Category: বীজ

  • জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি

    লতিরাজ কচু আমাদের দেশে অনেকগুলো জনপ্রিয় সবজির মধ্যে একটি। এই লতি কচু বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলেছে। অনেকে মূলত পানি কচুকেই কচুর লতি বলেন। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই লতিরাজ কচু। মুখীকচু বেশ জনপ্রিয় একটি কচু আর এর পরই কচুর লতির স্থান।

    বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লতির মূল্য ৭০-৮০ কেজি। খুব সহজেই লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি কি তা জেনে নেয়া যাক।

    সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে কচুর লতি ভালো জন্মে। কচুর লতি প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায় তবে পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। কচুর লতি জন্য মাঝারি নিচু শ্রেণির জমি প্রয়োজন যেখানে বৃষ্টির পানি জমে বা জমির পানি ধারণ ক্ষমতা আছে এমন। অল্প আলো বা ছায়াযুক্ত জমিতে লতি কচু ভালো জন্মাতে পারে। প্রখর রোদেও  ভালো ফলন দেখা যায়।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০৩

    আমদের দেশে বেশ কিছু কচুর লতির জাত রয়েছে। দেশী জাতের গাছ ছোট, পাতা ছোট ও চিকন সরু ও লম্বা হয়। আর উন্নত জাতের লতি লম্বা ও মোটা এবং গিটযুক্ত হয়। আবার খাটো ও মোটা, শাসাল ও মাংসল যা দ্রুত গলে যায় এমন জাতেরও রয়েছে।

    এ দেশে উদ্ভাবিত পানি কচুর দুটি উন্নত জাত যেমন বারি পানি কচু ১ ও বারি পানি কচু-২। আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত দুটি জাত লতি উৎপাদনের জন্য ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের ভালো চারা বাছাই করতে হবে এবং চারাগুলি বোনার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। চারা বপন করতে সমান দূরত্ব রাখতে হবে এবং প্রতি লাইনে চারা গুলি সঠিকভাবে লাগাতে হবে।

    সেপ্টেম্বর মাসে জমির লতি হারভেস্ট করার আগেই লতির আগায় জন্মানো চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। তারপরে কচুর লতি চাষ করার জন্য সংরক্ষিত চারাগুলোকে আলাদা কোনো জায়গায় পুঁতে রাখতে হবে। জমিতে এসকল চারা পুনরায় শীতের আগেই লাগিয়ে ফেলতে হবে। লাগানো লতির চারা থেকে ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে লতি আসা শুরু হয়।

    কচুর লতি চাষের জন্য জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিয়ে মাটি সমান করে জমি তৈরি করে নিতে হবে। কচুর লতির চারা জমিতে সারি সারি করে লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চারা লাগালে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৮, ০০০ চারা প্রয়োজন হবে। গুড়িচারা কচুর লতির চারা হিসেবে লাগানো হয়।

    জমি থেকে ভালো ও বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে অবশ্যই সুষম সার দিতে হবে। প্রতি বিঘাতে কচুর লতি চাষের জন্য ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি এমওপি, ১৮ কেজি টিএসপি ও ৫০০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। লতি চাষে সব সার একত্রে দেয়া উচিত নয়। প্রথম পর্যায়ে ইউরিয়া ব্যতিত অন্যান্য সব সার জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

    চারা লাগানোর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পরেই জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই জমিতে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চারা লাগানোর সময় জমিতে পানি না থাকলে অতিরিক্ত সেচের মাধ্যমে জমি কাদা করতে হবে। লতির জমি শুকিয়ে গেলে কচু গাছের ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টির অপেক্ষা না করে জমিতে প্রবাহমান পানি নিশ্চিত করতে হবে।

    লতি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি থাকা প্রয়োজন। আর দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পানি থাকলে জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। জমিতে আগাছা থাকলে শামুক আশ্রয় নেয় ও কচুর লতি গাছে উঠে পাতা খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জমির এসব আগাছা হাতে টেনে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

    জনপ্রিয় সবজি লতিরাজ কচুর চাষাবাদ পদ্ধতি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ লতিরাজ কচু ০১

    ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট আগাম কচুর লতি চাষে ক্ষতি করে। কচুর লতির ক্ষেতে মাকড়ের আক্রমণ থাকলে পাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে বিন্দু বিন্দু শুকনো দাগ দেখা যায়। মাকড় পোকা দূরীকরণে মাকড়নাশক ব্যবহার করতে হবে। আবার এমনভাবে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে পাতার উল্টো পাশও ভিজে যায়।

    লেদা পোকার আক্রমণও কচুর লতির ক্ষেতে দেখা যায়। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করে লেদা পোকা দমন করা যায়।

    চারা রোপণের প্রায় ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে। যে কোন বয়সেই গাছ থেকে কচুর লতি তুলে খাওয়া যায়। তবে জরুরী বিষয় হচ্ছে, ছোট সাইজের লতি গাছ থেকে তুললে লতির ফলন কমে যেতে পারে। গাছের সবচাইতে বড় আর মোটা লতিগুলো প্রথমে তুলতে হবে।

  • স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ: কারণ, প্রতিরোধ এবং সঠিক পরিচর্যা

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ: কারণ, প্রতিরোধ এবং সঠিক পরিচর্যা

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগ হলো একটি প্রচলিত ফুলফলের রোগ, যা পুষ্টি অভাব, পোকা বা কীট আক্রমণ, বা অশুদ্ধ পানি পরিবেশের কারণে স্ট্রবেরি গাছের লিজার্ড অংশের উপর আক্রমণ করে। এই রোগের ফলে স্ট্রবেরি গাছের গোড়া পচা হয়ে যায়, যা ফলে স্ট্রবেরি ফলের মান ও রঙে ক্ষতি হয়ে থাকে।

    এই রোগের কারণে অনেক সময় স্ট্রবেরি ফলের উপর ছালা পড়ে যা সাদা বা হলুদ রং হয়ে যায় এবং তা ফ্যাকেরিয়া পোকা বা অন্যান্য ফাংগাস জনিত রোগের চেহারা দেখাতে পারে। আরও অন্যান্য উপাদানের প্রভাবে স্ট্রবেরি ফলের গোড়া পচা হতে পারে।

    এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলি হলো:

    ১. স্ট্রবেরি ফলের গোড়া মেলা অথবা ধুসর রঙের হয়ে যাওয়া। ২. গোড়ার উপর ছালা পড়ে থাকা যা সাদা বা হলুদ রঙের হয়ে যায়। ৩. ফলের আকার অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। ৪. ফলের গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তন হওয়া।

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে কিছু পরামর্শ নিম্নে দেওয়া হলো:

    ১. সুস্থ ফলজাত বেছে নেওয়া। ২. গাছের দেখার মধ্যে পরিষ্কারতা বজায় রাখা। ৩. নিয়মিত ফসল বিস্তার নিশ্চিত করা। ৪. ফলে অভাবগ্রস্থ ফলগুলি বেছে নেওয়া। ৫. স্ট্রবেরি গাছে পরিমিত রোগনিরোধক প্রস্তুতি করা যেমন ফুংসিডাইড বা পরিস্কারক।

    স্ট্রবেরি গোড়া পচা রোগের প্রতিরোধ এবং প্রতিষ্ঠান উপায়ে মূলত এই সময় যে অনুসন্ধান চলছে তা অধিক করে প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে এই রোগের প্রতিরোধ করা হয়।

    Facebook Page