Category: রাজনীতি

  • লন্ডনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে ‘ওয়ান–স্টপ সার্ভিসে’

    লন্ডনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে ‘ওয়ান–স্টপ সার্ভিসে’

    লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য যাতে তাঁকে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে নিতে না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    লন্ডনেপ্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের যে পদ্ধতি; অর্থাৎ উনাকে তো এখন লিভার, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, প্রেশার, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস—প্রতিটির জন্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে।’

    জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘এর বাইরেও আরও যদি কোনো চিকিৎসা করা যায়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস হসপিটালের মেডিকেল টিমের সদস্যরা এখানে মেডিকেল বোর্ডের সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাতে আমরা এটাকে এক ছাদের নিচে চিকিৎসা যেটা বলে, ওয়ান আমব্রেলার (ছাতা) নিচে; অর্থাৎ ওয়ান–স্টপ সার্ভিসের মতো, সেটা করার ব্যাপারে উনারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’

    মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা সর্বশেষ পরীক্ষা–নীরিক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেছেন বলে জানান জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আরও কিছু পরীক্ষা–নীরিক্ষার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরও কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দুই–এক দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে দেখবেন।

    জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, বর্তমানে যে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসাপদ্ধতি চলছে, সেটার পাশাপাশি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বয়স এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করবেন।

    ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার লন্ডনের বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল দ্য ক্লিনিকের অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে হার্ট, কিডনি, লিভার, আথ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস রোগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

    ৮ জানুয়ারী লন্ডনের দ্য ক্লিনিকে ভর্তির পর থেকে খালেদা জিয়া অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। ৮ জানুয়ারি বুধবার খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন আসেন। সেদিন লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাঁকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল ‘দ্য ক্লিনিক’–এ নিয়ে ভর্তি করা হয়।

  • জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে সারজিস আলমের পদত্যাগ

    জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে সারজিস আলমের পদত্যাগ

    জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন সারজিস আলম।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোষ্ট দিয়ে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

    পোষ্টে মি. আলম লিখেছেন, গত ৩১শে ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং সাতই জানুয়ারি ‘সাইনিং অথরিটি’ হস্তান্তরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব শেষ করেছেন।

    তবে, পদত্যাগ করার তিন সপ্তাহ পরে কেন বিষয়টি প্রকাশ করা হলো সে বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দেননি মি. আলম।

    এছাড়া, সারজিস আলমের পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই পক্ষের মধ্যকার সংঘাত এবং সে প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে তার পদত্যাগের দাবির কোন সম্পর্ক রয়েছে কী-না তা জানা যায়নি।

    ফেসবুক পোষ্টে সারজিস আলম লিখেছেন, তার পদত্যাগের সাথে সাথে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্র, কাঠামো ও কাজের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    একইসাথে এই ফাউন্ডেশনে এখন থেকে সাধারণ সম্পাদক নামে কোন পদ থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পোষ্টে তিনি আরো লিখেছেন, “যতদিন পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ সময় ফাউন্ডেশনে দিতে পেরেছি ততদিন আমি দায়িত্ব পালন করেছি ৷ যখন মনে হয়েছে – এখন থেকে ফাউন্ডেশনে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া আমার জন্য সম্ভব হবে নয় তখন আমি দায়িত্ব থেকে সরে এসেছি ৷”

    “আমার কাছে নিজের সীমাবদ্ধতা এড্রেস করা এবং সে অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহন বা ত্যাগ করা কোনো দূর্বলতা নয় বরং এটাতে সৎ সাহস লাগে ৷ আমি চেষ্টা করেছি আমার চেয়ারের দায়িত্বের সাথে সৎ থাকতে।”

  • প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন

    প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন

    প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় সংবিধান সংস্কার কমিশন। সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধান পুনর্বহালের প্রস্তাবও করেছে।

    আজ বুধবার সংবিধান সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন।

    সংবিধান সংস্কার কমিশন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট চালু করার জন্য সুপারিশ করেছে। এই দ্বিকক্ষে যাতে করে সবার প্রতিনিধিত্ব থাকে এবং একইসঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিম্নকক্ষ করতে এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বে উচ্চকক্ষ তৈরি করার জন্য সুপারিশ করেছে।

