Tag: রাশিয়া

  • সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গমন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান

    সামরিক সহযোগিতা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, পরিদর্শন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে

    ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৫:
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি আজ এক সরকারি সফরে রাশিয়া গমন করেছেন। চারদিনব্যাপী এ সফরে তিনি রাশিয়ার সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং দু’দেশের সামরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।

    রাশিয়ায় অবস্থানকালে সেনাপ্রধান আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও রণকৌশল সংক্রান্ত একাধিক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবেন এবং রাশিয়ার বেশ কয়েকটি সমরাস্ত্র কারখানা ও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। এতে করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    রাশিয়া সফর শেষে তিনি আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ক্রোয়েশিয়া গমন করবেন। ক্রোয়েশিয়াতেও তার একই ধরনের কর্মসূচি রয়েছে, যেখানে তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। পাশাপাশি তিনি ক্রোয়েশিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রযুক্তি উন্নয়ন স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখবেন।

    সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা

    উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “ফোর্সেস গোল ২০৩০” বাস্তবায়ন করছে। এই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের বিদেশ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাশিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া উভয় দেশই সামরিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত। বাংলাদেশ এই সফরের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করতে চায়।

    সফর শেষে সেনাবাহিনী প্রধান আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

  • ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করে কী চাইছেন ট্রাম্প

    ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করে কী চাইছেন ট্রাম্প

    বিবিসিঃইউক্রেনকে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প কী অর্জন করতে চাচ্ছেন?

    বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, তাঁকে ছাড় দিতে বাধ্য করতেই মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধের বিস্ময়কর সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন ট্রাম্প।

    তিন বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তার সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। এখন ট্রাম্প ইউক্রেনকে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করে দিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা সহায়তা বন্ধ রাখছেন, সহায়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তাঁরা দেখছেন, বিষয়টি একটি সমাধানের (ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে) ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি না।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি শান্তির প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। তাঁরা চান, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারেরাও এই লক্ষ্যের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, যতক্ষণ না ট্রাম্প মনে করেন যে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রতি অঙ্গীকারের সদিচ্ছা ইউক্রেন দেখাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সহায়তা বন্ধ থাকবে।

    এদিকে ইউক্রেনে শান্তিচুক্তির জন্য জেলেনস্কিকে পদত্যাগ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালৎস। তিনি বলেন, ইউক্রেনের একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, এই যুদ্ধ থামাতে পারবেন।

    রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তি ‘খুব, খুব দূরে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন জেলেনস্কি। তাঁর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। এই সমালোচনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনি ইউক্রেনকে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করলেন।

    এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত খনিজ চুক্তি ভেস্তে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র কী চায়, হোয়াইট হাউসের ঘটনায় ট্রাম্পের কাছে জেলেনস্কি দুঃখ প্রকাশ করুক? কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়াই তিনি খনিজ চুক্তি গ্রহণ করুন?

    ট্রাম্প প্রশাসন তা-ই চায় বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা হোয়াইট হাউসের ঘটনার জন্য জেলেনস্কিকে দোষারোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে, ট্রাম্পকে যথেষ্ট ধন্যবাদ না বলার অভিযোগে মিথ্যাভাবে জেলেনস্কিকে অভিযুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

    তবে জেলেনস্কি ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন, তিনি দুঃখ প্রকাশ করবেন না। ক্ষমা চাইবেন না। ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া খনিজ চুক্তি করবেন না।চলতি মাসেই জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার বিনিময়ে পদত্যাগ করতে রাজি থাকার কথা বলেছিলেন তিনি।তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি রেখে কিয়েভের এই জোটে যোগদানের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

  • এক রাতে ইউক্রেনের শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানাল রাশিয়া

    এক রাতে ইউক্রেনের শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানাল রাশিয়া

    ইউক্রেনের শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। আজ বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, রাতে ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলায় কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একজন আহত হয়েছেন।

    টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, ‘গত রাতে ইউক্রেনের মানুষবিহীন মোট ১০৪টি আকাশযান অনুপ্রবেশ করেছিল এবং আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করেছে।’

    ইউক্রেনের বেশির ভাগ ড্রোন পশ্চিমের সীমান্তবর্তী কুরস্ক ও ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়। অল্প কয়েকটি সমোলেনস্ক, টার, বেলগোরোদ ও অন্যান্য এলাকায় ভূপাতিত করা হয়।

    বেলগ্রোদের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ গ্লাদকভ বলেছেন, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

    ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, রাশিয়াও তাদের দেশে রাতভর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতে আকাশ হামলার সাইরেন বেজেছে।

    প্রায় তিন বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে প্রায় প্রতিদিন দুই দেশ পরস্পরের অঞ্চলে ড্রোন হামলা করছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তে বেসামরিক অঞ্চল এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ড্রোন হামলা আটকাতে উভয় দেশ নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছে।

  • রাশিয়ার কুরস্কে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন

    রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কুরস্ক সীমান্তে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। মস্কোর উদ্দেশে কিয়েভ বলেছে, রাশিয়ার যা প্রাপ্য, সেটিই তারা পাচ্ছে। আজ রোববার এক টেলিগ্রাম পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রে ইয়ারমাক এ দাবি করেন। তিনি বলেন, কুরস্ক অঞ্চল, শুভ সংবাদ। রাশিয়ার যা প্রাপ্য, তা-ই পাচ্ছে।

    এর আগে ইউক্রেনের হয়ে ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ সংস্থার প্রধান আন্দ্রে কোভালেঙ্কো বলেন, কুরস্কের বিভিন্ন স্থানে রুশ সেনাদের ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

    গত বছরের আগস্ট মাসে কুরস্কে হামলা চালিয়ে সেখানকার অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এরপর সেখানে উত্তর কোরিয়ার বাহিনীর সহায়তায় পাল্টা হামলা শুরু করেছিলেন রুশ সেনারা।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানায়, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ রোববার বলেছে, রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা হামলা শুরু করেছে। সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে বারডেইন অঞ্চলে দুটি ট্যাংক ও সাতটি সাঁজোয়া যান প্রতিরোধ করা হয়েছে।

    এর আগে গত শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, মাখনোভকা জেলায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে ১০০ জনের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা ও রুশ প্যারাট্রুপার নিহত হয়েছেন। রুশ সামরিক ব্লগারদের পক্ষ থেকেই ইউক্রেনের আকস্মিক হামলার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। একজন দাবি করেছেন, বারডেইনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেনের বাহিনী। কেউ কেউ বলছেন, কুরস্কের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্য তাদের।

    ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের ধারণা, ওই এলাকায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন যে হামলা চালাচ্ছে, এর জবাব দেওয়া হবে।