গতকাল যশোরে অনুষ্ঠিত হলো দৈনিক কৃষক কণ্ঠ-এর খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা থেকে আগত জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের কৃষি সংবাদ প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল কৃষি খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিয়ে একটি গভীর আলোচনা এবং মতবিনিময়ের সুযোগ।
সম্মেলনের শুরুতেই প্রতিনিধিরা তাঁদের নিজ নিজ জেলার স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া একটি বড় ইস্যু হিসেবে উঠে আসে। কৃষকরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাঁদের জীবিকা এবং উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সম্মেলনে সবাই একমত হন যে, নীতিগত পর্যায়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
কৃষি সংবাদ প্রতিনিধিদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রতিটি জেলায় কৃষক কণ্ঠ পাঠক ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ফোরামের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের সমস্যা সরাসরি উর্ধ্বতন মহলে পৌঁছানো সহজ হবে এবং কৃষকেরা তাদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. এ.কে.এম খায়রুল বাশার, যিনি দৈনিক কৃষক কণ্ঠ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি বলেন, “এটিকে কেবল একটি সম্মেলন বলা ঠিক হবে না, বরং এটি একটি মতবিনিময় সভা যেখানে কৃষকেরা সরাসরি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যার কথা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিওর ক্রাফট লিমিটেড; জনাব মোঃ হামিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিপিসি এগ্রো; জনাব মোঃ সুলতান মাহমুদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পদ্মা এগ্রিকেয়ার এবং জনাব মোঃ রাজু আহমেদ, মার্কেটিং অফিসার, গোল্ডেন এগ্রো কেমিক্যালস লিমিটেড। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জনাব আক্তার হোসেন, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার, টিম এগ্রি সায়েন্স।
সম্মেলনের মূল আলোচনায় উঠে আসে কৃষি খাতের উন্নয়ন, কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো। প্রতিনিধিদের মতে, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও প্রসারিত করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়। এছাড়াও, সরকারি সহযোগিতা এবং প্রণোদনা আরও স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করতে হবে যাতে কৃষকরা সরাসরি এর সুবিধা পান।
সমাপনী পর্বে, উপস্থিত প্রতিনিধিরা কৃষি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। সকলেই একমত হন যে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের নানা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং এতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।
এই সম্মেলন শুধু একটি আলোচনা সভা নয়; বরং এটি ছিল একটি প্রতিজ্ঞা—যেখানে দেশের কৃষি উন্নয়নের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কৃষকেরা এবং সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

Leave a Reply