অতি দ্রুত একটি লাভজনক ব্যবসা দাঁড় করাতে মুরগি পালনের সহজ উপায় সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আর একই সাথে জানতে হবে বিশেষ কিছু টিপস যা সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয়।
দেশী মুরগী কিংবা ব্রয়লার মুরগি পালন বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে পরিচিত। অনেকেই ইতিমধ্যে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। আবার অনেকে খুঁজছেন মুরগি পালনের সহজ উপায়। তাই আমরা এখানে আলোচনা করব মুরগি পালনের সহজ কৌশল এবং নতুনদের জন্য পরামর্শ নিয়ে।
যেকোনো কাজ শুরু করার পূর্বেই আমরা তার গুরুত্ব সম্পর্কে জানার জন্য পরামর্শ দেই। তাই এক্ষেত্রেও আপনাকে মুরগী পালনের গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে।
মুরগী পালন থেকে প্রাপ্ত মাংস এবং ডিম গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস। ফলে বাড়িতেই আপনার প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎস আপনি পেয়ে যাচ্ছেন।কৃষক ভাইয়েরা কৃষি কাজের পাশাপাশি মুরগী পালন করে স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারেন। গ্রামের মহিলারা কিংবা কম বয়সী যুবক যারা চাকরি পাচ্ছেন না, তারা এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
তাছাড়া কম মূলধনে এবং কম জমিতে করা সম্ভব বলে আপনার অধিক বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই।এই ব্যবসা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক নয়। স্থানীয় ভাবে বাজারজাত করা যায় বলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এসকল কারণেই মুরগী পালন বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কৃষি উদ্যোগ।
কিভাবে শুরু করবেন মুরগী চাষ
আপনি যদি এই উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, তাহলে ছোট পরিসরে মুরগী পালন শুরু করে দিতে পারেন। তবে ছোট বা বড় যে পরিসরেই হোক না কেনো সফলভাবে মুরগী পালনের জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু প্রাথমিক ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
উদ্দেশ্য নির্ধারণ
মুরগী পালনের উদ্দেশ্য সাধারণত তিন রকম হয়ে থাকে। এগুলো হলো- মাংস উৎপাদন, ডিম উৎপাদন কিংবা উভয়ই। প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে কেনো আপনি মুরগী পালন করতে চান। কারণ উদ্দেশ্য অনুযায়ী আপনার কার্যপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হবে।
জায়গা নির্বাচন
মুরগীর জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে। নিচু জমি যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে এমন জমি নেয়া যাবে না। উঁচু এবং রৌদ্রজ্বল স্থান মুরগী পালনের জন্য উপযুক্ত। পাশাপাশি ভালো স্থানটিতে পরিমিত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
মুরগীর বাসস্থান তৈরী
এই বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কীভাবে মুরগী পালন করবেন তার উপর। গ্রামীণ পদ্ধতিতে অনেকেই ছেড়ে মুরগী পালন করেন। এতে মুরগী সকালে ছেড়ে দেয়া হয় এবং রাতে ফিরে আসে। এভাবে মুরগী পালন করলে যতগুলো মুরগী আছে তা থাকতে পারবে এমন পরিমিত জায়গা হলেই যথেষ্ট।
তবে যদি আপনি বদ্ধ অবস্থায় খাচায় মুরগী পালন করেন, তাহলে প্রতি মুরগীর জন্য ১.৫ -২ ফুট জায়গা লাগবে এমন হিসেব করে বাসস্থান তৈরী করবেন।
বদ্ধ জায়গার ক্ষেত্রে ঘর নির্মাণ করে তাতে খড় জাতীয় জিনিস ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে মুরগীর জন্য আরামদায়ক হবে।
জাত নির্বাচন
আপনি দেশী মুরগী পালন করতে ইচ্ছুক নাকি ব্রয়লার মুরগী তা নির্বাচন করে উন্নত জাতের মুরগী বাছাই করুন। বিভিন্ন ব্রিডারদের কাছে ভালো জাতের মুরগীর সন্ধান পেয়ে যাবেন। তবে দেশী হিলি জাতের মুরগীগুলো ওজনে বড় হয় এবং ডিম বেশি দেয়।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ
মুরগী পালনের পূর্বে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তবে যদি আপনি আগে থেকেই দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য, পানি, রোগব্যাধি, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা আবশ্যক।
মুরগী পালন সফল করার জন্য কিছু সাধারণ পরামর্শ

মুরগী পালন সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অনেক কিছুও জেনেছি। এখন তাহলে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ সম্পর্কে জানা যাক যেনো এই ব্যবসায় সাফল্য নিশ্চিত হয়।
- এ কাজে সফল হতে হলে প্রথমেই সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আপনি কী জাতের মুরগী পালন করছেন তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। অর্থাৎ ঐ জাতের মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেমন খাদ্য এবং পরিবেশ প্রয়োজন তা সম্পর্কে জানতে হবে।
- মুরগীর জন্য সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। ভিটামিন এবং খনিজসমৃদ্ধ সব রকমের খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় পানি সঠিকভাবে সরবরাহ করুন।
- মুরগীর ডিম সংগ্রহের জন্য সম্ভব হলে বাক্স পদ্ধতি অবলম্বন করুন। কারণ এ পদ্ধতিতে ডিমের তেমন ক্ষতি হয় না এবং মুরগীর স্বাস্থ্যও নিশ্চিত হয়।
- মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় আলো এবং তাপমাত্রা নিশ্চিত করুন।কোনো মুরগীর রোগ হলে তা দ্রুত সরিতে ফেলুন যেনো ছড়িয়ে পড়তে না পারে। সময়মত মুরগীর ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যবস্থা করুন।
- সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের পদ্ধতি জানতে হবে। আপনার উৎপাদিত পণ্য যেনো সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।
মুরগী পালনে নতুনদের করণীয়
যারা নতুন খামারিদের জন্য মুরগি পালনের উপায় খুঁজছেন তাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা-
- ভালো জাতের মুরগী অবশ্যই নির্ধারণ করবেন।
- মুরগী সাধারণত একটু নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ডিম দেয়। তাই প্রথমেই ডিম পাওয়ার আশায় বড় মুরগী কিনবেন না। ছোট বাচ্চা কিনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং পরিবেশ দিয়ে বড় করুন। এতে ডিমের সংখ্যাও বাড়বে।
- মুরগী সম্পর্কে পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলে দক্ষ কারও সাথে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নিন।
- মূলধন একেবারেই না থাকলে ব্যাংক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে লোন নিয়ে কাজ শুরু করুন। আস্তে আস্তে ব্যবসা বৃদ্ধি করুন।
- মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিমিত হারে ব্যবহার করুন।
- নেটওয়ার্কিং এর চেষ্টা করুন। অর্থাৎ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কৌশলী যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের পরিধি বিস্তার করুন।
কম খরচে কোন ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায় এমন কোনো উপায় যদি আপনি খুঁজে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে মুরগী পালন আপনার জন্য যথোপযুক্ত। শুধু একটু সময় এবং পরিশ্রম দিতে হবে সঠিকভাবে।

Leave a Reply