hacklink hack forum hacklink film izle hacklink romabetkingbet188onwintaraftarium24deneme.bonusu veren.sitelercasinolevant

Category: ডিম উৎপাদন

  • জেনে নিন সফল পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট

    জেনে নিন সফল পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট

    পোলট্রি খামার তৈরী করা সহজ হলেও তা সঠিকভাবে পরিচালনা করে সেখান থেকে ব্যবসায়িক লাভ তুলে আনাটা বেশ কঠিন। আর এই কঠিন কাজটি সহজে করতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট রহস্য।আপনি হয়ত জিজ্ঞেস করতে পারেন যে পোলট্রি খামারীর ৭টি সিক্রেট জানা কেনো এত প্রয়োজনীয়? তাহলে জেনে নিন, আমাদের দেশের অনেক কৃষক এবং তরুণরা এখন পোলট্রি উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা করছে। 

    তবে এদের মধ্যে অনেকেই পোলট্রি ব্যবসা লাভজনক হওয়ার পরেও তেমন সুবিধা করতে পারছে না। আবার কিছু পোলট্রি উদ্যোক্তাদের খামার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে লসের জন্য। আর একারণেই আপনার খামারে যেনো এমন কোনো সমস্যা না হয় সেকারণে আপনার এই জিনিসগুলো জেনে নেয়া আবশ্যক। সফল খামারী হওয়ার মানসিকতা থাকলে আপনি অবশ্যই লাভবান হবেন।

    পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার জন্য প্রাথমিক ধারণা

    পোলট্রি খামারে সাফল্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হলো সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং সব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে শুরু করা।

    কেননা মুরগীর খাদ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি নিয়ে বেশ ভালো ধকল পোহাতে হয় খামারীদের৷ আর এগুলো জানার পাশাপাশি নিচের সিক্রেটগুলো ফলো করলে অবশ্যই লাভ করা সম্ভব।

    পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার সিক্রেট

    উপর্যুক্ত ধারণা থেকে আপনি অবশ্যই বুঝতে পারছেন আপনার উদ্যোগ আসলে কেমন হওয়া উচিৎ। এবার সেই উদ্যোগকে সম্পূর্ণ সফল করতে জেনে নিন এই ৭টি সিক্রেট।

    সিক্রেট-১: সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি 

    সফল পোলট্রি খামারী হতে চাইলে প্রথমেই আপনার থাকতে হবে বিষদ এবং সঠিক পরিকল্পনা। খামারে সাফল্য অর্জনের কৌশল এর মধ্যে প্রথমটিই হলো সঠিক পরিকল্পনা। আপনার পরিকল্পনা হতে হবে সহজ এবং পরিষ্কার। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে শুরু করবেন, কোন মুরগীর জাত নিবেন, অর্গানিক খামার করবেন কিনা, আপনার আশপাশে মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আছে কিনা এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরিকল্পনা করতে হবে।

    প্রত্যেকটি পরিকল্পনা অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে নোট করে রাখতে হবে যেনো ভুল হবার কোনো সম্ভাবনা না থাকে। পোলট্রি খামারে সঠিক পরিকল্পনা আপনার সাফল্যের মাত্রা ৫০% পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারে।

     

    সিক্রেট ২: সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার

    সিক্রেট ১ অনুযায়ী, আপনি আপনার সঠিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। তাহলে আপনার পরবর্তী কাজ বা ধাপ হলো সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার। এক্ষেত্রে আপনার পোলট্রি খামারের টিপস ও ট্রিক্স হিসেবে একটি স্পেশাল ট্রিকস ব্যবহার করতে পারেন। ধরুন, আপনার খামারের জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। কিন্তু পুকুর আছে, সেক্ষেত্রে পুকুরের উপরও আপনি ফার্ম তৈরী করতে পারেন।

