Tag: পাবনা

  • পাবনায় বানিজ্যিক ভিত্তিক গোলাপ চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য

    পাবনায় বানিজ্যিক ভিত্তিক গোলাপ চাষে তিন ভাইয়ের সাফল্য

    নোমান আহম্মেদ :ফুল কার না পছন্দ, ফুলকে পছন্দ করে না এমন মানুষের দেখা মেলা ভার। হাজার বছর ধরেই মানুষের পরিবেশের সৌন্দর্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে নানান রঙের ফুল। তাই তো কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তার কবিতায় লিখেছেন। জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি’ দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী !

    ফুল ভালোবাসা, পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে ফুল এখন আর সৌখিনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফুলকে এখন বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশে ফুল চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক, পিছিয়ে নেই পাবনার কৃষকেরাও।

    যেখানে সবজি চাষের খরচ তুলতে কৃষক বেসামাল, ঠিক সেখানেই বাণিজ্যিক ভাবে গোলাপ চাষে সফলতা পেয়েছেন পাবনা সদর মালিগাছা ইউনিয়নের ভজেন্দ্রপুর এলাকার কৃষক খন্দকার শরিফুল আলম রানা, খন্দকার আশরাফুল বারী শাহীন ও খন্দকার জাফর উল্লাহ নামের তিন ভাই। ২০২১ সালে তিন বিঘা জমিতে গড়ে তোলা বাণিজ্যিক গোলাপ বাগানে এখন তাদের মাসিক গড় আয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এমন সাফল্যে জেলায় গোলাপ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন কৃষিবিভাগও।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঘের শীতের বিদায় বেলায়, ঘন কুয়াশা ভেদ করে ভোরের আলো ফুটতেই গাছ থেকে ফুল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমীকেরা। লাল, সাদা, হলুদ, গোলাপীসহ বাহারি নানা রঙের গোলাপ বাগান থেকে সংগ্রহ ও বাছাই করে চলছে বাজারের নির্ধারিত দোকানে পৌঁছানোর প্রস্তুতি। সুবাসিত গোলাপের এই রঙিন বাগানটি দেখে, বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন আশা জাগাচ্ছে অন্যান্য কৃষকের মনেও।

    জানা যায়, বাগান মালিক ভজেন্দ্রপুর গ্রামের তিন ভাই। ৪ বছর আগে পৈত্রিক তিন বিঘা জমিতে ভারত, যশোর ও গাজীপুর থেকে প্রায় ৩৬ হাজার চারা সংগ্রহ করে গড়ে তোলেন গোলাপ বাগান। প্রথম বছরেই চারা থেকে আসে ফুল। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভালো লাভ হওয়ায় সবজি চাষের নির্ভরতা কমিয়ে প্রতি বছরই বাড়াচ্ছেন তাদের বাগানের পরিধি।

    কথা হয় বাগান মালিক খন্দকার আশরাফুল বারী শাহীন’র সাথে তিনি জানান, এক সময় বাঁশঝারে পরে থাকা এই বাগানটিতে এখন চায়না, হাইব্রিড জুমুলিয়া, বিউটি, ভারগো ও বমবম এই চার জাতের সাতটি পৃথক রঙের গোলাপ চাষ করছেন তিনি। তিনি জানান, দুজন কর্মচারী নিয়ে কাজ শুরু করা এই বাগানে এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ছয় জনের। তাঁদের মাসিক বেতন বাবদ খরচ প্রায় ৭০ হাজার টাকা। শীত মৌসুমে বিয়ে ও উৎসব পার্বনে ফুলের চাহিদা বাড়ায় দামও পান ভালো। এছাড়া ফুল কিনতে ক্রেতাও সরাসরি বাগানে আসেন বলে জানান তিনি।

    বাগান মালিকের ছেলে সাকিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বাবা-চাচা মিলে এই ফুলের বাগান শুরু করে। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি বাগানে পরিচর্যার কাজ করে থাকি। তিনি জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। তিনি জানান, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস এবং মার্চে মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে

    বেড়ে যায় ফুলের চাহিদা। তাই এই সময়টাতে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করে থাকেন তারা। তিনি জানান, শুধু পাবনা, চাটমোহর, সুজানগর, সাঁথিয়া, কাশিনাথপুর ও বেড়া নয় ঢাকাতেও ফুল বিক্রি করে থাকেন তারা।
    গোলাপ বাগানের ম্যানেজার ইউনুফ সরদার জানান, চারা রোপনের দুই মাস পরেই বাগানে প্রচুর ফুল আসতে শুরু করে। বাজারে চাহিদা থাকায়, ভালো দামও পান তারা। তিনি জানান, আগে ফুলের দোকানিরা যশোর থেকে ফুল আনতো। এতে করে তাদের খরচও হতো বেশি। এখন আমাদের বাগান থেকে ফুল নেওয়ায়, তাদের খরচ ও সময় দুইটিই বেঁচে যায়। তিনি আরও জানান, এখন বিভিন্ন সবজি চাষে দাম না পেয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। তাই সবজি চাষে নির্ভরতা না বাড়িয়ে কৃষকদের ফুল বাগান গড়ার পরামর্শ দেন এই চাষি।

    কথা হয় বাগান শ্রমিক শাহীন প্রামানিকের সাথে তিনি জানান, আগে ক্ষেত-খামারে কৃষি কাজ করে কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পরে মাসিক ১৩ হাজার টাকা বেতনে গাছ পরিচর্যার চাকরি নেন । বর্তমানে মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে সচ্ছলতা ফেরান সংসারে।

    কথা হয় টেবুনিয়া থেকে ফুল কিনতে আসা তিথী’র সাথে তিনি জানান, ফুল তার খুব পছন্দের, তাই সকালে গাছ থেকে উঠানো সতেজ ফুল কিনতে ও দেখতে বাগানে ছুটে এসেছেন তিনি।

    এবিষয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক, কৃষিবিদ মো. রোকনুজ্জামান বলেন, আগে পাবনায় গোলাপ ফুলের বাজার পুরোটাই ছিলো আমদানি নির্ভর। তবে সতেজ ও মানসম্পন্ন ফুল পাওয়ায়, এখন তার অনেকটাই তিন ভাইয়ের দখলে। তিনি জানান, এখন তাদের বাগানে সপ্তাহে ২- ৩ দিন, দুই থেকে আড়াই হাজার পিস গোলাপ সংগ্রহ করেন কর্মীরা। প্রতিটি ফুল পাইকারি ২০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। তিনি বলেন, শুধু তারাই নয় এখন পাবনা সদর, চাটমোহর, সুজানগর, ঈশ্বরদী, বেড়া থেকে শুরু করে প্রায় উপজেলাতেই বাণিজ্যিক ভাবে ফুলের চাষ করা হচ্ছে। গোলাপের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারিত হলে এ জেলা থেকে ফুল রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

  • ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের বিনামূল্যে খাইয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাবনাবাসী

    ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের বিনামূল্যে খাইয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাবনাবাসী

    হঠাৎ বিকল ট্রেনের ইঞ্জিন। আশেপাশে স্টেশন নেই। বিকল্প আরেকটি ইঞ্জিন এসে ট্রেন সচল করতে লাগবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। এত দীর্ঘ সময় ট্রেনে বসে থাকতে গিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে ওঠেন যাত্রী ও ট্রেনের স্টাফরা। আর ঠিক সেই মূহুর্তে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার খাইয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাবনাবাসী। এক ফেসবুক পোস্টে পাবনার মানুষের মানবিকতার প্রশংসা করেছেন খোদ রেল কর্মকর্তা ও যাত্রীরা।

    ট্রেনটির টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। ছড়িয়ে পড়া সেই পোস্টে এই প্রশংসা উঠে এসেছে।

    পাকশী পশ্চিমাঞ্চল বিভাগীয় রেলওয়ের টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু ফেসবুক পোস্টে বলেন, “পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করে “ঢালারচর এক্সপ্রেস”। রবিবার সকাল ৭টার দিকে ট্রেনটি ঢালারচর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আমি ওই ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছিলাম। পথে সকাল ৮টা ৫ মিনিটের দিকে সাঁথিয়ার রাজাপুর স্টেশন পার হওয়ার পরে হঠাৎ করেই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে ঈশ্বরদী থেকে বিকল্প ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুনরায় ট্রেনটি চালু করতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট বেজে যায়।”