    কমিশন মনে করে, গত ১৬ বছর বাংলাদেশ যে একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের মোকাবিলা করেছে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে ক্ষমতার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য ছিল না। সে কারণে যাতে একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ ও নির্বাহী বিভাগের দুটি পদ—প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য কমিশন চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হিসেবে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল নামে একটি সাংবিধানিক সংস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে।

    সেই কমিশন থাকবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, সংসদের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা, দুই কক্ষের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার যারা আসবেন বিরোধী দল থেকে এবং একজন থাকবেন যিনি অন্যান্য দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করবেন।

    কমিশন মনে করে এই প্রতিষ্ঠান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করতে পারবে।

    ‘এটা প্রায় স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস করা জরুরি এবং যাতে করে তিনি একক ইচ্ছায় নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দিতে না পারেন, এজন্য এগুলোকে কমিশন জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের কাছে অর্পণ করার সুপারিশ করেছে।’

    কমিশন মনে করে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হওয়ার ব্যবস্থা দরকার এবং সেই কারণে ৭০ অনুচ্ছেদ দ্বারা যেন প্রধানমন্ত্রী কেবলমাত্র সুরক্ষিত না হন, সেজন্য কমিশন তার কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছে।

    কমিশন মনে করে যে, বাংলাদেশকে যেভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বলা হয়, তার মধ্যে আসলে যে প্রজাতন্ত্রের কথা হয়, সেটার সঙ্গে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে এবং কমিশন বলেছে, বাংলাদেশ পরিচিত হওয়া উচিত জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে।

    কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের সুস্পষ্ট কাঠামোর পরামর্শ দিয়েছে এবং সেক্ষেত্রে কমিশন মনে করে যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বাছাইয়ের দায়িত্বভার কোনো ব্যক্তি বা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর থাকা ঠিক না, সেজন্য এটিকে কমিশন জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের ওপর অর্পণের পরামর্শ দিয়েছে৷

    কমিশন বিচারবিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করেছে। কমিশন বলছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সুগম করতে হলে এবং সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে কমিশন মনে করে বিচারবিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার৷

    কমিশন সুপ্রিম কোর্টের একক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেই দেশের সব বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বিভাগের মর্যাদা এবং এখতিয়ার-সম্পন্ন একটি একক স্থায়ী আসন প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে।

    কমিশন মনে করে এবং যাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তারা সবাই মনে করে একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা থাকা জরুরি, সেজন্য কমিশন স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। তারা জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে সমন্বয়ক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবও করেছে।

    এ ছাড়াও কমিশন মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণের কথা বলেছে এবং সেগুলোকে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষার জন্য একটি সমন্বিত একক সনদের সুপারিশ করেছে।

    কমিশন মনে করে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের যে পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, তাতে করে ব্যক্তির ইচ্ছা প্রতিফলিত হয় বলে কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে এবং এক ধরনের নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে যাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সেটার সুপারিশ করেছে।

    কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় বলেন, কমিশন আশা করে সুপারিশগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো এক ধরনের ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারবেন।

  • জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে যাচ্ছে না বিএনপি

    জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে যাচ্ছে না বিএনপি

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই বৈঠকে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বৃহস্পতিবার সকালে একটি বেসরকারি  টেলিভিশনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।

    এর আগে, বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্রের ওপর একটি সর্বদলীয় বৈঠক আয়োজন করবে।

    এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সর্বদলীয় বৈঠকের কথা জানান। মাহফুজ আলম বলেন, এই বৈঠকের ভেতর দিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দলিল প্রণীত হবে। সেদিনই স্পষ্ট হবে, কবে ঘোষণাপত্রটি জারি করবো এবং সরকার কীভাবে ঘোষণাপত্র জারির করার বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের একটি প্রেক্ষাপট-প্রত্যাশা এই ঘোষণাপত্রে প্রতিফলিত হবে। সব রাজনৈতিক দল এবং পক্ষের মতামত নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই ঘোষণাপত্র ঘোষিত হবে।

    সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

  • শেখ হাসিনা সুবিধা দেওয়ায় সীমান্তের ১৬০ জায়গায় বেড়া দিয়েছে ভারত: রিজভী

    বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬০টি জায়গায় ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।

    আজ সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন রিজভী। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আয়োজক জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটোরিকশাচালক শ্রমিক দল। বিএনপির মিডিয়া সেল এই তথ্য জানিয়েছে।

    বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনা ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারতকে নানা সুবিধা দিয়েছেন। এই সুবিধার কারণে ভারত নানা অসম কাজ করেছে। দুটি স্বাধীন দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যে কাজগুলো করা যায়, সেটা না করে ভারত জোর করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। শেখ হাসিনা সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে ভারত সীমান্তের ১৬০টি জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।

    ৪ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম, বিধিবিধান, দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি, আলাপ-আলোচনাও মানছে না ভারত। শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজ সীমানার মধ্যে কোনো উন্নয়ন–পরিকল্পনা নিতে গেলে দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।

    কিন্তু সেটা না মেনে ভারত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জায়গার সীমান্তে। এর বিরুদ্ধে যে জনগণ দাঁড়াতে পারে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা প্রতিরোধ করতে পারেন, এ দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনার আমলে তিনি স্থাপন করতে দেননি। তিনি ফ্যাসিজম দিয়ে, তাঁর নির্দয়তা দিয়ে, তাঁর নির্মমতা দিয়ে ভারতের সেবাদাস হয়ে কাজ করেছেন।

    রিজভী বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) একটা কথা বলতেন, নিজের দলের লোকদেরও বলেছেন যে আমার দলের লোকদের মধ্যে অনেককে কেনা যায়, কিন্তু শেখ হাসিনাকে কেনা যায় না। আরে, আপনাকে (শেখ হাসিনা) তো সবার আগে কেনা যায়…ভারত আপনাকে সবার আগে কিনেছে…কেনার কারণে আপনার নিজের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গৌরবকে আপনি পদদলিত করে ভারতকে অসম কাজ করার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন।’

    দোয়া মাহফিলে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে রিকশা-ভ্যান-অটোরিকশার চালকদের ভূমিকা, আত্মত্যাগ, বীরত্ব, আহত হওয়ার কথা স্মরণ করেন রিজভী। আহত ব্যক্তিদের পাশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের থাকার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

  • লন্ডনে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া

    বুধবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে তাকে বহন করা এয়ারবাসটি অবতরণ করে। হিথ্রো বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে ভিআইপি প্রটোকল দেয়।

    এসময় বিমানবন্দরে তাকে বরণ করতে তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন

    উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে কাতার আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।

    বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সেলিম রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ।

    সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

    খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে যারা গেলেন

    সফরে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ তার চিকিৎসক, পরিবার ও তার কাজের সহকারী রয়েছেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে গেছেন তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতিমা বেগম। চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছয়জন সদস্য, তারা হলেন- মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিক, অধ্যাপক নরুদ্দিন আহমেদ, জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও মোহাম্মদ আল মামুন।

    এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও প্রটোকল অফিসার এস এম পারভেজ।

  • “লন্ডনের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার বিদায়: পথে পথে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর স্লোগানে ব্যতিক্রমী যাত্রা”

    “লন্ডনের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার বিদায়: পথে পথে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর স্লোগানে ব্যতিক্রমী যাত্রা”

    গুলশান থেকে বিমানবন্দর, আড়াই ঘণ্টার যাত্রা: উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে যাওয়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে পথে পথে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছিলেন

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশ যাওয়ার আগে গুলশান থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।

    রাত সোয়া আটটার দিকে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। এই সময় তাঁর গাড়ির সঙ্গে ছিলেন দলের নেতা–কর্মীরা, যারা তাকে বিদায় জানাতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছান।

    এ সময়, খালেদা জিয়া যখন ‘ফিরোজা’র দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামেন, তাঁকে হুইলচেয়ার দিয়ে নিচে নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে উপস্থিত নেতারা দাঁড়িয়ে সালাম বিনিময় করেন এবং খালেদা জিয়া তাদের সাথে আলাপচারিতা করেন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আক্তার রানু জানান, খালেদা জিয়া অত্যন্ত প্রাণবন্ত ছিলেন এবং সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বারবার বলেন, “সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

    বিদেশযাত্রার আগমুহূর্তে খালেদা জিয়া দলের নেত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, “তোমার ছেলের বিয়ের খাবার আমি খেয়েছি।” মহিলা দলের নেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক নেত্রী শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার, শামা ওবায়েদ, আমানউল্লাহ আমান, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