    এতে পুকুরে মাছ চাষ এবং উপরে পোল্ট্রি খামার দুটোই করতে পারেন যা পোলট্রি খামারে অর্থনৈতিক সাফল্যে এনে দিতে পারে। এছাড়াও সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে।অর্থাৎ মুরগীর সকল খাদ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক সময়ে হওয়া উচিৎ। এভাবে খামারে সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

     

    সিক্রেট ৩: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গ্রহণ

    সফল খামারী হওয়ার পরামর্শ হিসেবে আপনার জন্য তৃতীয় সিক্রেট হলো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। মুরগীর সুরক্ষার জন্য এবং সঠিকভাবে তদারকির জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সহায়ক।এক্ষেত্রে ড্রোন জাতীয় প্রযুক্তি গ্রহণ করা যেতে পারে যাতে আপনি এক জায়গায় বসে সকল মুরগীকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এছাড়াও ডিম রাখার বাক্স, ফিডিং মেশিন ইত্যাদি প্রযুক্তিও বেশ কার্যকরী।

    এভাবে পোলট্রি খামারের উদ্ভাবন ও কৌশল আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।

     

    সিক্রেট ৪: কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

    আপনার পোলট্রি খামারের পরিশ্রম ও ফল তখনই সমানুপাতিক হবে যখন কঠিন সময় সঠিকভাবে মোকাবিলা করার দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। বর্তমানে মুরগীর খাদ্যের মূল্য বেশি থাকায় অনেক খামারী বেশ সংকটে সময় পার করছেন। আবার কিছু কিছু সময় বিশেষত শীতকালে মুরগীর রোগ-ব্যাধির পরিমাণ বেড়ে যায়। এসকল বিপর্যয় বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার জ্ঞান এবং দক্ষতা দুটোই থাকতে হবে।

     

    সিক্রেট ৫: ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা

    খামারে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সিক্রেট আপনার খামারকে অন্য অনেক খামারের তুলনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আপনি কীভাবে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করবেন।অনেক ক্ষেত্রেই ডিম অথবা মাংস সরবরাহ নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। একারণে স্থানীয় বাজারেই শুধু খামারীরা তাদের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেন। এমনটা না করে ব্যবসা কীভাবে পরিচালনা করলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    আবার অর্গানিক মুরগী খামারের পরিকল্পনাও এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি কিছুটা কঠিন হলেও বেশ লাভজনক। পোলট্রি খামারে ঝুঁকি ও সাফল্য পরস্পর জড়িত। তাই সাফল্য পেতে হলে কিছু ঝুঁকি নিতেই হবে। তবে তা অবশ্যই চিন্তাভাবনা করে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

     

    সিক্রেট ৬: ব্যবসার বৃদ্ধি ও উন্নতির পথ

    পোলট্রি খামারে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভের পন্থা হলো উত্তরোত্তর ব্যবসার বৃদ্ধি এবং উন্নতির পথ। স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে আপনি আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারেন।এছাড়াও বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে মুরগী এবং ডিমের চাহিদা প্রচুর। সেসব জায়গায় সাপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধি করা যায়।এভাবে পোলট্রি ব্যবসায়িক কৌশল খাটিয়ে লাভবান হওয়ার প্রচেষ্টা করতে হবে। 

     

    সিক্রেট ৭: একটি দৃঢ় মনোভাব ও সঠিক মনোভাব

    খামারে উদ্যোক্তার সিক্রেটস হিসেবে সর্বশেষ হলো দৃঢ় এবং সঠিক মনোভাব। পোলট্রি খামারী হতে হলে অনেক ধরণের চড়াই-উতরাই আপনাকে পার হতে হবে। তাই এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। কখনোই ভয় পেয়ে বা মাঝ পথে ব্যবসা ছেড়ে দেয়া যাবে না। এতেই উন্নতি সাধিত হবে। 

     