    তিনি বলেন, “মাঝখানে সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় ট্রেনে বসে থাকতে গিয়ে অস্থির হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। আশপাশে স্টেশন বা দোকানপাট কিছু ছিল না। ট্রেনের স্টাফসহ অনেক যাত্রী ক্ষুধায় তৃষ্ণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েন স্বজনরা।”

    টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু বলেন, “ট্রেনের যাত্রী আর স্টাফদের এমন করুণ অবস্থা দেখে এগিয়ে আসেন রেললাইন থেকে কিছু দূরে বসবাসকারী মানুষগুলো। বিনা স্বার্থে যার যা সামর্থ্য ছিল, যার ঘরে যা রান্না করা খাবার ছিল, তাই দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বাড়ি থেকে গৃহবধূরা খাবার নিয়ে ট্রেনের কাছে পৌঁছান। কারও হাতে ছিল ভাত-ডাল, কারও হাতে খিচুরি, কারও হাতে রুটি-সবজি, আবার কারও হাতে পানি। এর মাঝেই কেউ কেউ রান্না করে খাবার নিয়ে আসার জন্য উদগ্রীব। বৃদ্ধ এবং শিশুদের প্রতি তাদের নজর ছিল বেশি। তাদের খাবার পানিতে শান্তি পায় সবাই।”

    টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “তাদের এমন মানবিক দৃষ্টান্ত আমি কোথাও দেখিনি। ওইসব মানুষগুলোর পরিবার দেখে মনে হয়েছে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো। অথচ কিভাবে তারা মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ালো। পাবনার মানুষ যে কতটা আত্মিক আর অতিথি পরায়ণ তা আবারও প্রমাণ হলো।”

    ঘটনাস্থল তাঁতীবন্দ গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “আমি যখন দেখলাম স্টেশনের বাইরে হঠাৎ ট্রেনটা অনেক সময় দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখি অনেকে পানির জন্য, কেউবা খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। আশপাশে কোনো দোকানপাট ছিল না। তখন আশপাশের সবাইকে সাধ্যমতো খাবার পানি নিয়ে আসতে বলি। এভাবেই হয়েছে।”

    রহিমা খাতুন নামের এক গৃহবধূ বলেন, “মানুষের কষ্ট দেখে কি ভালো লাগে বলেন তো। যেখানে ট্রেন থেমে ছিল, সেখান থেকে কিছু দূরেই আমারে বাড়ি। ট্রেন অনেকক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। অনেক মানুষ। এগিয়ে গিয়ে দেখি কেউ পানি খুঁজছে, কেউ কিছু খাবার খুঁজছে। এরপর বাড়িতে গিয়ে যা ডাল-ভাত ছিল, সেগুলোই এনেই দিয়েছি। আমার নিজেরও ভালো লেগেছে।”

  • ঈশ্বরদী থানায় আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার: শহিদুল ইসলামের সাফল্য

    স্টাফ রিপোর্টারঃ  পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানা গত কয়েক মাসে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে থানার কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

    অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের পরে বিভিন্ন থানার পুলিশ পালিয়ে যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছিল। এই পরিস্থিতিতে শহিদুল ইসলাম কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে থানার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন।

    ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে ঈশ্বরদী থানা অত্যন্ত সফল হয়। অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁর কার্যক্রম ছিল অসাধারণ। মাদক ব্যবসায়ীর হাতে গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ব্যাপক সংখ্যক অপরাধীকে আটক করা হয়।

    থানার পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম শুধু অপরাধ দমন করেননি, বরং নিখোজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই কার্যক্রম এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

    মোট গ্রেফতার ১৮৬ জন, মামলা ১৮৭টি, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার- এসব তথ্য প্রমাণ করে ঈশ্বরদী থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে শহিদুল ইসলামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

  • পেঁয়াজ চাষে কৃষকের বিপাক: সাঁথিয়ায় আর্থিক সংকটের কাহিনী

    পেঁয়াজ চাষে কৃষকের বিপাক: সাঁথিয়ায় আর্থিক সংকটের কাহিনী

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষিরা এক অভাবনীয় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। বাজার দরের চরম পতন এবং উৎপাদন খরচের অনিয়ম্ত্রিত বৃদ্ধি কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে।

    মহিষাকোলা গ্রামের যে কৃষক নূর ইসলাম চার বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “ধারদেনা করে আশা নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। শুরুতে ভাবছিলাম ভালো লাভ পাব, কিন্তু বাজারের ধস আমাদের ভেঙে দিয়েছে।”