    গাড়িবহরের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক তাঁকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন। গুলশান থেকে বনানী ক্রসিং পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। বনানী ক্রসিং থেকে র‍্যাডিসন হোটেল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি কম ছিল, তবে বিমানবন্দর সড়কের একপাশ বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

    খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের আগে একটি মোটরসাইকেল ও গাড়ির কনভয় চলে, যার সঙ্গে জাতীয় পতাকা ছিল। দলের নেতা–কর্মীরা ‘গর্ব মোদের আলাদা, নেত্রী মোদের খালেদা’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ নানা স্লোগান দেন।

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম রাত ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতার জন্য দলের নেতা-কর্মী এবং দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

  • কোথায় আছেন মেজর ডালিম

    কোথায় আছেন মেজর ডালিম

    মেজর শরিফুল হক ডালিম, যিনি অধিকাংশ মানুষ মেজর ডালিম নামেই চিনেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাসদস্যদের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে মেজর পদে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি লেফটেনেন্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পান, তবে মেজর ডালিম নামেই তিনি পরিচিত।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঐ ঘটনায় মেজর ডালিমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য এই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর ও অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়। মেজর ডালিমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে, কিন্তু তার অস্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে রহস্যাবৃত ছিল।

    সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মেজর ডালিমকে আবার জনসম্মুখে দেখা যায়। ৫০ বছরের বেশি সময় পর তাকে আবার দেখতে পেয়ে অনেকেই চমকে যান, কারণ অনেকেই জানতেন না যে তিনি বেঁচে আছেন। তবে মেজর ডালিমের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি।

    ২০০৯ সালে বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম “ডেইলি স্টার” সূত্রে জানা যায়, মেজর ডালিম পাকিস্তানে বসবাস করেন এবং তিনি প্রায়ই লিবিয়া, বিশেষত লিবিয়ার বেনগাজিতে যাতায়াত করেন। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছিল যে, মেজর ডালিম বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় বাংলাদেশ সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা। এই টাস্কফোর্সের প্রধান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি-উর-রেহমান।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি-উর-রেহমান দাবি করেছিলেন যে, মেজর ডালিম কেনিয়া, নাইরোবি সহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ব্যবসা করেন এবং সেখানে তার পাসপোর্টও ছিল। এমনকি তিনি কেনিয়ার পাসপোর্টও সংগ্রহ করতে সক্ষম হন, যা তাকে বিভিন্ন দেশে চলাফেরা করতে সুবিধা প্রদান করে।

    এই সমস্ত তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, মেজর ডালিমের জীবন খুবই রহস্যময় এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনও অনেক অজানা তথ্য রয়েছে।

  • নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তাব: রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করতে চ্যালেঞ্জ

    নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তাব: রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করতে চ্যালেঞ্জ

     

    ঢাকা: নির্বাচনী সংস্কার কমিশন, যা গত কয়েক মাস ধরে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কাজ করে আসছে, এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এই প্রস্তাবগুলো আগামী ৩ জানুয়ারি সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন তাদের প্রস্তাবে ‘না’ ভোটের বিধান চালু, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং নির্দলীয় প্রতীকে ভোটের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

    কমিশন জানিয়েছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা বেশ কিছু প্রস্তাব তৈরি করেছে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠন এই সংস্কারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বিএনপির মধ্যে ‘না’ ভোট নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আসলে যারা ভোটকেন্দ্রে যারা যায়, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটই দিতে যায়। অতীতে একবার চালু হয়েছিল, তখন আমরা দেখছি না ভোটে মানুষের আগ্রহ নেই। এতে পরিস্থিতি জটিলতার দিকে যায়।”

    অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা এখনো ‘না’ ভোট নিয়ে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত করেনি এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত নেবে।

    এছাড়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান বলছেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার বাস্তবায়ন ও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে সরকারকে। সেক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি না হলে সংস্কার অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে সরকারের জন্য।”

    নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার আশা প্রকাশ করেছেন, “আমরা আমাদের প্রস্তাবনা দিবো। আশা করবো রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। এখন কেউ একমত না হলেও প্রয়োজনে পরে একমত হবে।”

    কমিশনের মতে, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে, এবং তাই তারা নতুন কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে যাতে আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠুতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়।

    এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এসব সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কিনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা যাবে কিনা।