আবু শাহীন, ঠাকুরগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক কবিরুল ইসলাম জয় (২৮) দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জেলার ভুল্লী থানার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোখের চিকিৎসার জন্য কবিরুল ইসলাম জয় ঢাকায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঠাকুরগাঁও বাস টার্মিনালে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম চয়ন জানান, জয়-এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর জখমের কারণে তার শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় কবিরুল ইসলাম জয় সাংবাদিকদের জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ভোর ৫টার দিকে ভুল্লী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী দুই ব্যক্তি ফোন করে জানতে চায় তিনি কোথায় আছেন। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। জয় দাবি করেন, হামলাকারীদের তিনি চিনতে পারেননি, তবে তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা করা। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান জনাব দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
জয়-এর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনকারীরা এবং সাধারণ জনগণও সোচ্চার হয়েছে।

Leave a Reply