Tag: বিএনপি

  • বিএনপি মঙ্গলবার থেকে জেলা-মহানগরে সভা-সমাবেশ করবে

    বিএনপি মঙ্গলবার থেকে জেলা-মহানগরে সভা-সমাবেশ করবে

    নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবিতে সারা দেশের জেলা ও মহানগরে পর্যায়ক্রমে সভা-সমাবেশ করবে বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
    রিজভী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বারিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সব পদক্ষেপ সবার কাছে সাফল্য হিসেবে বিবেচিত না–ও হতে পারে। কিন্তু এই সরকারের ব্যর্থতা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির ব্যর্থতা হিসেবেই পরিগণিত হবে। এ কারণে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে সফল দেখতে চায়। কিন্তু সরকার নিজেদের সফল দেখতে চায় কি না, এটিও ভাবার বিষয় রয়েছে। সরকারের ‘কর্ম–পরিকল্পনার রোডম্যাপে’ কম গুরুত্তপূর্ণ ইস্যু বাদ দিয়ে জনগণের নিত্যদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    রূপরেখা ঘোষণার দাবিতে এবং পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে এই কর্মসূচি হবে। তিনি আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্টদের সহযোগীরা এখন প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রয়েছে। যারা ৫ আগস্টের পরিবর্তনকে মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি, এমন লোকদের চিহ্নিত করতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সফল হওয়া কঠিন।

  • বাউফলে পোষ্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

    বাউফলে পোষ্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

    সাইফুল ইসলাম, বাউফল প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফলে পোষ্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাউফল পৌর শহরের বাংলাবাজার চৌমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অন্তর, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইলিয়াস ও ছাত্রদল কর্মী কাওসারকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।

    অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন বাংলাবাজার এলাকার চৌমাথায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদারের জনসভার পোস্টার লাগাচ্ছিলেন। এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার গ্রুপের নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খান ও তার ছেলে একই ইউনিয়নের যুবদলকর্মী সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন লোহার পাইপ, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন।এ ঘটনার প্রতিবাদে সহিদুল আলম তালুকদারের কয়েকশ কর্মী-সমর্থক তাৎক্ষণিক শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

  • পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন, সরকারকে বলল বিএনপি

    পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন, সরকারকে বলল বিএনপি

    দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। তারা বলেছে, এর ব্যত্যয় হলে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির প্রসার ঘটবে।

    বিএনপি বলেছে, কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা দৃশ্যমান করা এখন সময়ের দাবি।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিবৃতিটি পাঠান।

    ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর শুরুর পর গত বুধবার রাতে খুলনার ‘শেখ বাড়ি’–তে ভাঙচুরের প্রথম খবর আসে। এরপর কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়িতে হামলা হয়। এরপর গত দুই দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কমপক্ষে ৩৩টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ পরিবারের সদস্যদের অন্তত অর্ধশত ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আটটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিতাড়িত পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার এবং তার দোসরদের উসকানিমূলক আচরণ, জুলাই–আগস্টের রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণ–অভ্যুত্থান সম্পর্কে অশালীন এবং আপত্তিকর বক্তব্য মন্তব্য দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। এরই ফলে গত বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত স্বৈরাচারের স্মৃতি, মূর্তি, স্থাপনা ও নামফলকগুলো ভেঙ্গে ফেলার মতো জনস্পৃহা দৃশ্যমান হয়েছে।’

    বিএনপির উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে উগ্র নৈরাজ্যবাদী গণতন্ত্রবিরোধী দেশি–বিদেশি অপশক্তির পাশাপাশি পরাজিত ফ্যাসিস্টদের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, যার উপসর্গ ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান।

    বিএনপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গত ছয় মাসেও পলাতক স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ জনসম্মুখে দৃশ্যমান করতে সফল হয়নি বলে জনমনে প্রতিভাত হয়েছে। ফলে জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হচ্ছে। একটি সরকার বহাল থাকা অবস্থায়, জনগণ এভাবে নিজের হাতে আইন তুলে নিলে, দেশে–বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। অথচ জুলাই ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, যা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ নানান ধরনের দাবিদাওয়া নিয়ে যখন–তখন সড়কে “মব কালচারের” মাধ্যমে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে, যা সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে মুনশিয়ানা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

    বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই–আগস্টের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, নিন্দিত ঘৃণিত পলাতক স্বৈরাচার ও তার দোসরদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরাজিত ফ্যাসিস্টদের উসকানিমূলক তৎপরতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অতি জরুরি অগ্রাধিকার, অথচ এসব বিষয়ে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

    বিবৃতিতে বিএনপি বলে, এখনো প্রশাসনকে পতিত ফ্যাসিস্ট শাসকের দোসরমুক্ত করা হয়নি, বিচার বিভাগে কর্মরত ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বিদ্যমান, পুলিশ প্রশাসনে গণ–অভ্যুত্থানবিরোধী সক্রিয় সদস্যরা এখনো কর্মরত। এমতাবস্থায় সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সফলতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা যথেষ্ট সন্দেহের উদ্রেক করে।

  • কমিটি দিচ্ছে বিএনপি, নতুন করে প্রকাশ্যে আসছে বিরোধও

    কমিটি দিচ্ছে বিএনপি, নতুন করে প্রকাশ্যে আসছে বিরোধও

    ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে নতুন করে বিভিন্ন জেলা ও থানায় কমিটি দিচ্ছে বিএনপি। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৯টি জেলায় আহ্বায়ক ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটি গঠন নিয়ে অন্তর্বিরোধও নতুন করে সামনে আসছে। ইতিমধ্যে কমিটি নিয়ে পিরোজপুর, সাতক্ষীরায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও দেবহাটায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে গত রোববার রাতে সাতক্ষীরার সব পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ছয় সদস্যের জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার কমিটিতে বিভিন্ন জেলার শীর্ষ পদে ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতাদের আনা হচ্ছে। যাঁদের রাজনীতি ছাত্রদল দিয়ে শুরু, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন জেলায় সাবেক নেতাদের সঙ্গে বিরোধ প্রকাশ্যে আসছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

    অবশ্য বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। বিগত ১৫ বছর নেতা-কর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত। এখন কমিটি দেওয়ার পর কে পদ পেল, কে পেল না, কে কীভাবে পদ পেল, এগুলো নিয়ে একটি বড় দলে নানা মত-আলোচনা থাকবে।

    সর্বশেষ রোববার ১৩ জেলায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। এগুলো হলো মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, মাগুরা, নাটোর, বান্দরবান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা। এর মধ্যে আফরোজা খানকে আহ্বায়ক করে মানিকগঞ্জ জেলার সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি; মিজানুর রহমান সিনহাকে আহ্বায়ক ও মহিউদ্দিন আহমেদকে সদস্যসচিব করে মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটি; মামুন মাহমুদকে আহ্বায়ক করে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচ সদস্যের কমিটি; ফজলুল হক মিলনকে আহ্বায়ক করে গাজীপুর জেলার তিন সদস্যের কমিটি; মাহবুব আলমগীরকে আহ্বায়ক ও হারুনুর রশিদকে সদস্যসচিব করে নোয়াখালী জেলার পাঁচ সদস্যের কমিটি এবং জাকারিয়া তাহের সুমনকে আহ্বায়ক ও আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সদস্যসচিব করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমিরুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্যের সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি করা হয়েছে।

    শুরু থেকে বিভক্তি

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিভক্তি প্রকাশ্যে আসছে। কুষ্টিয়ায় এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতাদের চাঁদাবাজির কারণে কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে চালের দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন দলের একাংশের নেতারা। আর মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের রাখার অভিযোগ তুলে কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবিতে গণমিছিল করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিএনপির একটি পক্ষের হামলায় সেলিম ভূঁইয়া (৪৫) নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চার ইউনিয়নের সম্মেলন স্থগিতের প্রতিবাদে হরতাল ডাকে স্থানীয় বিএনপি। নাটোরে জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ মিছিল–সমাবেশ করে গণপদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন পদবঞ্চিত নেতারা। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাবেক ও বর্তমান নেতাদের দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে। একইভাবে বরগুনার পাথরঘাটা, বগুড়ার ধুনট, বরগুনার পাথরঘাটা, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন বাতিল চেয়ে একাংশ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

    বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি বড় দল। দলে অনেক নেতা আছেন, আবার সবাই দলের নেতৃত্ব দিতে চান। কিন্তু সবাই তো আহ্বায়ক-সদস্যসচিব হবেন না। কেউ বাদ পড়ে গেলেই তাঁদের অনুসারীরা বিক্ষোভ করছেন।বিগত ১৫ বছরে আমরা কোথাও সম্মেলন করতে পারিনি। কেন্দ্র থেকে কমিটি দেওয়া হয়েছে। সদস্যদের দিয়ে নেতা নির্বাচন হয়নি। এবার আমরা ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছি।’

  • রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না: ফখরুল

    রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না: ফখরুল

    রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    চারটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা নিয়ে বিএনপির প্রাথমিক মন্তব্য জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে এখনো মন্তব্য করতে চাইনি। কারণ, পুরো প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। সরকার যেটা বলেছে এবং যে পরিকল্পনা করেছে, এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে, তারপরেই সিদ্ধান্ত হবে এবং ঐকমত্য ছাড়া কোনোটাই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—বিএনপি জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছে, কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, এই দাবি অবাস্তব। এত দ্রুত বিচার ও সংস্কার সম্ভব নয়। এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো বরাবর এক কথা বলে এসেছি, সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। যে নির্বাচন হবে এবং যে সরকার আসবে, যে দল সরকারে আসবে, তারা এই সংস্কারগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলতে পারি, আমরা প্রতিটি সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আজ ৮৯তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের যদি জন্ম না হতো, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কী অবস্থায় যেত, এটা আমরা জানি না। জিয়াউর রহমান একদিকে যেমন সৈনিক ছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাও ঘোষণা করেছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, একইভাবে ১৯৭৫ সালে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি (জিয়াউর রহমান) যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছিলেন, তিনি বাংলাদেশকে একটি আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য অতি অল্প সময়ে সব নতুন সংস্কার করে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে যে সংস্কার, অর্থাৎ একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায় নিয়ে আসেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘তিনিই (জিয়াউর রহমান) প্রথম বদ্ধ অর্থনীতিকে ভয়ংকর সমাজতান্ত্রিক চিন্তার যে অর্থনীতি ছিল, তার থেকে মুক্ত করে তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতির একটা পরিকল্পনা চালু করেন। তাঁর সময়েই কৃষিতে বিপ্লব হয়েছিল। এই মহান নেতা যে দল তৈরি করেছিলেন, সেই দল এত বছর পরও বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে দেশের সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়েছে। তাঁরই উত্তরসূরি খালেদা জিয়া দলকে আরও শক্তিশালী করেছেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে আছেন। তাঁর আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করছি।’

    সব মানুষের ঐক্য আরও দৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘অতি অল্প সময়ের মধ্যে যেন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রে ফিরে যেতে পারি, সেই ব্যবস্থা কায়েম হোক।’

  • তারেক রহমানের ৪ মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায় বহাল বিএনপির

    তারেক রহমানের ৪ মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায় বহাল বিএনপির

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা চারটি মামলার কার্যক্রম বাতিলের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিল, তা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

    আজ রোববার, আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে ছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, এই রায় দেন। এর আগে ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে গুলশান এবং ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা চারটি মামলার কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

    এর পর, রাষ্ট্রপক্ষ গত ডিসেম্বরে পৃথক লিভ টু আপিল করে, যা ৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উঠেছিল। ওই দিনই আদালত লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে নির্ধারণ করেন। আজ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে হাইকোর্টের রায়, যা মামলাগুলোর কার্যক্রম বাতিল করেছিল, তা কার্যকর থাকল।

    আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানান, ‘‘হাইকোর্টের রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ হওয়ায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায় বজায় থাকল।’’

    তবে, ২০০৭ সালে গুলশান থানায় তিনটি এবং ধানমন্ডি থানায় একটি মামলাসহ মোট চারটি চাঁদাবাজির অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলা হাইকোর্টে বাতিলের জন্য তারেক রহমান আবেদনের পর ২৩ অক্টোবর রায় প্রদান করা হয়েছিল।

    রেজা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা সৈয়দ আবু শাহেদ সোহেল, মীর জাহির হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় এসব মামলা করা হয়েছিল।