জামালপুরে সরিষার ক্ষেত এখন হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে, যার মধ্যে মৌমাছির গুঞ্জরণে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে আরও মধুর। সারা মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ যেন এক নান্দনিক গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। এই দৃশ্যটি গ্রামের পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করেছে, যেখানে মধু সংগ্রহের কাজে যুক্ত পেশাদার মৌয়ালরা ব্যস্ত।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে উদ্যোক্তারা মধু সংগ্রহকে শুধু একটি সম্ভাবনা হিসেবে নয়, বরং একটি লাভজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানায়, মধুর উচ্চ চাহিদা এবং লাভজনকতা কারণে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের এই জেলা মৌমাছি পালন এবং মধু সংগ্রহের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডিএই সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামালপুরের সরিষা ক্ষেত সরিষার হলুদ রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে এবং মধু সংগ্রহকারীরা ইতোমধ্যেই ১০,৫৩০ কিলোগ্রাম মধু সংগ্রহ করেছেন। এই সময়ে মধু সংগ্রহকারীরা ৭,২৮৭টি মৌচাক স্থাপন করেছেন, যা মধু উৎপাদন, ফসল পরাগায়ন এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জেলার ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হলেও মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে ৪,৬১৫ হেক্টর জমি থেকে। এ বছরে প্রায় ৪৫ জন মধু সংগ্রহকারী সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌচাক স্থাপন করেছেন।
এছাড়া মধু সংগ্রহকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেছেন, “মধু সংগ্রহের এই মৌসুমে তারা ভালো পরিমাণ মধু সংগ্রহ করছেন এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে,” এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
কৃষকরা বলছেন, মধু সংগ্রহের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সরিষার পরাগায়নও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

Leave a Reply