Tag: ধর্ষণ মামলা

  • সিলেট এয়ারপোর্ট থানার চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি

    সিলেট এয়ারপোর্ট থানার চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি

    সিলেট প্রতিনিধি:

    সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার ছড়াগাং চা বাগান এলাকায় সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ভিকটিমের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে এবং আদালতে হাজির করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

    ভিকটিম বিশ্বনাথ উপজেলার একজন নারী, যার বয়স ২৯ বছর। মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার দিন, ১১ মার্চ, কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি সিলেট শহরে আসেন। তিনি প্রথমে শাহজালাল (রহ.) মাজার এবং পরে শাহপরাণ (রহ.) মাজারে যান। সন্ধ্যায় মাজার থেকে বের হওয়ার পর বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

    এ সময় একটি লেগুনার চালক ও তার সহকারী তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে ওঠান। কিন্তু নির্ধারিত পথে না গিয়ে তারা এয়ারপোর্ট থানাধীন ছড়াগাং চা বাগানের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে টিলার ওপরে নিয়ে গিয়ে তারা জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

    ঘটনার পর ভিকটিম অসুস্থ অবস্থায় ছড়াগাং চা বাগানের কাছেই পড়ে ছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ইউপি মেম্বারকে খবর দেন। পরে মেম্বারের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

    ভিকটিমের দেওয়া তথ্য এবং লেগুনার নম্বরের সূত্র ধরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ও শাহপরাণ (রহ.) তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের যৌথ অভিযানে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন—. মোঃ আব্দুল করিম (২৯), পিতা-মৃত হাশেম মিয়া, মাতা-মায়া বেগম, সাং-উত্তর মোকামেরগুল, থানা-শাহপরাণ (রহ.), জেলা-সিলেট।. মোঃ রাকিব মিয়া (২৫), পিতা-আনোয়ার মিয়া, সাং-ধলইপাড়া, থানা-শাহপরাণ (রহ.), জেলা-সিলেট।

    ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৭/৯(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১০, তারিখ- ১২/০৩/২০২৫।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এই নির্মম ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

    এয়ারপোর্ট থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”

    স্থানীয়দের মতে, সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।