Tag: নাটোর

  • বাবা চালাচ্ছিলেন ট্রলি, চাকার নিচে পড়ে শিশুসন্তানের মৃত্যু

     নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে বাবার চালিত ট্রলির নিচে পড়ে মুরসালিন হোসেন (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুরসালিন হোসেন ওই গ্রামের পিন্টু মণ্ডলের ছেলে। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মুরসালিন ট্রলির শব্দ শুনে বাবাকে দেখার জন্য বাড়ির সামনে যায়। এ সময় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে শিশুটিকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

  • নাটোরে মটরশুটির অধিক ফলন

    নাটোরে মটরশুটির অধিক ফলন

    আর্থিক মূল্য এবং জমির উর্বরতা শক্তির সুফল প্রাপ্তির কারণে জেলার কৃষকরা মটরশুটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিগত বছরগুলোতে জেলায় আবাদী জমি ও উৎপাদন-উভয়ই বেড়েছে। চলতি বছর জেলায় প্রায় শত কোটি টাকার মটরশুটি উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৭৯ হেক্টর, সদর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর, লালপুরে ২১০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ১১৬ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ১১২ হেক্টর এবং গুরুদাসপুর উপজেলায় ১০ হেক্টর।

    কৃষি বিভাগ আশা করছে, ১০৭৭ হেক্টর জমি থেকে ১৩ হাজার টন মটরশুটি উৎপাদন হবে- মণ প্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা গড় হিসাবে যার আর্থিক মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। বিগত বছরে জেলায় এক হাজার ২২ হেক্টর জমি থেকে ১২ হাজার  টন মটরশুটি উৎপাদন হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আবাদী জমি ও উৎপাদন ক্রমশ বেড়েছে।

    মূলত অক্টোবর মাসে জমি চাষ করে মটরশুটির বীজ বপন করা হয়। বিঘা প্রতি ১২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। জমিতে শুধুমাত্র টিএসপি ও পটাশ সারের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত্রবিশেষ অনুখাদ্য এবং গোড়াপঁচা ও পোকারোধী কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। তবে সেচের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুটি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

    সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার কৃষক চাঁন মিয়া তার আড়াই বিঘা জমিতে মটরশুটি আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দু’দফায় গাছ থেকে মটরশুটি পেয়েছেন প্রায় ৫০ মণ। তৃতীয় দফায় আরও ১৫ মণ মটরশুটি পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

    দেড় বিঘা জমিতে মটরশুটি চাষকারী ফতেঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, মটরশুটি উঠলে ঐ জমিতে পাট চাষ করবো। মটরশুটি গাছের ডালপালা ও শেঁকর মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তাই পরের ফসলে সার কম লাগে।

    নাটোরের হয়বতপুর, দত্তপাড়া এবং ছাতনী বটতলা হাটে মৌসুমী সবজির সাথে প্রতিদিন শত শত মন মটরশুটি বিপণন হয়। নাটোর ছাড়াও ঢাকার ব্যবসায়ীরা নাটোরের মটরশুটির ক্রেতা। দত্তপাড়া হাটে মটরশুটি বিক্রী করতে আসা বড়হরিশপুর এলাকার কৃষক হযরত আলী জানান, ১২ মণ মটরশুটি বিক্রী করেছেন ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। মৌসুমের শুরুতে এই দর দ্বিগুণেরও বেশী ছিল বলে তিনি জানান।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, মটরশুটির শেঁকর ইউরিয়ার ফ্যাক্টরি হিসেবে কাজ করে। তাই মটরশুটির জমি ইউরিয়া সার তো প্রয়োজন হয় না, পরবর্তী ফসল চাষাবাদে ঐ জমিতে ২০ ভাগ ইউরিয়া কম ব্যবহার করলেই চলে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাসস’কে বলেন, মটরশুটির শেঁকড় ইউরিয়া সারের উৎস হিসেবে কাজ করে। ফলে মটরশুটির আবাদী জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করতে হয়না। এছাড়া মটরশুটির জমিতে পরবর্ত্তী ফসলেও ইউরিয়ার ব্যবহার করতে হয়না বললেই চলে। উৎপাদন খরচ কম, অধিক মূল্য প্রাপ্তি ছাড়াও জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে মটরশুটি চাষের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হন। তাই কৃষকরা মটরশুটি চাষে ঝুঁকেছেন। মাটির গুনাগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসলের উচ্চমূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা মটরশুটি চাষে ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে মটরশুটি এই এলাকার অন্যতম অর্থকরি ফসলে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

     

  • নাটোরে আখ চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

    নাটোরে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) উদ্ভাবিত ৪৬ জাতের আখ চাষ করে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। রোগবালাইমুক্ত বীজের মাধ্যমে কৃষকেরা অন্য জাতের আখের চেয়ে বেশি ফলন পাচ্ছেন। প্রতি বিঘায় ৪৫০ মণ থেকে ৬০০ মণ পর্যন্ত আখ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা ৪৬ জাতের আখ উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে নাটোর চিনিকল এলাকায ১০৫টি প্লটে কৃষকেরা ৪৬ জাতের আখ চাষাবাদ করেছেন। প্রত্যেক চাষি বিঘাপ্রতি ৪৫০-৬০০ মণ পর্যন্ত আখের ফলন পাচ্ছেন। যা অন্য জাতের আখের চেয়ে বিঘাপ্রতি ২১০-৩৫০ মণ পর্যন্ত বেশি। বর্তমানে ৪৬ জাতের আখ চাষ সম্প্রসারণের জন্য বিএসআইআর বীজ সার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে।

