বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে ধান চাষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে ধান চাষ এবং বর্তমান পদ্ধতিতে ধান চাষের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। আর বর্তমান সময়ে আমাদের জন্য একটি বেশ বড় হাতিয়ার হলো ধান চাষে এসআরআই পদ্ধতি। আমাদের আজকের আর্টিকেলে এই পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো
প্রথমেই জেনে নেই, এই পদ্ধতির কিছু আগের কথা। ১৯৭০ সালে IRRI (International Rice Research Institute) একটি নতুন ধান চাষের পদ্ধতি নিয়ে আসে যে পদ্ধতিতে এখনো বেশিরভাগ কৃষক ধান চাষ করছেন। আর তা হলো ধানের চারা প্রথমে বীজতলায় প্রস্তুত করে এরপর মূল জমিতে স্থানান্তর করে চাষাবাদ।পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা নতুন নতুন জাত এবং ভালো ফলনের উপায় পেতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি SRI (এসআরআই পদ্ধতি)
এসআরআই পদ্ধতিতে কীভাবে ধান চাষ হয়?
আমরা এখানে প্রচলিত পদ্ধতির সমান্তরালে রেখে এই পদ্ধতিটি বর্ণনার চেষ্টা করব যেনো কৃষক ভাইদের বুঝতে সুবিধা হয়।এক্ষেত্রে প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরী করে ৩৫-৪০ দিনের চারা মূল জমিতে স্থানান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে চারা যথেষ্ঠ শক্ত থাকে বলে রা মারা যায় না।
তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে যেমন একটি গোছায় ৪/৫ টা করে ধানের চারা লাগানো হয়, এ পদ্ধতি কিন্তু এমন নয়। এক্ষেত্রে একটি গোছায় একটিই ধানের চারা লাগানো হয় এবং চারাগুলো বর্গাকৃতি অনুযায়ী লাগানো হয়। এতে প্রত্যেকটি চারা যথেষ্ট আলো-বাতাস পায়, কুশি বেশি হয় এবং ফলন বেড়ে যায়।
এরপর সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জৈব সার প্রয়োগের প্রতি বেশি নজর দেয়া হয়। যার ফলে মাটির অম্লত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়ে, অণুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং ফলন ভালো হয়।
প্রচলিত পদ্ধতির মত এ পদ্ধতিতে সবসময় মাঠে পানি রাখতে হয় না। যখন সেচ প্রয়োজন শুধু তখনই শুধু দেয়া হয়। রাইস উইডার দিয়ে আগাছা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। ফলে এটিও মাটিতে পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে।
এসআরআই পদ্ধতির সুবিধা:
-এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন প্রচলিত পদ্ধতি অপেক্ষা বেশি হয় কারণ যত্ন, সেচ, আগাছা দমন ইত্যাদি কাজ সঠিক উপায়ে করা হয়।
-পরিচর্যার পরিমাণও এ পদ্ধতিতে বেশি। তবে উৎপাদনে সময় লাগলেও এর ফলন অনেক বেশি দেয়।
– কম বয়সের চারাও রোপণ করা যায়।
-যন্ত্র দিয়ে আগাছা দমন করা হয় বলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
– কীটনাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি কম দরকার হয় বলে খরচের মাত্রাও কমে যায়।
-জমি প্রয়োজন অনুযায়ী ভিজানো বা শুকানো যায়।
– এ পদ্ধতিতে শ্রমিকের পরিমাণও কম প্রয়োজন হয়।
তাই আসছে ধানের মৌসুমে কৃষক ভাইয়েরা চাইলে৷ পদ্ধতি অবলম্বন করতেই পারেন।

Leave a Reply