    তাঁর হিসেবে, প্রতি বিঘায় তিনি বিনিয়োগ করেছেন ১.১৩ লাখ টাকা। বীজ কিনেছেন ৯ হাজার টাকা মণ দরে। অথচ বাজারে বর্তমান দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ৭১-৭২ হাজার টাকা, যা প্রতি বিঘায় প্রায় ৪২ হাজার টাকা লোকসান।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, পেঁয়াজ বীজের দাম ৫-৬ হাজার টাকা থেকে ৮-১০ হাজার টাকায় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়।

    বোয়ালমারি হাটের আড়তদার রাজা হোসেন বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাঁরা পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এবার পেঁয়াজ আবাদ বেশি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক সরবরাহ বেড়ে গেছে।”

    সাঁথিয়ায় ১,৬২৭ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে এবং দেশি পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

  • ওভারটাইম আর নাইট বিলের টাকায় গড়া একটি আলোকিত ভবিষ্যতের পাঠাগার”

    ওভারটাইম আর নাইট বিলের টাকায় গড়া একটি আলোকিত ভবিষ্যতের পাঠাগার”

    আমার আজও মনে পড়ে, ছোটবেলা থেকে নতুন বইয়ের গন্ধ প্রচণ্ড ভালোবাসতাম, যা আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। গাছ ও পানির অপর নাম যদি হয় জীবন, তাহলে চোখের অপর নাম দৃষ্টি। আমার কাছে বইয়ের অপর নাম আলো। জীবনের পদে পদে ঘন কুয়াশা ভেদ করে আলোর ছটা ছড়ায় যে সূর্য, তার নাম বই। বইয়ের জগতে যে একবার প্রবেশ করে একনিষ্ঠভাবে, সেই কুড়িয়েছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মণিমুক্তা। আমি একজন বইয়ের ক্ষুদ্র গ্রাহক, পাঠক ও সংকলক।

    আমার আব্বাজান এবং মরহুম দাদাজানও ছিলেন বইয়ের পোকা। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের জন্য করেছেন জমি দানসহ আরও অনেক অনেক মহৎ কাজ। যে কাজের জন্য গ্রামের মানুষের মাঝে আমার বাবা ও দাদার নাম শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় উঠে আসে। তাদের সন্তান ও নাতি হিসেবে অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দিতে লড়াই শুরু করেছিলাম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি, দিনটি ছিল মঙ্গলবার। একটি ক্ষুদ্র পরিসর থেকে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমাদের যাত্রা ক্ষুদ্র পরিসর থেকে হলেও আশা ছিল অনেক বড়। স্বপ্ন বুনেছিলাম বিশাল হৃদয় দিয়ে। আমাদের আশা ও স্বপ্ন জুড়ে ছিল অন্ধকারে আলো ছড়ানোর মতো। সেই আশাকে ধারণ করেই এক অজপাড়া গাঁয়ের ইছামতি নদী ও নজরুল সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি বাঁশের মাঁচালে গ্রামের কিছু মুরুব্বির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয় পাঠাগারের নাম ও মেধা বিকাশে সোনালী স্লোগান।

    পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই। এই স্লোগানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করি পাঠাগারটি। দিনের অনেকটা সময় এখন পাঠাগারে ব্যয় করি আমি। নিজ বাড়ির উঠানে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের একটি ঘরের ভেতরে ১টি টেবিল ও ১২টি চেয়ার বসে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। তবে কোনোটা পাঠ্যবই নয়। কেউ ইতিহাস, কেউ সাহিত্য, কেউ ইসলামিক বই, কোরআনের মানচিত্র, আল-কোরআনের ভাষা, কেউ মিনার, মুনছুর স্যারের কবিতার বই, কেউ কালবেলা, মধুময় পাল স্যারের লেখা বই, কেউ পড়ছে আলোকিত মানুষ, কেউ পড়ছে উপন্যাস, কেউ গল্পের বই, আবার কেউ মনীষীদের জীবনীগ্রন্থ। আর কাঠের একটি বড় বুক-সেল্ফে থরে থরে সাজানো ১,০০০-১,২০০ এর অধিক বই। পাঠাগারের নাম ‘সবার জন্য পড়া উন্মুক্ত পাঠাগার’। একজন চাকরি জীবীর নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা। বর্তমানে পাঠাগারটি পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল ও কলেজ পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধানে। তাদের সহযোগিতায় সদস্য হওয়া, বই নেওয়া, বই ফেরত দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রম তারা পাঠাগারের রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