    বিএসআরআই সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকদের জীবনমান, দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন এবং চিনির ঘাটতি দূর করতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২১-২২ অর্থবছরে ‘কৃষক পর্যায়ে আখের রোগমুক্ত পরিচ্ছন্ন বীজ ও বিস্তার’ শীর্ষক প্রকল্পের যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭টি সুগার মিল জোন ও নন মিল জোনে প্রকল্পের কাজ চলমান। এ ছাড়া দেশের ৩১টি জেলার ৭০টি উপজেলায় এ প্রকল্পের কাজ চলমান।

    প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে একমাত্র বিএসআরআই আখের বীজ উৎপাদন ও মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও চিনি শিল্পের উন্নয়নই এ প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য। তবে দেশে আর কোনো প্রতিষ্ঠান আখ নিয়ে কাজ না করায় উৎপাদন নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করেন। কৃষকদের এ নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে বিএসআরআই কৃষকদের বিনা মূল্যে বিএসআরআই-৪৬ জাতের সত্যায়িত ভিত্তি বীজ সরবরাহ করছে। কৃষকেরা সত্যায়িত বীজ চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছেন।

    নাটোরে আখ চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

     

    এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রত্যায়িত ভিত্তি বীজের প্লট চাষে বিনা মূল্যে ভালো বীজ, সার ও কীটনাশক এবং সেচ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। কম খরচে কৃষকেরা বেশি আখ উৎপাদন করতে পারছেন। এতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। চিনি শিল্পে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। কাজেই বিএসআরআই সংশ্লিষ্ট ও কৃষকেরা এ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

    নাটোর সদর উপজেলার পণ্ডিত গ্রামের চাষি রুস্তুম আলী শেখ বলেন, ‘আমি এ জাতের আখ চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আমাকে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও সেচ সুবিধা দেওয়া হয়। চলতি বছর প্রতি বিঘায় সাড়ে ৪০০ মণ আখ উৎপাদনের আশা করছি। প্রকল্পটি চালু থাকলে আমার মতো আরও কৃষক উপকৃত ও লাভবান হতে পারবেন।’

    কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, তার জমি একটু উঁচু হওয়ায় ভালো ফলন পাচ্ছেন। তিনি বিঘাপ্রতি ৬০০ মণ হারে ফলন পাচ্ছেন।

    জামাত আলী বলেন, ‘দেশীয় প্রচলিত জাতের আখের চাষ করে ৮ গাড়ি বা ২৪০ মণের বেশি আখ উৎপাদন হয় না। কিন্তু ৪৬ জাতের আখ ১৫-১৮ গাড়ি পর্যন্ত ফলন হয়। মিলের এক গাড়ি সমান ১২০০ কেজি বা ৩০ মণ। ফলে ৪৬ জাতের আখের আবাদ আমাদের নতুন করে উৎসাহিত করছে। তাছাড়া ৪৬ জাতের আখ চাষাবাদে পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। তবে গাছ বেশি লম্বা হওয়ায় গোছা করে বেঁধে দিতে হয়। এ কারণে জমিতে প্রচুর আলো-বাতাস থাকে।’

    নাটোরে আখ চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

    নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নীলিমা জাহান জানান, বিএসআরআই-৪৬ একটি পরিশোধিত ভিত্তি বীজ। প্রত্যায়িত ভিত্তি বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহের মাধ্যমে আখ চাষ বৃদ্ধি করা গেলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। চিনি শিল্প এগিয়ে যাবে।

    বিএসআরআই’র প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ইমাম হোসেন জানান, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রোগমুক্ত ভিত্তি বীজের প্রত্যায়িত প্লট তৈরি ও ফলন বৃদ্ধি করা। এর ফলাফল খুব ভালো। এ ধরনের প্লটে রোগের প্রকোপ অনেক কম। ভালো বীজ বেশি উৎপাদনের মাধ্যমে চিনির ঘাটতি পূরণ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।’

    নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ অধিক উৎপাদনশীল, অধিক চিনি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও অধিক রিকভারি সম্পন্ন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অবশ্যই চিনি শিল্প লাভবান হয়েছে। প্রকল্পটি আরও ১ বছর চালু থাকলে জেলার দুটি মিল জোন এলাকায় রিপ্লেসমেন্ট দিয়ে অধিক পরিমাণ আখ উৎপাদন ও চিনির রিকভারি সম্ভব হবে।

    বিএসআরআই’র মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পটি এ বছরই শেষ হয়ে যাবে। সরকার চিনি শিল্পের দিকে নজর দিচ্ছে। বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রচুর আখের প্রয়োজন হবে। এ জন্য আখের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ চাষ করে কৃষকেরা আর্থিকভাবে দ্বিগুণ লাভবান হবেন। পাশাপাশি চিনির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।