    এই হলো পোলট্রি খামারে সফল হওয়ার সিক্রেট। পোলট্রি খামারী হওয়ার টিপস সম্পর্কে আমরা আগেও আলোচনা করেছি যা আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবেন। তবে পোলট্রি খামারের সিক্রেটস ফলো করলে ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আপনি লাভবান হতে পারবেন এবং ব্যবসা বৃদ্ধিও করতে পারবেন।

     

  • মুরগি পালনের সহজ উপায় – নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড।

    মুরগি পালনের সহজ উপায় – নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড।

     

    অতি দ্রুত একটি লাভজনক ব্যবসা দাঁড় করাতে  মুরগি পালনের সহজ উপায় সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আর একই সাথে জানতে হবে বিশেষ কিছু টিপস যা সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয়।

    দেশী মুরগী কিংবা ব্রয়লার মুরগি পালন বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে পরিচিত। অনেকেই ইতিমধ্যে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। আবার অনেকে খুঁজছেন মুরগি পালনের সহজ উপায়। তাই আমরা এখানে আলোচনা করব মুরগি পালনের সহজ কৌশল এবং নতুনদের জন্য পরামর্শ নিয়ে।

    যেকোনো কাজ শুরু করার পূর্বেই আমরা তার গুরুত্ব সম্পর্কে জানার জন্য পরামর্শ দেই। তাই এক্ষেত্রেও আপনাকে মুরগী পালনের গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে। 

    মুরগী পালন থেকে প্রাপ্ত মাংস এবং ডিম গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস। ফলে বাড়িতেই আপনার প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎস আপনি পেয়ে যাচ্ছেন।কৃষক ভাইয়েরা কৃষি কাজের পাশাপাশি মুরগী পালন করে স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারেন। গ্রামের মহিলারা কিংবা কম বয়সী যুবক যারা চাকরি পাচ্ছেন না, তারা এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।

    তাছাড়া কম মূলধনে এবং কম জমিতে করা সম্ভব বলে আপনার অধিক বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই।এই ব্যবসা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক নয়। স্থানীয় ভাবে বাজারজাত করা যায় বলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    এসকল কারণেই মুরগী পালন বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কৃষি উদ্যোগ।

    কিভাবে শুরু করবেন মুরগী চাষ

     আপনি যদি এই উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, তাহলে ছোট পরিসরে মুরগী পালন শুরু করে দিতে পারেন। তবে ছোট বা বড় যে পরিসরেই হোক না কেনো সফলভাবে মুরগী পালনের জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু প্রাথমিক ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

    উদ্দেশ্য নির্ধারণ

    মুরগী পালনের উদ্দেশ্য সাধারণত তিন রকম হয়ে থাকে। এগুলো হলো- মাংস উৎপাদন, ডিম উৎপাদন কিংবা উভয়ই। প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে কেনো আপনি মুরগী পালন করতে চান। কারণ উদ্দেশ্য অনুযায়ী আপনার কার্যপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হবে। 

    জায়গা নির্বাচন

    মুরগীর জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে। নিচু জমি যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে এমন জমি নেয়া যাবে না। উঁচু এবং রৌদ্রজ্বল স্থান মুরগী পালনের জন্য উপযুক্ত। পাশাপাশি ভালো স্থানটিতে পরিমিত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। 

    মুরগীর বাসস্থান তৈরী

    এই বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কীভাবে মুরগী পালন করবেন তার উপর। গ্রামীণ পদ্ধতিতে অনেকেই ছেড়ে মুরগী পালন করেন। এতে মুরগী সকালে ছেড়ে দেয়া হয় এবং রাতে ফিরে আসে। এভাবে মুরগী পালন করলে যতগুলো মুরগী আছে তা থাকতে পারবে এমন পরিমিত জায়গা হলেই যথেষ্ট।

    তবে যদি আপনি বদ্ধ অবস্থায় খাচায় মুরগী পালন করেন, তাহলে প্রতি মুরগীর জন্য ১.৫ -২ ফুট জায়গা লাগবে এমন হিসেব করে বাসস্থান তৈরী করবেন। 