    পাবনা জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাঁথিয়া উপজেলার ১০ কিলোমিটার দূরে ধুলাউড়ি ইউনিয়ন এর ধুলাউড়ি গ্রাম। সেই গ্রামে বাড়ি আমার। বিকেএসপিতে চাকরি করার সময় আমিনুল হক বুলবুলের ক্রিকেট খেলা শিক্ষা বই পড়ার মাধ্যমে বই পড়ার জগতে প্রথম প্রবেশ শুরু হয় ২০০৭ সালে এবং বিকেএসপির চাকরি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ মেগনার ঘাট মেঘনা গ্রুপে জয়েন্ট করি ইনিঃ মোঃ আওসান হাবিব স্যারের মাধ্যমে ২য় বই বেসিক ইলেকট্রিক্যাল ইন্টারভিউ নোট বই পড়ার মাধ্যমে কর্ম জীবনে যেমন সফলতা আসে বই পড়ার প্রতি আরো বেশি আসক্তি হয়ে পড়ি। এইভাবে দু’একটি করে বই কিনে পড়তে পড়তে একসময় আমার কাছে ৪০০-৫০০ বই জমা হয়ে যায়। এই সব বই যে পড়েছি তা কিন্তু নয়। যাই হোক, ২৫০-৩০০ বই রয়ে যায় উত্তরাতে এবং ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি নিজের গ্রামে ২৫০ বই নিয়ে যখন পাঠাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করি। পরে বন্ধু, সহপাঠী, পাড়া–প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সহায়তা চাইলে তাঁরা ব্যাপক সাড়া দেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে বই সংখ্যা এখন ২,২৬৩। চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে আছি। এবিএফ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা- বয়লার অপারেটর গ্রুপ, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই-চার পাট জন্য চাকরির ব্যবস্থা করে থাকি।

    পাঠাগার তৈরির ইচ্ছাটা আমার ছোটবেলা থেকেই। চাকরি সুবাদে হাবিব সাহেবের উপহার দেওয়া বই ‘বেসিক ইলেকট্রিক্যাল ইন্টারভিউ নোট’ পড়েই জানতে পারি পাঠ্যবইয়ের বাইরে যে জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার রয়েছে, তা সেদিনই তাঁর সামনে উন্মোচিত হয়। তিনি বলেন, ‘অফিস ছুটির পর প্রায় দিনই বাসায় গিয়ে বই পড়তাম। এভাবেই অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু গ্রামে ছেলেমেয়েদের জন্য বই পড়ার তেমন কোনো সুযোগ–সুবিধা নেই। তখন থেকেই মনে হতো গ্রামে একটি পাঠাগার করতে পারলে সবাই বই পড়ার সুযোগ পাবে।’

