌশল অবলম্ভন করতে হবে।পোলট্রি খামার শুরু করার পূর্বে বিনিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রথমেই অঢেল অর্থ বিনিয়োগ করে পোলট্রি খামার পরিকল্পনা করা যাবে না। মোট অর্থের কিছুটা আলাদাভাবে হাতে রেখে দিতে হবে।
হঠাৎ অসুস্থতা বা কোনো কারণে যদি মুরগী মারা যায় বা সমস্যার সৃষ্টি হয় তখন ঐ অর্থ কাজে লাগানো যাবে। যদি নতুন পোলট্রি ব্যবসা হিসেবে লাভ করা যায় তাহলে ঐ বাকি অর্থ ব্যবসা বৃদ্ধির কাজে তখন ব্যবহার করা যাবে।
এটি হলো বিনিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে। পোলট্রি শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সফলতার নির্দেশিকা এবং এটি মেনে চললে ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব।
সফল পোলট্রি ব্যবসার জন্য সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা
নতুন পোলট্রি উদ্যোক্তা নির্দেশনা নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা বেশ আলোচনা করেছি৷ তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান হবে আপনার পরিকল্পনার।কেননা আপনার খামার কতটুকু বড় বা ছোট হবে এবং তা থেকে আপনি কতটা সফলতা পেতে পারেন তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আপনার সঠিক পরিকল্পনার উপর।
খামারের জায়গা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সকল কাজ যদি সঠিকভাবে না করেন, তাহলে আয় অপেক্ষা খামারের ব্যয় বেশি হয়ে যাবে এবং সেক্ষেত্রে কখনোই আপনি উন্নতি করতে পারবেন না।
এই হলো নতুন খামারী নির্দেশনা যার সঠিক ব্যবহারে আপনি হতে পারেন সম্পূর্ণভাবে সফল। তাই আপনিও যদি পোলট্রি উদ্যোক্তা হতে চান তবে আজই তৈরী করুন আপনার পরিকল্পনা।

Leave a Reply