    বদ্ধ জায়গার ক্ষেত্রে ঘর নির্মাণ করে তাতে খড় জাতীয় জিনিস ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। এতে মুরগীর জন্য আরামদায়ক হবে।

    জাত নির্বাচন

    আপনি দেশী মুরগী পালন করতে ইচ্ছুক নাকি ব্রয়লার মুরগী তা নির্বাচন করে উন্নত জাতের মুরগী বাছাই করুন। বিভিন্ন ব্রিডারদের কাছে ভালো জাতের মুরগীর সন্ধান পেয়ে যাবেন। তবে দেশী হিলি জাতের মুরগীগুলো ওজনে বড় হয় এবং ডিম বেশি দেয়।

    প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ 

    মুরগী পালনের পূর্বে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তবে যদি আপনি আগে থেকেই দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য, পানি, রোগব্যাধি, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা আবশ্যক।

    মুরগী পালন সফল করার জন্য কিছু সাধারণ পরামর্শ

    মুরগী পালন সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অনেক কিছুও জেনেছি। এখন তাহলে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ সম্পর্কে জানা যাক যেনো এই ব্যবসায় সাফল্য নিশ্চিত হয়। 

    •  এ কাজে সফল হতে হলে প্রথমেই সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আপনি কী জাতের মুরগী পালন করছেন তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। অর্থাৎ ঐ জাতের মুরগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেমন খাদ্য এবং পরিবেশ প্রয়োজন তা সম্পর্কে জানতে হবে।
    • মুরগীর জন্য সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। ভিটামিন এবং খনিজসমৃদ্ধ সব রকমের খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় পানি সঠিকভাবে সরবরাহ করুন।
    •  মুরগীর ডিম সংগ্রহের জন্য সম্ভব হলে বাক্স পদ্ধতি অবলম্বন করুন। কারণ এ পদ্ধতিতে ডিমের তেমন ক্ষতি হয় না এবং মুরগীর স্বাস্থ্যও নিশ্চিত হয়।
    • মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় আলো এবং তাপমাত্রা নিশ্চিত করুন।কোনো মুরগীর রোগ হলে তা দ্রুত সরিতে ফেলুন যেনো ছড়িয়ে পড়তে না পারে।  সময়মত মুরগীর ভ্যাক্সিনেশন এর ব্যবস্থা করুন।
    •  সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের পদ্ধতি জানতে হবে। আপনার উৎপাদিত পণ্য যেনো সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।

    মুরগী পালনে নতুনদের করণীয়

    যারা নতুন খামারিদের জন্য মুরগি পালনের উপায় খুঁজছেন তাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা-

    • ভালো জাতের মুরগী অবশ্যই নির্ধারণ করবেন।
    • মুরগী সাধারণত একটু নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ডিম দেয়। তাই প্রথমেই ডিম পাওয়ার আশায় বড় মুরগী কিনবেন না। ছোট বাচ্চা কিনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং পরিবেশ দিয়ে বড় করুন। এতে ডিমের সংখ্যাও বাড়বে।
    • মুরগী সম্পর্কে পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলে দক্ষ কারও সাথে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নিন।
    • মূলধন একেবারেই না থাকলে ব্যাংক কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে লোন নিয়ে কাজ শুরু করুন। আস্তে আস্তে ব্যবসা বৃদ্ধি করুন।
    • মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিমিত হারে ব্যবহার করুন।
    • নেটওয়ার্কিং এর চেষ্টা করুন। অর্থাৎ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কৌশলী যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের পরিধি বিস্তার করুন।

     

    কম খরচে কোন ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায় এমন কোনো উপায় যদি আপনি খুঁজে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে মুরগী পালন আপনার জন্য যথোপযুক্ত। শুধু একটু সময় এবং পরিশ্রম দিতে হবে সঠিকভাবে। 

     

  • ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব: কেন পোলট্রিতে ডিম উৎপাদন বেশি?

    ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব: কেন পোলট্রিতে ডিম উৎপাদন বেশি?

    স্বাস্থ্যকর ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব কতটা এবং কীভাবে এই ডিম উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনা করা যায় তা অনেক খামারিরাই সঠিকভাবে জানেন না।তাই এ বিষয়ে আলোচনা আবশ্যক। প্রোটিনের আধিক্যের কারণে ডিমকে ‘’সুপার ফুড” হিসেবে ধরা হয় তা আমরা সবাই জানি। তাছাড়াও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তো রয়েছেই। আর এমন স্বাস্থ্যকর ডিম উৎপাদনে পোলট্রির গুরুত্ব অবর্ণনীয়। এখন আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানব-

    ডিম উৎপাদনে পোলট্রির খাদ্য

    সাধারণত দেশী মুরগীর ডিম বেশি পুষ্টিকর ধরা হয়। তবে বিজ্ঞান বলে দেশী মুরগী এবং পোলট্রি মুরগীর ডিমে খুব বেশি পার্থক্য নেই। দেশী মুরগী ছাড়া অবস্থায় থাকার কারণে কেঁচোসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান খেয়ে থাকে যা পুষ্টিমান বাড়ায়।তবে, পোলট্রি খামারেও বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ খাবারও দেয়া হয়। যেমন খৈল, শামুকের গুঁড়া, গম, ভূষি, লবণ, শুঁটি মাছের গুড়া ইত্যাদি। 

    তাছাড়াও পোলট্রির মুরগীর ডিম দেশী মুরগীর তুলনায় বড়। তাই বলা যায়, পোলট্রি মুরগী থেকেও আপনি যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টি পেতে পারেন। একারণেই পোলট্রি ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত।

    ডিম উৎপাদনের পোলট্রির পরিবেশগত প্রভাব 

    পোলট্রি সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। তাছাড়াও পোলট্রি খামারে মুরগীর জন্য প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস, সঠিক তাপমাত্রা, সঠিক আর্দ্রতা, গুণসম্পন্ন খাদ্য এবং পানি ইত্যাদি বিষয় রক্ষা হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিটি মুরগীর জন্য নির্ধারিত বাসস্থান এবং ডিম পাড়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয় বলেই এই পরিবেশ মুরগীর ডিম পাড়ার জন্য সহযোগী।

    ডিম উৎপাদনে পোলট্রির স্বাস্থ্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ 

    পোলট্রি ফার্মে মুরগীর স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকা হয়। ঠিক সময় ভ্যাক্সিনেশন এর পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হয় যে সব মুরগীর স্বাস্থ্য ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত কিনা।

    তাছাড়া, সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে কোনো মুরগী অসুস্থ হলে তাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে ডিম পাড়ার হার এবং ডিমের গুণগত মান বৃদ্ধির চেষ্টা তো রয়েছেই। এতেই বোঝা যায়, স্বাস্থ্যকর ডিম উৎপাদনে পোলট্রি যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।

     

    পোলট্রি ডিম উৎপাদন কৌশল

    পোলট্রিতে ফার্মের ডিম উৎপাদন ব্যবস্থা হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো ডিম পাড়ার বাক্সে ডিম উৎপাদন। এক্ষেত্রে প্রতি ৪-৫ টি মুরগীর জন্য ১২*১২*১৪ (দৈর্ঘ্য* প্রস্থ* উচ্চতা) আয়তন বিশিষ্ট ডিম পাড়ার বাক্স রাখতে হবে। বাক্সগুলো মুরগীর ঘরের একদিকে যেখানে আলো পরিমাণ সামান্য কম সেখানে স্থাপন করতে হবে।

    এই ডিম পাড়ার বাক্স ব্যবহার করলে খামারে লাভের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। কেননা ডিম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং মুরগীর মলদ্বার ঠোকড়ানোর অভ্যাসটি থাকে না। 