    প্রতিদিন অফিস যাওয়া-আসা ও টিফিন বিল জমা করে ও মাস শেষে বেতন তুলে আরো নতুন নতুন বই কেনা ও পড়া শুরু করি। অন্যদিকে মাস শেষে বাকি টাকা বাবাকে পাঠাই। গ্রামের কৃষক পরিবার আমাদের। বাবা নিজ জমিতে কৃষি কাজ করে যা আয় হত তা দিয়েই মা ও চার বোন ও আমাদের সংসার চলে। আমি যখন ৫ম শ্রেণীর ছাত্র, তখন হঠাৎ করেই মা অসুস্থ হয়ে মারা যান। তখন পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে জমিতে কাজ শুরু করি। এইভাবে চলছিলো, কিন্তু বাবা আবার ২য় বিবাহ করলেন। তখনও ভালোই চলছিলো তবে যখন ৭ম শ্রেণীর ছাত্র, তখন থেকে বাবা ও সৎ মায়ের আচার-আচরণ কেমন যেন পরিবর্তন হতে শুরু করে। আমি যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ি, তখন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হই। এরপর পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে প্রথম চাকরি শুরু করি বিকেএসপিতে, সেখান থেকে কিছু অর্থ জমিয়ে বইয়ের পেছনে ব্যয় করা শুরু করি। এভাবেই ধীরে ধীরে নিজের সংগ্রহে অসংখ্য বই জমা হতে থাকে। পাঠাগারের জন্য আসবাব, বই রাখার বুক-সেল্ফ ও প্রয়োজনীয় সবই কিনেছি নিজের টাকায়। ‘করোনার সময় শুরুর দিকে কর্মস্থল বন্ধ হয়ে গেলে গ্রামের চলে আসি। গ্রামের সকল মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী ও সকল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ মানুষ ফেসবুক, ইমু, টিকটক, লাইকি, ভিডিও গেইমসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিকে যেমন বাদ দেওয়া যাবে না, তেমনি বই পড়াকে ত্যাগ করা যাবে না। কারণ বই আপনার অজ্ঞাতার প্রাচীর ডিঙিয়ে জ্ঞানের আলোয় আপনাকে করবে আলোকিত মানুষ। তাই এ কথা মাথায় রেখে চিন্তা করতে থাকি কীভাবে সবাইকে আবারও বইমুখী করা যায়। একদিন মনে হলো আমার কাছে যত বই আছে, সেগুলো দিয়ে একটি পাঠাগার শুরু করা সম্ভব। সবার সঙ্গে কথা বললাম, মোঃ মোনাইম খাঁন কাকা তাতে সায়ও দিয়েছেন। তারপর পাড়ার সবাইকে নিয়ে বসে পাঠাগারের নাম ঠিক করা হয়। তারপর আমার পরিচিত অনেকে বই দিয়েছেন। এভাবেই পথচলা শুরু ও এখনো চলছে।

    পাঠাগারের শিশুতোষ গ্রন্থ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য, বিনোদন, রাজনীতি, অর্থনীতি, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রচনাসমগ্র, জীবনী, ছোটগল্প, কবিতা, ভাষাতত্ত্বসহ সাহিত্যের সব ধারার বই রয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০-১৫ জন পাঠক এসে নিয়মিত বই পড়েন ও নিজ বাড়িতে বই নিয়ে পড়ার সুযোগ পান।

    পাঠাগারের আরেক সদস্য তেজগাঁও কলেজের ছাত্র সুমন বলেন, আমাদের গ্রামের মানুষের জন্য কিংবা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আশেপাশে তেমন কোনো পাঠাগার না থাকায় বই পড়তে হলে আমাদের ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সরকারি গ্রন্থগারে যেতে হয়। যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টসাধ্যও দুরহ ব্যাপার। কিন্তু “সবার জন্য পড়া উন্মুক্ত পাঠাগার” থাকায় আমরা যখন খুশি তখন যে কোনো ধরণের বই পড়ে আনন্দিত হতে পারি ও জ্ঞান আরোহণ করতে পারি।

    পাঠাগারের সহযোগিতায় থাকা Alif Boiler Company-এর এমডি জি এম ইলিয়াস হাসান বলেন, পাঠাগারটি ধুলাউড়ি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠ্যভ্যাস তৈরীতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়েন শিক্ষার্থীরা। পাঠাগারটি জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করছে, যা তাদের ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই পাঠাগারটির উন্নয়নে সমাজের শিক্ষানুরাগী ও বিত্তবানদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

  • গভীর রাতে পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    গভীর রাতে পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    গভীর রাতে পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

     জেলা প্রতিনিধি  পাবনা

    ডিবি পুলিশ পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানকে গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার (২৪ মে) রাত ১২টার দিকে দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করেন।

    পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান আহমেদ তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সুলতান মাহমুদ খান একাধিক মামলার আসামি বিষয়টি পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। আর ঐ গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গত রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভাঁড়ারা ইউনিয়ন রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে খ্যাতি আছে। গত ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনের ঠিক ১৫ দিন আগে ১১ ডিসেম্বর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান মাহমুদ খান ও ইয়াসিন আলমের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। ঐ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন আলম নিহত হন। নৌকার প্রার্থী এবং টানা ২৫ বছরের চেয়ারম্যান ও পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খানকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদ ২০২২ সালের ১৫ জুন ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। আবু সাঈদ খান এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারোফ হোসেনের পক্ষে মো. সুলতান মাহমুদ উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

    গ্রেফতারের বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারোফ হোসেন পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাাঁড়া মেলেনি।

    facebook page