    পোলট্রি খামারের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় 

    পোলট্রি খামারের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় 

     

    পোলট্রি ফার্মে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রথমে একটি বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে। আর তা হলো ডিম উৎপাদন কম হওয়ার কারণগুলো কী! কারণ এই কারণগুলো বুঝতে পারলেই ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় বের করা যাবে।

    তাহলে কী সেই কারণগুলো যা ডিম উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এক নজরে দেখে নেই সেগুলো-

    • মুরগীর বয়স
    • মুরগীর জাত
    • পুষ্টিকর খাদ্য
    • দিনের দৈর্ঘ্য
    • পীড়ন

    এবার এ সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব এবং একইসাথে সমাধান দেখে নিব।

    মুরগীর বয়স  

    পোলট্রি মুরগীগুলো সাধারণত ১৮-২০ সপ্তাহ বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে এবং ৭২ সপ্তাহ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। তবে ২৪-২৬ সপ্তাহ বয়সে সর্বোচ্চ ডিম পাড়ে। ৭২ সপ্তাহ বয়সে এই ডিমের পরিমাণ প্রায় ৭০% পর্যন্ত কমে আসে। 

    তাই আপনার মুরগীর বয়স সম্পর্কে জানতে হবে। বয়স বেশি হলে কোনো কিছু প্রয়োগেই ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব নয়।

    মুরগীর জাত

    বিভিন্ন ব্রিডার্স কোম্পানি অধিক উৎপাদনশীল জাতের মুরগী বাজারে নিয়ে এসেছে। তাই সর্বোচ্চ ভালো জাতটি ফার্মে আনার এবং তার জন্য কীরূপ পরিচর্যা দরকার তা নিশ্চিত করলে অধিক ডিম পাবার সম্ভাবনা থাকে। 

    পুষ্টিকর খাদ্য

    ডিম পাড়ার সময়ে একটি মুরগী গড়ে ১১০-১২০ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করে। এই খাদ্যে অবশ্যই ভিটামিন এবং খনিজ থাকতে হবে। বিশেষত ক্যালসিয়ামের অভাবে ডিম পাড়ার হার কমে যায়।

    সমাধান:মুরগী যাতে খাবার থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ঝিনুকচূর্ণ এবং লাইমস্টোন ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস।

    পীড়ন

    মুরগীর পীড়নের কারণগুলো প্রথমে জানা আবশ্যক। এগুলো হলো –

    • মুরগীর ঘরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা অতিরিক্ত কম বা বেশি। ২৫-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা তাদের জন্য আদর্শ।
    • মুরগীর ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা
    • ভ্যাক্সিনেশন, ঠোঁট কাটা বা ট্রিমিং 
    • পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা না থাকা
    • খাদ্যের গুণগত মানে সমস্যা
    • স্বাস্থ্যকর এবং পর্যাপ্ত পানি না থাকা 
    • ঘরে আলোর তীব্রতা অতিরিক্ত থাকলে

     

    সমাধান:

    যেসকল কারণে পীড়ন হয়ে থাকে এসকল বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে যেনো তা না হয়।

    দিনের দৈর্ঘ্য

    মুরগীর ডিম পাড়ার জন্য দিনে ১৪ ঘণ্টার বেশি আলো প্রয়োজন হয়। একারণে শীতকালে দিনের অংশ কম থাকায় মুরগী কম ডিম পাড়ে।

    সমাধান: 

    কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।

    পোলট্রিতে ডিম উৎপাদন একটি বেশ লাভজনক ব্যবসা। পাশাপাশি, এর বাজার চাহিদাও অনেক বেশি। একারণেই সঠিকভাবে পোলট্রি পরিচালনা অতি আবশ্যক। আর ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশলগুলো অবলম্বন করে এই লাভের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

    মুরগি পালনের সহজ উপায় সম্পর্কে পড়ুন

    FACEBOOK PAGE